ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ডেঙ্গুতে আরও ৬ প্রাণহানি, এক দিনে হাসপাতালে ১৫৬১ জন ভর্তি গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা জোরদার করতে হবে: রাষ্ট্রপতি আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে ১১ হাজার কোটি টাকা পাচারের অভিযোগ: দুদক ‘বারবার মিথ্যা মামলা না দিয়ে আমাকে একবারে গুলি করে মেরে ফেলেন’ ২১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্র সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশে নতুন গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধানে বিনিয়োগে আগ্রহী মার্কিন কোম্পানি শেভরন পাবনায় ডিবির ওসির প্রত্যাহারে সাংবাদিকদের ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় শক্তিশালী স্থানীয় সরকারের বিকল্প নেই: ড. আবদুল মঈন খান স্থানীয় সরকার নির্বাচনে শিক্ষাগত যোগ্যতার বাধ্যবাধকতা নেই: মীর শাহে আলম দুপুরের মধ্যেই বিদ্যুৎ পাচ্ছে বাংলাদেশ: কমবে লোডশেডিং

সিরাজগঞ্জে প্রধান শিক্ষকের অভাবে ১৫৯ প্রাথমিক বিদ্যালয় স্থবির


  • আপলোড সময় : বুধবার ২৯ অক্টোবর, ২০২৫ সময় : ৮:৩৯ পিএম

সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলায় ২৭৮টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে অর্ধেকেরও বেশি বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষকের শূন্যপদ সমস্যায় ভুগছে। উপজেলার মোট ১৫৯টি স্কুলে এখন প্রধান শিক্ষক নেই, যার ফলে শিক্ষা কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা উদ্বিগ্ন যে প্রশাসনিক স্থবিরতার কারণে শিশুদের মৌলিক শিক্ষার মানও হুমকির মুখে পড়েছে।

উল্লাপাড়া উপজেলা শিক্ষা অফিসের সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে পদোন্নতি ও নতুন নিয়োগ বন্ধ থাকায় এই সংকট তৈরি হয়েছে। অনেক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষকরাই ভারপ্রাপ্ত হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তবে তাদের ওপর পাঠদানের পাশাপাশি প্রশাসনিক কাজের অতিরিক্ত চাপ থাকায় ক্লাসে শিক্ষার্থীদের পর্যাপ্ত সময় দিতে পারছেন না।

পূর্বদেলুয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একজন সহকারী শিক্ষক জানান, “প্রধান শিক্ষক না থাকায় প্রশাসনিক দায়িত্ব সামলাতে গিয়ে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সময় কাটানো কমে যাচ্ছে। শিক্ষার মান বজায় রাখা এখন চ্যালেঞ্জের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।”

শিক্ষাবিদ ও অভিভাবকরা আশঙ্কা প্রকাশ করছেন, যদি শূন্যপদ পূরণের উদ্যোগ নেওয়া না হয়, তাহলে উপজেলার প্রাথমিক শিক্ষার মান আরও নিচে নেমে যাবে। অভিভাবকরা জানাচ্ছেন, অনেক ক্লাসে পাঠদানের সময় কমে যাওয়ায় শিশুরা পড়াশোনায় পিছিয়ে যাচ্ছে।

উল্লাপাড়া উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. ছানোয়ার হোসেন বলেন, “এই বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। নতুন নিয়োগ প্রক্রিয়া ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে। আশা করছি, শীঘ্রই শূন্যপদগুলো পূরণ হবে এবং শিক্ষা কার্যক্রম স্বাভাবিক হবে।”

উল্লাপাড়া উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রশাসনিক পদে অভাব থাকায় বিদ্যালয় পরিচালনায় সহকারী শিক্ষকরা বিশেষ চাপের মধ্যে রয়েছেন। ক্লাস নেওয়া, পাঠ পরিকল্পনা করা, পরীক্ষার আয়োজন, অভিভাবক বৈঠক এবং পাঠ্যক্রম মূল্যায়নের কাজ সবই তাদের ওপর নির্ভর করছে। ফলে শিক্ষার্থীরা পর্যাপ্ত শিক্ষালাভ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

শিক্ষাবিদরা বলছেন, প্রধান শিক্ষকের অভাব শুধু প্রশাসনিক সমস্যা নয়, এটি শিক্ষার মানের জন্যও বড় হুমকি। প্রধান শিক্ষক বিদ্যালয়ের নীতি-নির্ধারণ, শিক্ষক দলের নেতৃত্ব এবং শিক্ষার্থীদের মনোযোগ ধরে রাখার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তাদের অনুপস্থিতিতে বিদ্যালয় প্রশাসনিক স্থবিরতার শিকার হয় এবং শিক্ষার পরিবেশও প্রভাবিত হয়।

অভিভাবকরা জানাচ্ছেন, “আমাদের সন্তানদের মানসম্মত শিক্ষা প্রয়োজন। প্রধান শিক্ষক ছাড়া সহকারী শিক্ষকরা ক্লাস পরিচালনা করছেন, তবে তাদের শিক্ষাদানের সময় ও মনোযোগ সীমিত। আমাদের আশা, দ্রুত পদ পূরণ করা হবে।”

উল্লাপাড়া উপজেলা শিক্ষা অফিসের একটি সূত্র জানায়, নতুন নিয়োগ প্রক্রিয়া শেষ হতে কয়েক মাস লাগতে পারে। তবে বিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ প্রশাসনিক ব্যবস্থা শক্তিশালী করা হচ্ছে। সহকারী শিক্ষকরা ইতিমধ্যেই অতিরিক্ত প্রশিক্ষণ ও সহায়তা পেতে শুরু করেছেন যাতে শিক্ষার মান কিছুটা হলেও বজায় থাকে।

শিক্ষাবিদরা বলছেন, প্রধান শিক্ষক ছাড়াই বিদ্যালয় পরিচালনা করা শিশুদের শিক্ষার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। তারা আরও বলেছেন, “প্রধান শিক্ষক না থাকলে শিক্ষার্থীদের মানসম্মত শিক্ষা, পরীক্ষার সময়সূচি এবং পাঠ্যক্রমের বাস্তবায়ন প্রভাবিত হয়। এছাড়া বিদ্যালয়ের আচরণগত নীতি, শৃঙ্খলা এবং শিশুদের মনোভাব গঠনে নেতিবাচক প্রভাব পড়ে।”

উল্লাপাড়া উপজেলার বিভিন্ন এলাকার অভিভাবকরা বলেন, বিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষার মান অবনতি হওয়ায় শিশুরা পড়াশোনায় পিছিয়ে যাচ্ছে। তারা দাবি করছেন, দ্রুত পদ পূরণ এবং শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করা হোক।

শিক্ষা বিশেষজ্ঞরা আরও পরামর্শ দিয়েছেন, শুধুমাত্র নতুন নিয়োগের পাশাপাশি বিদ্যমান সহকারী শিক্ষকদের জন্য প্রশিক্ষণ ও সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। এতে তাদের প্রশাসনিক কাজের চাপ হ্রাস পাবে এবং শিক্ষার্থীদের পাঠদানে মনোযোগ বাড়ানো সম্ভব হবে।

উল্লাপাড়া উপজেলা শিক্ষা অফিস জানিয়েছে, আগামী কয়েক মাসের মধ্যে প্রধান শিক্ষকের শূন্যপদ পূরণের উদ্যোগ নেওয়া হবে। এছাড়া বিদ্যালয় পর্যায়ে শিক্ষার মান উন্নয়নের জন্য বিশেষ কার্যক্রম গ্রহণ করা হচ্ছে।

শিক্ষাবিদরা আশা প্রকাশ করেছেন, প্রধান শিক্ষক পদ পূরণ হলে বিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষার মান বৃদ্ধি পাবে এবং শিক্ষার্থীরা তাদের শিক্ষা অধিকার পূর্ণভাবে উপভোগ করতে পারবে।

উল্লাপাড়া উপজেলার শিক্ষার এই সংকট স্থানীয় সরকার এবং শিক্ষা বিভাগে নতুন উদ্যোগ গ্রহণের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

আকাশজমিন / আরআর 


এ সম্পর্কিত আরো খবর