দশমিনা (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি
দশমিনা
উপজেলায় আলোচিত ও সমালোচিত
নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইরতিজা হাসানকে
অবশেষে বদলি করা হয়েছে। গতকাল
সোমবার অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (সার্বিক) মোঃ আহসান হাবীবের
স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে এ
তথ্য জানানো হয়েছে।
তাকে পুনরায় বরগুনা জেলার তালতলী
উপজেলায় পরবর্তী কর্মস্থলে নির্বাহী অফিসার পদে রাখা
হয়েছে।
ইউএনও
ইরতিজা হাসানের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে দায়িত্বে অবহেলা,
সরকারি কাজে অনিয়ম,সাংবাদিক
ও এক শিক্ষক দম্পতিকে
লাঞ্ছিত,অফিস স্টাফের সাথে
দুর্ব্যবহার করার অভিযোগ ছিল
তার বিরুদ্ধে। এসব অভিযোগ
ঘিরে দশমিনায় তীব্র উত্তেজনা বিরাজ করছিল।
এর আগে, চলতি বছরের
মঙ্গলবার (১২ আগস্ট) বিকেলে
দশমিনা সরকারি মডেল মাধ্যমিক
বিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষক মো.
এহসানুল হক ও তার
স্ত্রী দশমিনা বিয়াম ল্যাবরেটরী
স্কুলের সিনিয়র শিক্ষক মাজেদা
বেগমকে নিজ অফিসে ডেকে
নিয়ে অশ্লীল ও অকথ্য
ভাষায় গালমন্দ করে লাঞ্চিত করেন
ইউএনও ইরতিজা হাসান।
বিষয়টি জানাজানি হলে রাতেই ওই
স্কুল দুইটির বর্তমান ও
সাবেক শিক্ষার্থীরা সোশ্যাল মিডিয়াতে ইউএনও'র বিরুদ্ধে
বিভিন্ন পোস্ট দিতে থাকেন। পরে গভীর
রাতে ওই শিক্ষক দম্পতির
বাসভবনে অফিসের কর্মচারী পাঠিয়ে
বিষয়টি সুরাহা করা হয়েছে
মর্মে তাদের বিবৃতি প্রদানের
ভিডিও ধারন করে তা
স্থানীয় ফেসবুক পেইজ দশমিনা
প্রতিদিনে প্রকাশ করা হয়।
ঘটনাটি
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে শিক্ষার্থী,
অভিভাবক, সুধীজনসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ ক্ষোভ
প্রকাশ করেন এবং বুধবার
সকাল ১১ টা থেকে
এসব কর্মসূচি পালন করেন।
পরে বুধবার সন্ধ্যায় দশমিনা
থানা-পুলিশের প্রটোকলে একটি তার তিনি জেলা প্রশাসনের
কাছ থেকে সাত দিনের
ছুটি নিয়ে তিনি কর্মস্থল
ত্যাগ করেছেন, এরই মধ্যে শিক্ষক
দম্পতিকে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়
নিয়ে ভুল বোঝাবুঝি বলে
ক্ষমা চান ইউএনও,
পরে ২১ আগস্ট বৃহস্পতিবার তিনি
কর্মস্থলে এসে পুনরায় অফিস
করেন।
পরে গতকাল রবিবার ইউএনও
ইরতিজা হাসানের বদলি খবরের সামাজিক
যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে আলহামদুলিল্লাহ
লিখে আনন্দ উল্লাস করেছেন
দশমিনার ছাত্র ও সাধারণ
জনগণ।
আকাশজমিন
/আরআর