ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ডেঙ্গুতে আরও ৬ প্রাণহানি, এক দিনে হাসপাতালে ১৫৬১ জন ভর্তি গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা জোরদার করতে হবে: রাষ্ট্রপতি আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে ১১ হাজার কোটি টাকা পাচারের অভিযোগ: দুদক ‘বারবার মিথ্যা মামলা না দিয়ে আমাকে একবারে গুলি করে মেরে ফেলেন’ ২১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্র সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশে নতুন গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধানে বিনিয়োগে আগ্রহী মার্কিন কোম্পানি শেভরন পাবনায় ডিবির ওসির প্রত্যাহারে সাংবাদিকদের ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় শক্তিশালী স্থানীয় সরকারের বিকল্প নেই: ড. আবদুল মঈন খান স্থানীয় সরকার নির্বাচনে শিক্ষাগত যোগ্যতার বাধ্যবাধকতা নেই: মীর শাহে আলম দুপুরের মধ্যেই বিদ্যুৎ পাচ্ছে বাংলাদেশ: কমবে লোডশেডিং

খতিব মোহেববুল্লাহ শিকল লাগিয়ে নিজেই অপহরণের নাটক সাজান: পুলিশ


পঞ্চগড়ে উদ্ধার গাজীপুরের খতিব মুফতি মোহাম্মদ মোহেববুল্লাহ মিয়াজীর অপহরণ মামলা নিয়ে সংবাদ সম্মেলন করে পুলিশ। মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের সদর দপ্তরে

  • আপলোড সময় : মঙ্গলবার ২৮ অক্টোবর, ২০২৫ সময় : ৪:২৯ পিএম

গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ বুধবার (২৮ অক্টোবর) সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছে, পঞ্চগড়ে উদ্ধার হওয়া খতিব মুফতি মোহাম্মদ মোহেববুল্লাহ মিয়াজী (৬০) নিজেই শিকল লাগিয়ে অপহরণের নাটক সাজিয়েছিলেন। মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশন) মোহাম্মদ তাহেরুল হক চৌহান এই তথ্য নিশ্চিত করেন।


প্রেস ব্রিফিংয়ে মোহাম্মদ তাহেরুল হক চৌহান জানান, মামলায় বাদী হিসেবে যে বিবরণ দেওয়া হয়েছে, পুলিশ সিসিটিভি ফুটেজ ও অন্যান্য প্রমাণাদি যাচাই করে তাতে অপহরণের কোনো সূলভতার প্রমাণ পায়নি। তিনি বলেন, “এজাহারে উল্লিখিত সময় ও স্থানে ওই এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করা হয়েছে; অপহরণের প্রমাণ পাওয়া যায়নি। পর্যালোচনায় দেখা গেছে, তিনি নিজেই পায়ে শিকল লাগিয়ে রাস্তার পাশে শুয়ে ছিলেন। পরে হাসপাতালে গেলে তিনি বিভ্রান্ত বক্তব্য দিয়েছেন। রিপোর্ট ও ফুটেজ অনুযায়ী ঘটনার বর্ণনা সাজানো বলে মনে হচ্ছে।”


মুফতি মোহেববুল্লাহ টঙ্গীর টিঅ্যান্ডটি কলোনি জামে মসজিদের খতিব। তিনি ২৪ অক্টোবর টঙ্গী পূর্ব থানায় একটি মামলা করেন; এজাহারে উল্লেখ ছিল, ২২ অক্টোবর সকালে তিনি হাঁটতে বের হলে একটি অ্যাম্বুলেন্স পথরোধ করে তাকে জোরপূর্বক অপহরণ করে। অভিযোগে বলা হয়, চোখ বেঁধে শারীরিক নির্যাতন করা হয় এবং পরে লোকজনের সহযোগিতায় তিনি উদ্ধার হন।


পুলিশ জানায়, মামলার তদন্তকারীরা বাদীর বাসা থেকে ঘটনাস্থল পর্যন্ত সিসি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করেছেন ও তৎকালীন সময়ের রেকর্ড বিশ্লেষণ করেছেন। তদন্তে দেখা যায়, ২২ অক্টোবর রাত সাড়ে ১১টা থেকে ১২টার সময় মোহেববুল্লাহ পঞ্চগড় জেলা বাসস্টেশন থেকে পথ হাঁটছিলেন। ফুটেজে তিনি জেলা প্রশাসক কার্যালয় ও পুলিশ লাইন এলাকায় হেঁটে যাওয়া দেখা যায়। কিছুদূর এগিয়ে তিনি অন্ধকার একটি স্থানে যান এবং সেখানে প্রস্রাবের জন্য নিজের পোশাক খুলে ফেলেন; পরে রাস্তার পাশে কুড়িয়ে পাওয়া ছোট তালা যুক্ত শিকলটি পায়ে জড়িয়ে তিনি শুয়ে পড়েন। এরপরই স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেয়। পুলিশের বক্তব্য অনুযায়ী, তিনি হাসপাতালে বিক্ষিপ্ত ও অবচেতন মনে বিভিন্ন কথা বলেছিলেন।


সংবাদ সম্মেলনে আরও বলা হয়, মুফতির পক্ষ থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত ভিডিও বর্ণনার সঙ্গে সিসি ফুটেজের মিল নেই। মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার (ভারপ্রাপ্ত) মোহাম্মদ জাহিদুল হাসান সংবাদ সম্মেলনে বলেন, “মামলাটি তদন্তাধীন। বাদীর কথার প্রামাণ্যতা যাচাই করা হচ্ছে। অন্য কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী জড়িত আছে কি না, কিংবা কারও প্ররোচনায় তিনি এমনটি করেছেন কি না—এসব বিষয় খতিয়ে দেখা হবে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”


প্রসঙ্গত, ব্যাপকভাবে নজরে আসার পর পঞ্চগড়ে লোকজন মুফতিকে শিকলবাঁধা অবস্থায় উদ্ধার করার খবর ছড়ায় এবং তা নিয়ে প্রতিবাদের খবর প্রকাশ পায়। বিষয়টি পুলিশি তদন্তে থাকায় প্রশাসন এবং তদন্তকারীরা ঘটনার সব দিক খতিয়ে দেখছেন।

আকাশজমিন / আরআর 



এ সম্পর্কিত আরো খবর