গাজীপুরের বাঘেরবাজার এলাকায় একটি কয়েল কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে ফায়ার সার্ভিসের ৯টি ইউনিট। বুধবার (১৯ নভেম্বর) দুপুর ১টার দিকে সদর উপজেলার বাঘেরবাজার এলাকায় অবস্থিত স্ট্যান্ডার্ড ফিনিক্স কয়েল কারখানায় আগুন লাগে। কারখানায় আগুন ছড়িয়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে এলাকাজুড়ে চরম আতঙ্ক দেখা দেয় এবং আশপাশের মানুষ দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরে যান।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্র জানায়, দুপুরের দিকে হঠাৎ করেই কারখানার ভেতরে ধোঁয়া ও আগুনের তীব্রতা দেখা যায়। কয়েক মিনিটের মধ্যেই আগুন বড় আকার ধারণ করে। কারখানার বিভিন্ন কক্ষ ও সংরক্ষণাগার থেকে ধোঁয়া বের হতে থাকে। আগুনের তীব্রতা বাড়ায় স্থানীয়রা দ্রুত ফায়ার সার্ভিসে খবর দেন। খবর পেয়ে জয়দেবপুর ফায়ার সার্ভিসের ৯টি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা চালাচ্ছে। ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা পানি এবং ফোম ব্যবহার করে আগুন যাতে পাশের স্থাপনায় ছড়িয়ে না পড়ে সেদিকে সর্বোচ্চ সতর্কতা নিয়ে কাজ করছে।
এদিকে কারখানার মালিকপক্ষ এখনো অগ্নিকাণ্ডের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য দেয়নি। তবে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, কারখানার যন্ত্রপাতিতে বৈদ্যুতিক ত্রুটি অথবা সংরক্ষিত তেল ও কেমিক্যালের কারণে আগুনের সূত্রপাত হতে পারে। আগুনে কারখানার ভেতরের বিভিন্ন কাঁচামাল, উৎপাদন সামগ্রী ও যন্ত্রপাতি ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসতে আরও সময় লাগতে পারে। তারা জানিয়েছেন, কারখানার ভেতরে দাহ্য পদার্থের পরিমাণ বেশি হওয়ায় আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছে। ঘটনাস্থলে প্রচণ্ড তাপ ও ঘন ধোঁয়ার কারণে কাজ করতে কিছুটা বেগ পেতে হচ্ছে। তবুও আগুন যাতে আরও বিস্তৃত না হয় সে বিষয়ে তারা সর্বোচ্চ সতর্কতা নিয়ে কাজ করছেন। আশপাশের মানুষদেরও নিরাপদ স্থানে অবস্থান করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
রাজেন্দ্রপুর মডেল ফায়ার সার্ভিসের ডিউটি অফিসার রবিউল ইসলাম বলেন, উপপরিচালকের নির্দেশনায় নিরাপদ দূরত্ব বজায় রেখে আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চলছে। তিনি বলেন, “আগুনের তীব্রতা কমানোর পাশাপাশি কারখানার ভেতরে কেউ আটকে আছে কিনা—সেটাও নিশ্চিত করার চেষ্টা চলছে।”
ফায়ার সার্ভিসের ইনচার্জ নুর আলম বলেন, “আমি নিজে ঘটনাস্থলে উপস্থিত আছি। আগুন নেভানোর কাজ চলছে।” তিনি আরও জানান, এখন পর্যন্ত কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে এলে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ করা হবে।
ঘটনার পর কারখানা এলাকায় বিপুলসংখ্যক লোকজন ভিড় করেন। ধোঁয়ায় আকাশ ঢেকে যাওয়ায় এলাকায় আতঙ্ক ও বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি দেখা দেয়। ফায়ার সার্ভিস পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে এবং স্থানীয়দের জায়গা থেকে দূরে থাকার জন্য বারবার সতর্ক করা হচ্ছে। আগুন নিয়ন্ত্রণে আসার পর তদন্ত করে অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ জানা যাবে।