ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়ন ও চাঁদাবাজি কঠোর হাতে দমন করা হবে: আইনমন্ত্রী ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের নতুন অধ্যায় চায় বাংলাদেশ: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ডেঙ্গুতে আরও ৬ প্রাণহানি, এক দিনে হাসপাতালে ১৫৬১ জন ভর্তি গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা জোরদার করতে হবে: রাষ্ট্রপতি আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে ১১ হাজার কোটি টাকা পাচারের অভিযোগ: দুদক ‘বারবার মিথ্যা মামলা না দিয়ে আমাকে একবারে গুলি করে মেরে ফেলেন’ ২১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্র সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশে নতুন গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধানে বিনিয়োগে আগ্রহী মার্কিন কোম্পানি শেভরন পাবনায় ডিবির ওসির প্রত্যাহারে সাংবাদিকদের ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় শক্তিশালী স্থানীয় সরকারের বিকল্প নেই: ড. আবদুল মঈন খান

এলডিসি উত্তরণ ও চট্টগ্রাম বন্দর: তারেক রহমানের সতর্কবার্তা


  • আপলোড সময় : মঙ্গলবার ২৫ নভেম্বর, ২০২৫ সময় : ৩:৩৩ পিএম

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান সম্প্রতি স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে টেকসই উত্তরণ এবং চট্টগ্রাম বন্দর সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে মন্তব্য প্রকাশ করেছেন। তারেক রহমান সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে নিজের ভেরিফায়েড অ্যাকাউন্টে একটি পোস্টে লিখেছেন, এলডিসি উত্তরণ এবং বন্দরের মতো গুরুত্বপূর্ণ দীর্ঘমেয়াদি সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা কেবলমাত্র নির্বাচিত সরকারের। এমন কোনো সরকার সিদ্ধান্ত নিতে পারে না, যাদের নির্বাচনী ম্যান্ডেট নেই। দেশের ভবিষ্যৎ বদলে দেবে এমন সিদ্ধান্তে সময় চাওয়া একটি অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্বশীল পদক্ষেপ হওয়া উচিত। তবে প্রশ্ন করা হলো, কেন আমরা নিজেদের ভবিষ্যৎ সীমাবদ্ধ করছি? কেন আমরা নিজেদের বিকল্প প্রকাশ্যে বন্ধ করে দিয়ে আলোচনা করার ক্ষমতা দুর্বল করছি?

তার পোস্টে তিনি উদাহরণ দিয়ে ব্যাখ্যা করেছেন। ধরুন, গাজীপুরের একটি ছোট পোশাক কারখানার মালিকের কথা। এক যুগেরও বেশি সময় ধরে তিনি ব্যবসা গড়ে তুলেছেন, শতাধিক শ্রমিককে কর্মসংস্থান দিয়েছেন। অতি সামান্য মুনাফা করেও কারখানা চালিয়ে চলেছেন। নির্মম বৈশ্বিক বাজারে প্রতিযোগিতা করছেন। হঠাৎ একদিন, যেই শুল্ক সুবিধায় তার পণ্যের দাম প্রতিযোগিতামূলক ছিল, সেটি নীরবে হারিয়ে গেল। ফলে অর্ডার কমতে থাকে, কারখানা চালু রাখা, শ্রমিকদের মজুরি দেওয়া এবং নিজের পরিবার সামলানো নিয়ে তিনি চাপের মধ্যে পড়ে যান।

আরেকটি উদাহরণ দিয়ে তারেক রহমান লিখেছেন, নারায়ণগঞ্জের সদ্য স্নাতক সম্পন্ন করা একটি তরুণীর কথা। তিনি তার পরিবারকে অনিশ্চয়তার মধ্যে ডুবে যেতে দেখছেন। তার বাবা একটি কারখানায় কাজ করেন। সংসারের সব খরচ মেটাতে ওভারটাইমই তার অবলম্বন। রপ্তানির ওপর চাপ পড়লে প্রথমে ওভারটাইম বন্ধ হয়, এরপর শিফট কমে, তারপর চাকরি চলে যায়। এই সাধারণ পরিবারের নীরব সংকটের প্রভাব শিশু থেকে শুরু করে পরিবার পর্যন্ত পড়ে। এই সিদ্ধান্তগুলো নিতে তারা কোনো ভোট করেনি, কেউ তাদের জিজ্ঞাসাও করেনি।

তারেক রহমান বলেছেন, বাংলাদেশের এলডিসি উত্তীর্ণ হওয়া বিষয়টি সরকারি বিবৃতির চেয়ে অনেক বেশি গুরুত্ব বহন করে। তিনি উল্লেখ করেছেন, বিএনপি আগে থেকেই বলেছে, ২০২৬ সালে উত্তীর্ণ হওয়ার সময় ঠিক রেখে স্থগিতের বিকল্প খোলা না রাখার মতো সম্পূর্ণ রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নিচ্ছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার, যার কোনো নির্বাচনী ম্যান্ডেট নেই। তারপরও এই সরকার দীর্ঘমেয়াদি সিদ্ধান্ত নিচ্ছে যা দেশের অর্থনৈতিক ভবিষ্যৎকে দশকের পর দশক প্রভাবিত করবে। সময় বাড়ানো ‘অসম্ভব’ বা ‘অপমানে’র মতো দাবির বিষয়টি বাস্তবতা নয়। ইতিহাস ভিন্ন ও জটিলতা প্রকাশ করে।

তারেক রহমান লিখেছেন, অ্যাঙ্গোলা ও সামোয়ার মতো দেশ তাদের উত্তীর্ণ হওয়ার সময় সংশোধন করেছে। জাতিসংঘের নিয়মই বলে, কোনো দেশ অর্থনৈতিক ধাক্কায় পড়লে সময় বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে। দেশের ভবিষ্যৎ বদলে দেবে এমন সিদ্ধান্তে সময় চাওয়া একটি অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্বশীল পদক্ষেপ হওয়া উচিত। তবে আমরা কেন ভান ধরছি যে, কোনো বিকল্প নেই? আন্তর্জাতিক আলোচনায় প্রভাব খাটানোর সুযোগ হাতছাড়া করে দুর্বল অবস্থান থেকে টেবিলে বসছি।

সরকারের নথিতেও স্বীকার করা হয়েছে যে, ব্যবসায়ীরা ইতিমধ্যেই ব্যাংকখাতে চাপ, বৈদেশিক মুদ্রার সংকট, ঋণ ঝুঁকি বৃদ্ধি এবং রপ্তানি মন্থর হওয়ার প্রভাব অনুভব করছেন। এটি এলডিসি উত্তরণে বিরোধিতা নয়। বাংলাদেশ এগিয়ে যাওয়ার অধিকার অর্জন করেছে। কিন্তু ‘অধিকার’ থাকা আর ‘প্রস্তুত’ থাকা দুটি ভিন্ন বিষয়। সিদ্ধান্ত গ্রহণে কোনো সন্দেহ না থাকা মানেই সেটা প্রকৃত জাতীয় শক্তি নয়। প্রকৃত শক্তি হলো, অপরিবর্তনীয় কিছু হয়ে ওঠার আগেই কঠিন প্রশ্নগুলো করা।

চট্টগ্রাম বন্দরের প্রসঙ্গেও তারেক রহমান বলেছেন, এটি বাংলাদেশের অর্থনীতির প্রবেশদ্বার। বন্দরকে কেন্দ্র করে সাম্প্রতিক দীর্ঘমেয়াদি সিদ্ধান্তগুলো কোনো রুটিন কাজ নয়। এগুলো জাতীয় সম্পদ নিয়ে কৌশলগত অঙ্গীকার, যা একটি অনির্বাচিত অন্তর্বর্তী সরকার ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে বেঁধে দেয়ার মতো করে এগিয়ে নিচ্ছে। চট্টগ্রাম বন্দরে যা দেখা যাচ্ছে, তা এলডিসি উত্তীর্ণ হওয়ার প্রক্রিয়ার প্রতিচ্ছবি। কৌশলগত বিকল্পগুলো বন্ধ, জনআলোচনাকে ঝামেলা মনে করা হচ্ছে, যুক্তিসঙ্গত উদ্বেগকে ‘অনিবার্যতা’ বলে পাশ কাটানো হচ্ছে।

তারেক রহমান স্পষ্ট করে বলেছেন, এটি কোনো ব্যক্তিকে আক্রমণ নয়। এটি প্রতিষ্ঠানকে রক্ষা এবং নীতিকে রক্ষা করা, যাতে দেশের ভবিষ্যৎকে দশকের পর দশক প্রভাবিত করতে পারে এমন সিদ্ধান্ত নেবে সেই সরকার যার জনগণের কাছে জবাবদিহি রয়েছে। কেউ বলছে না, আমাদের এলডিসি উত্তীর্ণ হওয়া উচিত নয় বা বন্দর সংস্কার করা উচিত নয়। যুক্তি সহজ ও মৌলিক: দেশের ভবিষ্যৎ এমন সরকারের হাতে থাকা উচিত, যাকে জাতি নির্বাচিত করেছে। কৌশলগত ধৈর্যধারণ কোনো দুর্বলতা নয়। জনপরামর্শ কোনো বাধা নয়। গণতান্ত্রিক বৈধতা বিলম্ব নয়।

তারেক রহমান লিখেছেন, বাংলাদেশের মানুষ কখনও ভবিষ্যৎ নিয়ে নিষ্ক্রিয় ছিল না। তারা সম্মান, মতপ্রকাশের অধিকার ও পছন্দের স্বাধীনতায় বিশ্বাস করে। তাই তারা অনেক কষ্ট সহ্য করেছে ও ত্যাগ করেছে। তাদের দাবি সাধারণ: তাদের কথা শুনতে হবে, অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে, সম্মান দিতে হবে। এজন্যই তারেক রহমান এবং বিএনপি ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় নির্বাচনের দিকে দৃষ্টি রাখছেন। এটি বাংলাদেশের মানুষের কথা বলার, নির্বাচিত করার এবং ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ এই বিশ্বাস পুনর্ব্যক্ত করার সুযোগ।

আকাশজমিন / আরআর 


এ সম্পর্কিত আরো খবর