ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  সোমবার, ২৭ Jul ২০২৬,  ১১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
রপ্তানি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য ১৫ শতাংশ, আয় হতে পারে ৬৩.৪ বিলিয়ন ডলার রাজধানীতে ১৮ মন্ত্রী চলবেন এসকর্ট ছাড়া, বহাল থাকছে ৭ জনের সুবিধা সাতক্ষীরায় অপরিকল্পিত মৎস্য ঘের: পানিবন্দী হাজারও মানুষ, সড়ক-শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্লাবিত সাতক্ষীরার তিন হাসপাতালে হঠাৎ স্বাস্থ্যমন্ত্রী, অনুপস্থিত দুই চিকিৎসকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টেস্ট দল ঘোষণা, নেই নাহিদ-লিটন সেনা কর্মকর্তাদের পদোন্নতি হোক মেধা ও যোগ্যতায়: প্রধানমন্ত্রী হামের উপসর্গে আরও ৪ শিশুর মৃত্যু, আক্রান্ত ১১৬০ জামায়াত জোট ছাড়ার গুঞ্জন নাকচ করল নেজামে ইসলাম চলনবিলে অবাধে ব্যবহার হচ্ছে নিষিদ্ধ চায়নাদুয়ারী জাল লক্ষ্মীপুরে উৎসবমুখর পরিবেশে ধারণ হলো ‘ইত্যাদি’র বিশেষ পর্ব

শীতের সবজি বাজারে ভরপুর, দামে স্বস্তি নেই


শীতের সবজি বাজারে ভরপুর, দামে স্বস্তি নেই

  • আপলোড সময় : শনিবার ২৯ নভেম্বর, ২০২৫ সময় : ৩:৩৮ পিএম

অনলাইন ডেস্ক

নীলফামারীর স্থানীয় কাঁচা বাজারে শীতের সবজির সরবরাহ বাড়লেও দাম কমেনি। বাজারজুড়ে শীতকালীন সবজি পাওয়া গেলেও তুলনামূলক বেশি দামে কিনতে হচ্ছে ক্রেতাদের। সাধারণত এ সময় সবজির দাম কমে স্বস্তি ফিরে আসে ক্রেতাদের মুখে, কিন্তু এবার সেই স্বস্তি মিলছে না। ব্যবসায়ীদের দাবি, সরবরাহ এখনও পর্যাপ্ত না হওয়ায় দাম স্বাভাবিক হতে সময় লাগবে।

শুক্রবার (২৮ নভেম্বর) নীলফামারী জেলা শহরের কিচেন মার্কেট, উকিলের মোড়, সাহেব বাজার, কালিতলা বাজার, নতুন বাজার, ডালপট্টি বাজার ও বাদিয়ার মোড়সহ বেশ কয়েকটি কাঁচাবাজার ঘুরে দেখা গেছে এমন চিত্র।

বেলালের মোড় ও কিচেন মার্কেট ঘুরে দেখা যায়—আকারভেদে ফুলকপি ও বাঁধাকপি প্রতি কেজি ৩০ থেকে ৪০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। লাউ ২০ থেকে ২৫ টাকা, কাঁচা পেঁপে ২০ টাকা। গোল বেগুন আকারভেদে প্রতি কেজি ৭০–৮০ টাকা, দেশি শসা ৪০–৪৫ টাকা। করলা ও মুলা বিক্রি হচ্ছে ৩০ টাকা দরে। পটল ও চিচিঙ্গা ৬০ টাকা, গাজর ১২০, শিম ৮০, কাঁচা মরিচ ৮০–১০০ টাকা, ধনেপাতা ৪০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

কিচেন মার্কেটের পাইকারি বাজারে বেগুন বিক্রি করতে আসা রবিউল ইসলাম বলেন, যখন ফসল বিক্রি করি তখন আড়তদাররা একচেটিয়া ব্যবসা করে। সারা বছর পরিশ্রম করে উৎপাদন করার পরও বাজারে এসে আড়তদারদের কাছে জিম্মি হতে হয়। আজকে ৪০ কেজি গোল বেগুন ৪৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি করলাম, আর এই বেগুন খুচরা বাজারে ৮০–৯০ টাকা বিক্রি হবে। প্রতি কেজিতে আমার লোকসান হচ্ছে ৪৫ টাকা। এসব দেখার কেউ নেই।

সবজি কিনতে আসা ফারাবি আকতার বলেন, নিয়ন্ত্রণহীন বাজারে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী রাতারাতি আঙুল ফুলে কলা গাছ হচ্ছে। কৃষক ও ভোক্তা—দুই পক্ষই ঠকছে।

একই বাজারে ক্রেতা রুবেল মিয়া বলেন, এখন শীতের সবজি প্রচুর। তবুও চড়া দামে কিনতে হচ্ছে। তদারকি না থাকায় ভোক্তারা ঠকছে।

জেলা শহরের খুচরা ব্যবসায়ী ইলিয়াস আহমেদ বলেন, সবজির সরবরাহ কম থাকায় দাম কিছুটা বেশি। কয়েক দিন পর সরবরাহ বাড়লে দাম কমবে।

সাহেব বাজারের সবজি ব্যবসায়ী আব্দুল হাকিম বলেন, এখন শীতের সবজি নতুন করে বাজারে উঠছে। সরবরাহ যখন বাড়বে, তখন এই দাম থাকবে না। ঘাটতিও রয়েছে, তাই দাম কিছুটা বেশি। লালশাক, কলমিশাক, পুঁইশাক, কুমড়োশাক, মুলাশাক, পালং শাক, ধনেপাতাসহ প্রায় সব সবজির দামই ক্রেতাদের নাগালের বাইরে।

অপরদিকে, বাজারে রুই ও কাতল মাছ আকারভেদে ২৬০ থেকে ৩০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। কৈ ও তেলাপিয়া ১৮০–২৫০ টাকা, দেশি কৈ ৩০০–৪০০ টাকা, সরপুঁটি ১০০–১২০ টাকা, শিং ৩০০–৩৫০ টাকা, টেংরা ৭০০–৭৫০ টাকা, মোয়া মাছ ২৫০–৩০০ টাকা। শোল মাছ ৭৫০–৮০০ টাকা, মাগুর ৩৫০–৪০০ টাকা, গোঁতা মাছ ১,১০০–১,২৫০ টাকা এবং টাকি মাছ ২৫০–৩৫০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে।

হামিদ পোল্ট্রি হাউজের মালিক আব্দুল হামিদ বলেন, পোল্ট্রি বাজার স্বাভাবিক রয়েছে। সোনালি মুরগি ২৫০, বয়লার ২৬০, রিজেক্ট প্যারেন্ট ২৮০ এবং লাল লেয়ার ২৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

জেলা বিক্রয় ও বিপণন কর্মকর্তা এ টি এম এরশাদ আলম খান জানান, কিছু অসাধু ব্যবসায়ী বাজারকে অস্থিতিশীল করে অতিরিক্ত মুনাফা করছে বলে অভিযোগ পেয়েছি। দ্রুত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে তাদের আইনের আওতায় আনা হবে।

আকাশজমিন / আরআর 


এ সম্পর্কিত আরো খবর