দেশজুড়ে ডেঙ্গু পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে আরও ৩ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদফতর। এ নিয়ে চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে সোমবার (১৭ নভেম্বর) পর্যন্ত মোট ৩৩৯ জন ডেঙ্গুতে প্রাণ হারালেন। একই সময়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন নতুন আরও ১ হাজার ৭ জন রোগী। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দীর্ঘমেয়াদি বৃষ্টিপাত, অপর্যাপ্ত মশক নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা ও জনসচেতনতাহীনতার কারণে ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব ভয়াবহ আকার ধারণ করছে।
স্বাস্থ্য অধিদফতরের ডেঙ্গু-বিষয়ক প্রতিবেদন অনুযায়ী, রবিবার (১৬ নভেম্বর) সকাল ৮টা থেকে সোমবার (১৭ নভেম্বর) সকাল ৮টা পর্যন্ত ভর্তি হওয়া রোগীদের বেশিরভাগই রাজধানী ঢাকা এবং বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের। তবে দেশের প্রতিটি বিভাগেই নতুন রোগী শনাক্ত হয়েছে। আক্রান্তদের মধ্যে বরিশাল বিভাগে ১৫০ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ১৩৫ জন এবং ঢাকা বিভাগে ২৫৪ জন ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন এলাকায় ১৯১ জন এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটিতে ১৪২ জন রোগী হাসপাতালে গেছেন। খুলনা বিভাগে ২৫ জন, ময়মনসিংহ বিভাগে ৬১ জন, রাজশাহীতে ৪১ জন, রংপুরে পাঁচজন এবং সিলেটে তিন জন নতুন রোগী শনাক্ত হয়েছে।
গত ২৪ ঘণ্টায় মারা যাওয়া তিন জনের মধ্যে দুই জন ঢাকার এবং একজন ময়মনসিংহ বিভাগের বাসিন্দা বলে জানা গেছে। মৃত্যুহার বাড়ায় জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন, শীতের শুরুতে ডেঙ্গুর ধরন পরিবর্তন হওয়ায় রোগের জটিলতা বাড়তে পারে। অনেক রোগী দেরিতে হাসপাতালে আসছেন, যা মৃত্যুর ঝুঁকি বাড়াচ্ছে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।
স্বাস্থ্য অধিদফতর আরও জানিয়েছে, গত এক দিনে ১ হাজার ১৭০ জন ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসা শেষে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন। চলতি বছর এখন পর্যন্ত মোট ৮৬ হাজার ৪ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন এবং এর মধ্যে ছাড়পত্র পেয়েছেন ৮২ হাজার ৬১২ জন।
এদিকে হাসপাতালে রোগীর চাপ বাড়তে থাকায় চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীরা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগীদের জন্য অতিরিক্ত বেড যুক্ত করা হলেও তা পর্যাপ্ত নয় বলে অভিযোগ উঠছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এডিস মশার বংশবিস্তারের উপযোগী পরিবেশ বহাল থাকায় আগামী কয়েক সপ্তাহ পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে সিটি করপোরেশনসহ সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থাগুলোকে আরও সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। একই সঙ্গে ঘর-বাড়ির চারপাশে জমে থাকা পরিষ্কার পানি, ছাদে বা বারান্দায় ব্যবহৃত পাত্র, ফুলের টবসহ যেকোনো পানির উৎস পরিষ্কার রাখার পরামর্শ দিয়েছেন। নাগরিকদের সচেতনতা বাড়ানো ছাড়া ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয় বলেও মত দিয়েছেন তারা।
আকাশজমিন / আরআর