অনলাইন রিপোর্টার
মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান কামালসহ তিনজনের রায় ঘোষণার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিচারক সংশ্লিষ্ট ছবি ও মন্তব্য মুছে ফেলার নির্দেশ দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।
রোববার (২৩ নভেম্বর) ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন দুই সদস্যের বিচারিক প্যানেল বিটিআরসি ও তথ্য সচিবকে এ আদেশ দেন।
মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ১৩ নভেম্বর জুলাই-আগস্টে সংঘটিত ঘটনাসমূহের প্রেক্ষিতে শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান কামালকে মৃত্যুদণ্ড, এবং সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনকে পাঁচ বছরের সাজা দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। রায় ঘোষণা করা হয় ট্রাইব্যুনাল-১ এর মাধ্যমে।
রায় ঘোষণার পর সামাজিক ও সংবাদমাধ্যমে বিচারকদের ছবি ব্যবহার করে বিভিন্ন ধরনের অবমাননাকর মন্তব্য ছড়িয়ে পড়তে দেখা যায়। বিষয়টি ট্রাইব্যুনালের নজরে আসার পর স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে বিটিআরসির চেয়ারম্যান ও তথ্য সচিবকে এসব ছবি ও মন্তব্য মুছে ফেলার নির্দেশ দেওয়া হয়।
ট্রাইব্যুনাল থেকে বলা হয়েছে, মুক্ত চিন্তা ও বাক স্বাধীনতা সবার জন্য স্বীকৃত, তবে তা দেশের আইন এবং নৈতিকতার মধ্যে থেকে হতে হবে। অবমাননাকর মন্তব্য বা তথ্য প্রচার আইনত দণ্ডনীয়।
ট্রাইব্যুনালে প্রসিকিউশনের পক্ষে ছিলেন চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম, প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম এবং গাজী এমএইচ তামিমসহ অন্যান্যরা। এছাড়া আসামিপক্ষের আইনজীবী ও সাংবাদিকরাও উপস্থিত ছিলেন।
বিচারপতির নির্দেশে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ব্যবহার ও তথ্যপ্রচারে আরও সতর্কতা অবলম্বনের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে বিচারিক মর্যাদা রক্ষা এবং সমাজে সঠিক তথ্য প্রবাহ নিশ্চিত করার চেষ্টা করা হবে।
ট্রাইব্যুনালের এই পদক্ষেপ দেশের আইনি পরিবেশে গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত দেয়। এটি দেখায়, ট্রাইব্যুনাল দেশের সংবিধান এবং আইন অনুযায়ী বিচারিক প্রক্রিয়া চলাকালীন সময়ে অবমাননাকর কর্মকাণ্ড নিয়ন্ত্রণে রাখতে সজাগ।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তথ্য ছড়িয়ে দেওয়ার প্রভাব অত্যন্ত বিস্তৃত। তাই বিচারিক ফাঁকে ব্যক্তি বা কোনো গোষ্ঠীর প্রভাব ও অপপ্রচার প্রতিরোধে ট্রাইব্যুনাল সচেতন। এটি দেশের আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল এবং সমসাময়িক প্রযুক্তিগত ব্যবস্থার সঙ্গে সঙ্গতি রাখার প্রমাণ।
ট্রাইব্যুনাল থেকে আরও বলা হয়েছে, মিডিয়া ও নাগরিকরা অবশ্যই স্বাধীন চিন্তা প্রকাশ করতে পারবেন, তবে সেটি অন্যের মর্যাদা, সম্মান এবং আইন রক্ষার মধ্যে থেকে করতে হবে। কোনরূপ অবমাননা বা ভুল তথ্য প্রচার আইনত দায়সাপেক্ষ।
এই নির্দেশের পর বিটিআরসি ও তথ্য সচিব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া প্রাসঙ্গিক ছবি ও মন্তব্য সরানোর প্রক্রিয়া শুরু করেছেন। সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো তাদের দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে আইন এবং ট্রাইব্যুনালের নির্দেশনা অনুসরণ করবে।
এর আগে রায় ঘোষণার পর সমাজে প্রচলিত তথ্য এবং সামাজিক মাধ্যমের মধ্যে ছড়ানো ছবির ব্যবহার নিয়ে তীব্র বিতর্ক দেখা দিয়েছিল। কিছু ব্যক্তি এবং গোষ্ঠী বিচারকদের ছবি ব্যবহার করে বিভিন্ন ধরনের মন্তব্য ও সমালোচনা প্রকাশ করেছিলেন। ট্রাইব্যুনালের এই পদক্ষেপ সেই বিতর্ক বন্ধ করে, নৈতিক ও আইনানুগ প্রেক্ষাপট তৈরি করতে সহায়তা করবে।
ট্রাইব্যুনাল সূত্রে জানা যায়, বিচারক এবং আইনশৃঙ্খলা সংস্থার স্বার্থ রক্ষা করতে ও সাধারণ নাগরিকদের বিভ্রান্তি থেকে রক্ষা করতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এতে দেশের বিচার ব্যবস্থার প্রতি মানুষের আস্থা ও সামাজিক সংহতি বজায় থাকবে।
ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন দুই সদস্যের প্যানেল সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মাধ্যমে প্রাসঙ্গিক ছবি ও মন্তব্য সরানোর প্রক্রিয়া তদারকি করবে।
আইন ও বিচার সংক্রান্ত বিষয়গুলোতে সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি এবং অবমাননাকর তথ্য প্রতিরোধে এই পদক্ষেপকে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
বিচারপতি এবং ট্রাইব্যুনালের কর্মকর্তা দাবি করেছেন, এটি দেশের আইনি পরিবেশ এবং বিচার ব্যবস্থার স্বচ্ছতা বজায় রাখার জন্য নেওয়া একটি প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ।
আকাশজমিন / আরআর