ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  সোমবার, ২৭ Jul ২০২৬,  ১১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
রপ্তানি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য ১৫ শতাংশ, আয় হতে পারে ৬৩.৪ বিলিয়ন ডলার রাজধানীতে ১৮ মন্ত্রী চলবেন এসকর্ট ছাড়া, বহাল থাকছে ৭ জনের সুবিধা সাতক্ষীরায় অপরিকল্পিত মৎস্য ঘের: পানিবন্দী হাজারও মানুষ, সড়ক-শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্লাবিত সাতক্ষীরার তিন হাসপাতালে হঠাৎ স্বাস্থ্যমন্ত্রী, অনুপস্থিত দুই চিকিৎসকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টেস্ট দল ঘোষণা, নেই নাহিদ-লিটন সেনা কর্মকর্তাদের পদোন্নতি হোক মেধা ও যোগ্যতায়: প্রধানমন্ত্রী হামের উপসর্গে আরও ৪ শিশুর মৃত্যু, আক্রান্ত ১১৬০ জামায়াত জোট ছাড়ার গুঞ্জন নাকচ করল নেজামে ইসলাম চলনবিলে অবাধে ব্যবহার হচ্ছে নিষিদ্ধ চায়নাদুয়ারী জাল লক্ষ্মীপুরে উৎসবমুখর পরিবেশে ধারণ হলো ‘ইত্যাদি’র বিশেষ পর্ব

৫০% ক্ষুদ্র প্রতিষ্ঠান বন্ধ

জ্বালানি সংকটেই অর্থনীতির প্রধান ধাক্কা


বৃহস্পতিবার বনানীর পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (পিআরআই) কার্যালয়ে মাসিক অর্থনৈতিক পর্যালোচনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন আনোয়ার উল আলম চৌধুরী

  • আপলোড সময় : বৃহস্পতিবার ২৭ নভেম্বর, ২০২৫ সময় : ৪:৩৭ পিএম

অনলাইন রিপোর্টার

বাংলাদেশ চেম্বার অব ইন্ডাস্ট্রিজের (বিসিআই) সভাপতি আনোয়ার উল আলম চৌধুরী পারভেজ বলেছেন, দেশের অর্থনীতি বর্তমানে গভীর সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে এবং রীতিমতো ‘রক্তক্ষরণ’ হচ্ছে। তিনি অভিযোগ করেছেন, ব্যবসায়ী মহলের দীর্ঘদিনের উদ্বেগ ও বারবার সতর্কতা জানানো সত্ত্বেও সরকার সেই সংকেত শুনছে না। সরকারের নীতি–সহায়তার অভাবের কারণে দেশের ব্যবসা-বাণিজ্য কঠিন পরিস্থিতিতে পড়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

আজ বৃহস্পতিবার বনানীতে পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (পিআরআই) কার্যালয়ে মাসিক অর্থনৈতিক পর্যালোচনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন আনোয়ার উল আলম চৌধুরী পারভেজ। সেপ্টেম্বর–অক্টোবর মাসের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে আয়োজিত এ সেমিনারের সভাপতিত্ব করেন পিআরআইয়ের চেয়ারম্যান জাইদী সাত্তার। এ সময় সংস্থাটির প্রধান অর্থনীতিবিদ আশিকুর রহমান মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন।

ব্যবসায়ীদের হতাশার চিত্র তুলে ধরে বিসিআই সভাপতি বলেন, ২০২২ সালের পর থেকে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি এবং অনিয়মিত সরবরাহ উৎপাদন খাতকে বড় ধাক্কা দিয়েছে। শিল্পাঞ্চলে প্রয়োজনীয় গ্যাস–বিদ্যুতের সংকটের কারণে অসংখ্য প্রতিষ্ঠান নিয়মিত উৎপাদন চালাতে পারছে না। তিনি দাবি করেন, দেশের প্রায় ৫০ শতাংশ ক্ষুদ্র প্রতিষ্ঠান ইতোমধ্যে বন্ধ হয়ে গেছে। বিশেষ করে শ্রমঘন ছোট ব্যবসাগুলো ধীরে ধীরে অচল হয়ে পড়ছে।
তিনি বলেন, “গ্রামে ব্যবসা করতে না পেরে বহু মানুষ ঢাকায় এসে অটোরিকশা বা ‘টেসলা’ চালাতে বাধ্য হচ্ছে। এতে রাজধানীর জনসংখ্যা বেড়ে প্রায় সাড়ে তিন কোটিতে পৌঁছেছে।”
খেলাপি ঋণ পরিস্থিতিকে দেশের অর্থনীতির জন্য সবচেয়ে বড় ঝুঁকি হিসেবে উল্লেখ করেন আনোয়ার উল আলম চৌধুরী পারভেজ। তিনি বলেন, একসময় ১৭ শতাংশ খেলাপি ঋণের হার থাকতেই আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) বাংলাদেশকে মধ্যম ঝুঁকিপূর্ণ অর্থনীতি হিসেবে মন্তব্য করেছিল। বর্তমানে সেই হার ৩৫ শতাংশ অতিক্রম করেছে। এ পরিস্থিতিকে অত্যন্ত উদ্বেগজনক আখ্যা দিয়ে তিনি প্রশ্ন করেন, “এখন আইএমএফ বাংলাদেশের খেলাপি ঋণের মানকে কোন শ্রেণিতে ফেলবে?”
তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন যে এই ঋণচাপ ভবিষ্যতে দেশের সমগ্র অর্থব্যবস্থার ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলবে এবং ঋণ গ্রহণের ব্যয় আরও বাড়িয়ে দেবে।

সেমিনারে বক্তব্য রাখতে গিয়ে পিআরআইয়ের চেয়ারম্যান জাইদী সাত্তার বলেন, অর্থনীতির সামগ্রিক প্রবৃদ্ধি কিছুটা কমলেও সাম্প্রতিক সময়ে কিছুটা স্থিতিশীলতার লক্ষণ দেখা যাচ্ছে। তবে দীর্ঘমেয়াদে কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে আরও উদার এবং ব্যবসাবান্ধব নীতির প্রয়োজন রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। তাঁর মতে, পাল্টা শুল্কের কারণে রপ্তানি কিছুটা কমলেও আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ এখনো ভারত ও পাকিস্তানের তুলনায় তুলনামূলক ভালো অবস্থানে রয়েছে।

মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করে অর্থনীতিবিদ আশিকুর রহমান বলেন, কঠোর নীতি এবং সুসংগঠিত সংস্কার ছাড়া এত উচ্চ হারে খেলাপি ঋণ নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়। তিনি সতর্ক করে বলেন, বর্তমান পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে দেশের অর্থনীতিতে মধ্যমেয়াদি বড় ঝুঁকি তৈরি হবে এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের সম্ভাবনা সংকুচিত হতে পারে।
তিনি বলেন, “আধুনিক ইতিহাসের সবচেয়ে কঠিন সময় পার করছে দেশের অর্থনীতি। এখনই কার্যকর পদক্ষেপ নিতে না পারলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠবে।”

আকাশজমিন / আরআর 


এ সম্পর্কিত আরো খবর