ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ব্রিকসে বিশ্বনেতাদের দেওয়া হলো নিরামিষ খাবার: বিজেপি-কংগ্রেস তুমুল বিতর্ক সারাদেশে ঘরে ঘরে জ্বর: ডেঙ্গু ও হামের সঙ্গে বাড়ছে টাইফয়েড ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধ হলেই কি থামবে মধ্যপ্রাচ্যের ইরান যুদ্ধ? ‘ট্রফি চোর’ অপবাদ মাথায় নিয়ে শান্ত মেজাজে মাঠ ছাড়লেন নাকভি ২৩ বছরের খরা কাটল না আমেরিকার, ইউএস ওপেনের ট্রফি জভেরেভের হাতে পুরুষদের পর মেয়েরাও বর্জন করল নাকভিকে, দুবাইতে আবারও ট্রফি নাটক রাজধানীর বেসরকারি হাসপাতালে শিশু মৃত্যুর পর তুলকালাম বিশ্বের দূষিত বায়ুর তালিকায় শীর্ষে সিঙ্গাপুর সিটি,ঢাকা ষষ্ঠ আসিফ মাহমুদের আমলের সব নিয়োগ ও পদোন্নতির নথি এখন দুদকে পঞ্চগড়ে বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষ: আহত ১৫, ২ ঘণ্টা মহাসড়ক অবরুদ্ধ

পল্লবীতে যুবদল নেতা হত্যা মামলার আসামির ডিবি হেফাজতে মৃত্যু


  • আপলোড সময় : শুক্রবার ২১ নভেম্বর, ২০২৫ সময় : ৪:৫০ পিএম

রাজধানীর পল্লবীতে যুবদল নেতা গোলাম কিবরিয়া হত্যা মামলার এক আসামি ডিবি হেফাজতে মারা গেছেন। এ ঘটনায় তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। শুক্রবার দুপুরে ডিএমপির মিডিয়া বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মুহাম্মদ তালেবুর রহমান এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

তিনি জানান, গত সোমবার (১৭ নভেম্বর) পল্লবীতে সন্ত্রাসীদের গুলিতে যুবদল নেতা গোলাম কিবরিয়া নিহত হন। এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী পল্লবী থানায় মামলা করেন। সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে মামলাটি পরে ডিবিতে হস্তান্তর করা হয়। মামলার তদন্তের অংশ হিসেবে গত বৃহস্পতিবার শরীয়তপুর জেলার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে নজরুল, মাসুম ও জামান নামে তিনজনকে গ্রেপ্তার করে ডিবি। গ্রেপ্তার আসামিরা জিজ্ঞাসাবাদে হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে। তারা জানায়, কিলিং মিশনে ব্যবহৃত অস্ত্র ও গুলি তাদের সহযোগী মোক্তার হোসেনের কাছে রয়েছে।

ডিসি তালেবুর রহমান বলেন, আসামিদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ডিবির একটি টিম পল্লবীতে একটি গ্যারেজে অভিযানে যায়। পুলিশের উপস্থিতি অনুভব করে মোক্তার দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করলে স্থানীয়দের সহায়তায় কৌশলে তাকে আটক করা হয়। এসময় উত্তেজিত জনতা তাকে কিল-ঘুষি মারলে তিনি আহত হন। পরে তার দেখানো মতে পল্লবীর একটি রিকশা গ্যারেজ থেকে আট রাউন্ড পিস্তলের গুলি উদ্ধার করা হয়।

তিনি আরও জানান, আটক করার পর মোক্তার হোসেনকে ডিবি কার্যালয়ে নেওয়া হয়। রাত দেড়টার দিকে তিনি অসুস্থ বোধ করলে তাকে তাৎক্ষণিক ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। প্রাথমিক পরীক্ষা শেষে চিকিৎসকরা কিছু ওষুধ দিয়ে তাকে ছাড়পত্র দিলে আবার ডিবি কার্যালয়ে ফিরিয়ে আনা হয়। এরপর শুক্রবার সকাল ১০টার দিকে তাকে খাবার দেওয়ার সময় ডাকাডাকি করেও কোনো সাড়া না পাওয়ায় পুনরায় তাকে দ্রুত ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

মোক্তারের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে বলে ডিএমপির কর্মকর্তা জানান। ঘটনার পর ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (অ্যাডমিন) মো. সরওয়ারের নেতৃত্বে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনার পর স্থানীয়দের মধ্যে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। ডিবি হেফাজতে আসামির মৃত্যু নিয়ে প্রশ্ন উঠলেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বলছে, পুরো ঘটনা স্বচ্ছতার ভিত্তিতে তদন্ত করা হবে।

গোলাম কিবরিয়া হত্যাকাণ্ড নিয়ে এলাকায় এখনও উত্তেজনা বিরাজ করছে। নিহত কিবরিয়ার পরিবার দ্রুত বিচার ও প্রকৃত দোষীদের শাস্তি দাবি করেছে। মামলাটি বর্তমানে ডিবির গুরুত্বপূর্ণ মামলার তালিকায় রয়েছে। ডিবির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, জড়িত সবাইকে চিহ্নিত করা এবং অস্ত্র উদ্ধার করতে তদন্ত অব্যাহত আছে। পুলিশের দাবি, হত্যাকাণ্ডটি ছিল পরিকল্পিত এবং রাজনৈতিক আধিপত্য নিয়ে পূর্ববিরোধ থেকেই এটি সংঘটিত হতে পারে—যদিও বিষয়টি তদন্তাধীন।

আকাশজমিন / আরআর 


এ সম্পর্কিত আরো খবর