স্টাফ রিপোর্টার
দেশের রাজনৈতিক মহলে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে শাপলা প্রতীক সংক্রান্ত এনসিপি ও নির্বাচন কমিশনের (ইসি) মধ্যে চলমান চিঠিপ্রেরণার ঘটনা। এনসিপির অভিযোগ, নির্বাচন কমিশন একটি নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করছে না এবং কোন না কোনভাবে বিএনপির দিকে ঝুঁকে পড়েছে।
দলীয় প্রতীক শাপলার বিষয়ে এনসিপি এবং নির্বাচন কমিশনের মধ্যে কয়েকদিন ধরে চিঠি চালাচালি হচ্ছে। এনসিপির শীর্ষ নেতারা নিয়মিত কমিশনে গিয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনারসহ সিনিয়র সচিবের সঙ্গে দেখা করছেন। তবে কমিশনের পক্ষ থেকে স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে যে, এনসিপিকে শাপলা প্রতীক দেওয়া হবে না।
এ বিষয়ে এনসিপির আইন সম্পাদক জহিরুল ইসলাম মুসা বলেন, “নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কারের জন্য যে কমিশন গঠন করা হয়েছিল, আমরা দেখছি নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকেই সেই সংস্কারের বিরোধিতা করা হচ্ছে। আনুষ্ঠানিক চিঠি দিয়েও এ বিষয়টি জানানো হয়েছে। এছাড়া আমরা লক্ষ্য করেছি যে কমিশন কোন না কোনভাবে বিএনপির দিকে ঝুঁকে পড়েছে।”
রাষ্ট্রবিজ্ঞানের অধ্যাপক ড. সাব্বীর আহমেদ বলেন, “নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তোলার সময় এখনো আসেনি। এনসিপির এই অভিযোগ রাজনৈতিক প্রচারণার অংশ হতে পারে, তবে তা নির্বাচন প্রক্রিয়ায় সরাসরি প্রভাব ফেলবে না।”
রাজনৈতিক বিশ্লেষক আসিফ মোহাম্মদ সাহান বলেন, “কমিশন থেকে সন্তোষজনক উত্তর না পাওয়ায় এনসিপি এই প্রশ্ন তুলেছে। তবে ভবিষ্যতে এই ধরনের পরিস্থিতি অন্য রাজনৈতিক দলগুলোকেও একই ধরনের প্রশ্ন তোলার সুযোগ দিতে পারে।”
বিশ্লেষকরা মনে করেন, বর্তমান অবস্থান সাময়িক হলেও রাজনৈতিক উত্তাপ তৈরি করতে সক্ষম। এনসিপি এবং নির্বাচন কমিশনের মধ্যকার এই বিতর্ক চলমান থাকায় রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা সর্তকভাবে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন।
এনসিপির অভিযোগের প্রেক্ষিতে নির্বাচন কমিশন বিষয়টি নিয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানায়নি। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা বলছেন, ভবিষ্যতে এই বিতর্ক নির্বাচনী প্রক্রিয়া ও রাজনৈতিক সমীকরণে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।
এদিকে, রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, নির্বাচন কমিশন ও রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে এই ধরনের সংঘাত স্বাভাবিক। তবে এটি জনগণের ভোটের প্রতি আস্থা বা নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতার ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।
এই বিতর্কে এনসিপি ছাড়াও অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলো সতর্কভাবে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা আশা করছেন, কমিশন উভয় পক্ষের অভিযোগ ও দাবির মধ্যে সমন্বয় ঘটিয়ে পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখবে।
আকাশজমিন / আরআর