অনলাইন রিপোর্টার
জুলাই গণহত্যার দায়ে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামালের বিরুদ্ধে ফাঁসির দণ্ড কার্যকরের নির্দেশ দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। সোমবার (১৭ নভেম্বর) দুপুরে বিচারপতি মো. গোলাম মর্তুজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল এ রায় ঘোষণা করেন।
রায় ঘোষণার পরপরই ট্রাইব্যুনালের সামনে হাজারো মানুষের ভিড় দেখা যায়। রায়ের খবর ছড়িয়ে পড়তেই সাধারণ মানুষের মধ্যে উচ্ছ্বাস ছড়িয়ে পড়ে। অনেকেই হাত উঁচিয়ে স্লোগান দিতে শুরু করেন। বিশেষ করে ‘এ মুহূর্তে খবর এলো, শেখ হাসিনার ফাঁসি হলো’ এবং ‘দড়ি লাগলে দড়ি নে, শেখ হাসিনার ফাঁসি দে’—এ ধরনের স্লোগান এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে মুহূর্তেই। উপস্থিত জনতার মধ্যে অনেকে এটিকে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ন্যায়বিচারের বিজয়’ হিসেবে আখ্যা দেন।
আইন-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে ট্রাইব্যুনাল চত্বরজুড়ে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর বিপুল সংখ্যক সদস্য মোতায়েন করা হয়। রায় ঘোষণার আগে থেকেই পুরো এলাকা ঘিরে রাখা ছিল এবং প্রবেশপথে কড়া তল্লাশি চালানো হয়। রায় ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গেই অতিরিক্ত পুলিশ, র্যাব এবং গোয়েন্দা বাহিনীর সদস্যদের অবস্থান আরও জোরদার করা হয়।
এদিকে রায় ঘোষণার প্রতিক্রিয়ায় আইনজীবীদের একাংশ বলেন, দীর্ঘদিন পর রাষ্ট্র ও জনগণ ন্যায়বিচার পেল। জুলাই গণহত্যায় নিহতদের পরিবার ও আহতদের দাবির সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করেও অনেকেই সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তারা মনে করেন, এই রায় ভবিষ্যতে মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার প্রক্রিয়ায় নতুন মানদণ্ড সৃষ্টি করবে।
রায়ের কপি দেখতে ও বিস্তারিত জানতে সাধারণ মানুষও ভিড় করতে শুরু করেন। কেউ কেউ মোবাইলে লাইভ ভিডিও প্রচার করেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে রায়ের খবর। মুহূর্তেই তৈরি হয় আলোচনা, সমর্থন ও প্রতিক্রিয়ার ঢল।
রায় ঘোষণার আগে থেকেই ট্রাইব্যুনালের আশপাশে টানটান উত্তেজনা বিরাজ করছিল। সাধারণ মানুষ ছাড়াও বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের নেতাকর্মীরাও অবস্থান নেন। রায় ঘোষণার মুহূর্তে আদালত চত্বর নিস্তব্ধ থাকলেও রায় শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পুরো এলাকা উল্লাসে ভরে ওঠে।
মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খাঁন কামালের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ যে অভিযোগগুলো উত্থাপন করেছিল, আদালত সেগুলোর বেশিরভাগই প্রমাণিত হয়েছে বলে রায়ে উল্লেখ করা হয়। আদালত তাদের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ শাস্তি ‘ফাঁসি’ কার্যকরের নির্দেশ দেন।
রায়ের পর পুলিশের একাধিক কর্মকর্তা জানান, নিরাপত্তা ঝুঁকি বিবেচনায় পুরো এলাকা নিয়ন্ত্রণে রাখা হয়েছে। যদিও জনতার উল্লাস চলেছে, তবুও পরিস্থিতি যাতে নিয়ন্ত্রণের বাইরে না যায় সে বিষয়ে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী সতর্ক রয়েছে।
এদিকে রাজনৈতিক অঙ্গনেও রায়টিকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা বিরাজ করছে। বিভিন্ন মহল ভিন্ন ভিন্ন প্রতিক্রিয়া জানালেও অধিকাংশই এ রায়কে ‘জুলাই গণহত্যার ন্যায়বিচারের স্বীকৃতি’ হিসেবে মূল্যায়ন করেছে।
আকাশজমিন / আরআর