ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
শত কোটি টাকার সম্পদ, রিট ফাইল চেপে রাখা ও প্রশাসনের নীরবতার অভিযোগ রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়ন ও চাঁদাবাজি কঠোর হাতে দমন করা হবে: আইনমন্ত্রী ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের নতুন অধ্যায় চায় বাংলাদেশ: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ডেঙ্গুতে আরও ৬ প্রাণহানি, এক দিনে হাসপাতালে ১৫৬১ জন ভর্তি গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা জোরদার করতে হবে: রাষ্ট্রপতি আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে ১১ হাজার কোটি টাকা পাচারের অভিযোগ: দুদক ‘বারবার মিথ্যা মামলা না দিয়ে আমাকে একবারে গুলি করে মেরে ফেলেন’ ২১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্র সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশে নতুন গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধানে বিনিয়োগে আগ্রহী মার্কিন কোম্পানি শেভরন পাবনায় ডিবির ওসির প্রত্যাহারে সাংবাদিকদের ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম

গাজীপুরে স্ত্রীকে হত্যা করে স্বামীর আত্মহত্যার চেষ্টা


  • আপলোড সময় : শনিবার ১৫ নভেম্বর, ২০২৫ সময় : ৩:৪৭ পিএম

গাজীপুরের কোনাবাড়ী নওয়াব আলী মার্কেট এলাকার একটি আবাসিক ভবনে স্ত্রীকে গলা কেটে হত্যা করার পর স্বামী নিজেও আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। শনিবার (১৫ নভেম্বর) সকালে একটি ফ্ল্যাট থেকে গৃহবধূ রহিমা খাতুন (৩৫)–এর গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করা হয় এবং পাশে স্বামী এমরান হোসেন (৪০)–কে গুরুতর আহত অবস্থায় পাওয়া যায়। তাৎক্ষণিকভাবে তাকে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট থানার আমতলা গ্রামের সুরুজ আলীর ছেলে এমরান হোসেন দীর্ঘদিন ধরে স্ত্রী রহিমা ও মেয়ে শারমিনকে নিয়ে কোনাবাড়ীর একতা ভিলার পঞ্চম তলায় ভাড়া থাকতেন। পারিবারিক কলহই এই হত্যাকাণ্ডের কারণ বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ।

শনিবার সকালে এমরান ও রহিমার মধ্যে তীব্র বিরোধের এক পর্যায়ে এমরান ঘরে থাকা ধারালো দা দিয়ে প্রথমে স্ত্রীকে জবাই করেন। এ সময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন তাদের ১৬ বছর বয়সী মেয়ে শারমিন। তিনি জানান, আকস্মিকভাবে বাবা মাকে আক্রমণ করলে তিনি চিৎকার শুরু করেন, পরে বাড়ির অন্যান্য ভাড়াটেদের মাধ্যমে বিষয়টি জানাজানি হয়। ঘটনার পর এমরান একই দা দিয়ে নিজের গলায় আঘাত করেন এবং মাটিতে লুটিয়ে পড়েন।

খবর পেয়ে পুলিশ এসে প্রথমে রহিমার মরদেহ উদ্ধার করে। কিছুক্ষণ পর তল্লাশির সময় দেখা যায়, পাশেই পড়ে থাকা এমরানের এখনো পালস আছে। পুলিশ দ্রুত তাকে হাসপাতালে পাঠায়। স্থানীয়রা জানান, পরিবারটি শান্ত স্বভাবের ছিল, তবে স্বামী-স্ত্রীর মাঝে মাঝে মনোমালিন্যের কথা জানা যেত।

ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। অনেকেই এমন নৃশংস ঘটনায় হতবাক হয়ে পড়েছেন। পুলিশ বলছে, এ ধরনের পারিবারিক সহিংসতা প্রতিরোধে সচেতনতা বাড়ানো জরুরি।

কোনাবাড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সালাউদ্দিন বলেন, “আমরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে রহিমার মরদেহ উদ্ধার করেছি। কিছুক্ষণ পর স্বামী এমরানের পালস টের পেয়ে তাকে হাসপাতালে পাঠানো হয়। ঘটনাটি হত্যার পর আত্মহত্যার চেষ্টা হতে পারে বলে ধারণা করছি। পুরো বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে এবং আইনগত প্রক্রিয়া চলমান।”

ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে বলে জানান তিনি। পুলিশ আরও জানায়, মেয়েটির নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে এবং তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।

এদিকে পারিবারিক এই মর্মান্তিক ঘটনার পর পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয় বাসিন্দারা দোষী ব্যক্তির যথাযথ শাস্তির দাবি জানিয়েছেন এবং পারিবারিক কলহ নিরসনে সবার সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান।

আকাশজমিন / আরআর 


এ সম্পর্কিত আরো খবর