ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬,  ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
জাপানের ব্যবসায়ীদের বাংলাদেশে বড় বিনিয়োগের উদাত্ত আহ্বান তারেক রহমানের বাউফলে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে শ্রেণিকক্ষে কিন্ডারগার্টেন ও দুর্নীতির অভিযোগ ঠাকুরগাঁও উপনির্বাচন ঘিরে কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা নিশ্চিত করেছে ইসি ইসরায়েলে নির্বাচন: ৬০ শতাংশ ভোট গণনা শেষ, এগিয়ে নেতানিয়াহুর দল খাদ্যে পুষ্টি উপাদান যুক্ত করতে দ্রুত আইন প্রণয়নের তাগিদ প্রতিমন্ত্রীর ক্রসফায়ার মন্তব্যে কোণঠাসা আইজিপি, আলোচনায় ব্যারিস্টার মো. জিল্লুর রহমান রংপুরে দাঁড়িয়ে থাকা ডাম্প ট্রাকে বাসের ধাক্কা, নিহত বেড়ে ৪ নিয়মিত হাত ধোয়ার অভ্যাসই গড়বে সুস্থ প্রজন্ম: মীর শাহে আলম নাটোরে প্রবাসীর শপিং মলে হামলা ও লুটপাট, ৫ কোটি টাকার ক্ষতি জনগণের ভোটাধিকার কেড়ে নিতে চায় না বিএনপি সরকার: প্রতিমন্ত্রী

বগুড়ায় ভয়াবহ আগুনে ৪ পরিবারের সর্বস্ব পুড়ে ছাই


  • আপলোড সময় : বৃহস্পতিবার ২০ নভেম্বর, ২০২৫ সময় : ৯:৪৭ পিএম

বগুড়ার ধুনট উপজেলার মথুরাপুর ইউনিয়নের কাশিয়াহাটা গ্রামের উত্তরপাড়ায় বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে লাগা ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে মুহূর্তের মধ্যেই চার পরিবারের ঘর-বাড়ি পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। বৃহস্পতিবার (২০ নভেম্বর) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে হঠাৎ আগুন ছড়িয়ে পড়লে পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। অসহায়ভাবে চোখের সামনে নিজেদের জীবনভর গড়ে তোলা সবকিছু ধ্বংস হতে দেখেছেন চার পরিবারের মানুষরা।

ক্ষতিগ্রস্ত চারটি পরিবারই মৃত আবুল হোসেন সরকারের সন্তান—ছেলে শহিদুল ইসলাম, মাসুদ রানা, সুইট রানা এবং তাদের একমাত্র বোন রিনা পারভিন। তারা আলাদা আলাদা ঘরে থাকতেন। কিন্তু আগুনের ভয়াবহতার মুখে চারটি ঘরের একটি কাঠামোও দাঁড়িয়ে থাকতে পারেনি। পুরো ঘরবাড়ি, আসবাবপত্র, গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র, স্বর্ণালঙ্কার, পোশাক, বৈদ্যুতিক সামগ্রীসহ সবকিছুই মুহূর্তে ভস্মীভূত হয়ে যায়।

পরিবারগুলোর দাবি, আগুনে প্রায় ২ লাখ টাকার বেশি নগদ অর্থ, দুটি ফ্রিজ, টিভি, আলমারি, বিছানাপত্রসহ ঘরের সব প্রয়োজনীয় আসবাবপত্র পুরোপুরি নষ্ট হয়েছে। সুইট রানা জানান, ব্যবসা শুরু করার জন্য তিনি সম্প্রতি জমি বিক্রির কিছু টাকা হাতে পেয়েছিলেন। পরদিন ঢাকায় যাওয়ার কথা ছিল। কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, “সবকিছু নতুনভাবে শুরু করব ভেবেছিলাম। কিন্তু একটি মুহূর্তে সব পুড়ে শেষ হয়ে গেল। এখন হাতেও কিছু নেই, মনের শক্তিটুকুও শেষ।”

রিনা পারভিনের ঘর থেকেও এক লাখ টাকার বেশি নগদ অর্থ ও জমিতে ঘর নির্মাণের জন্য সংরক্ষিত নির্মাণসামগ্রী এক নিমিষে ধ্বংস হয়ে যায়। আগুনের তীব্রতা এত বেশি ছিল যে কেউ ঘর থেকে কোনো কিছু বের করার সুযোগ পাননি।

এই ভয়াবহ ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী স্থানীয় শিক্ষক নুরুল আমিন ও ওমর ফারুক বলেন, “ফায়ার সার্ভিস একটু আগে আসতে পারলে ক্ষতির পরিমাণ অনেক কম হতো। আগুনের গতি এতটাই ভয়ানক ছিল যে চোখের সামনে সবকিছু ধ্বংস হয়ে যেতে দেখেও কেউ কিছু করতে পারেনি।”

খবর পেয়ে ধুনট ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। তবে ঘটনাস্থলটি ১৫-১৬ কিলোমিটার দূরে হওয়ায় তাদের আসতে সময় লেগেছে। ভারপ্রাপ্ত স্টেশন অফিসার মাসুদ রানা বলেন, “আমরা গিয়ে আগুনের বিস্তার রোধ করি। কিন্তু তার আগেই চার পরিবারের সম্পূর্ণ ঘরবাড়ি পুড়ে গেছে। সৌভাগ্যবশত কোনো প্রাণহানি ঘটেনি।”

অগ্নিকাণ্ডে সব হারানো মাসুদ রানা বলেন, “আমার চোখের সামনে সব শেষ হয়ে গেল। একটা জিনিসও রক্ষা করতে পারলাম না। এখন পরিবার নিয়ে কীভাবে চলব বুঝতে পারছি না।”

ফায়ার সার্ভিসের হিসাব অনুযায়ী এই অগ্নিকাণ্ডে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ আনুমানিক ২০ থেকে ২৫ লাখ টাকা। চার পরিবার এখন পুরোপুরি নিঃস্ব। ঘর নেই, পোশাক নেই, খাবার নেই, সঞ্চয় নেই—আর আছে শুধু ভবিষ্যৎ নিয়ে গভীর শঙ্কা ও অনিশ্চয়তা।

ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো দ্রুত পুনর্বাসনের জন্য স্থানীয় প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি এবং সমাজের বিত্তবানদের কাছে জরুরি সহযোগিতার আবেদন জানিয়েছেন।


এ সম্পর্কিত আরো খবর