ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ৩১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
৯০ দিন বাড়ল ডাকসুর সময়সীমা, তফসিল ঘোষণাতেই বাতিল হবে কমিটি হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৬ জনের মৃত্যু, নতুন আক্রান্ত ১৩১৬ ডেঙ্গুতে একদিনে আরও ৮ জনের মৃত্যু, আক্রান্ত ১৫৯৩ ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনার মধ্যেই চীন সফরে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরাগচি কিম জং উনের ছেলে সন্তান ঘিরে রহস্য, উত্তরসূরি নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে তর্ক বাংলাদেশের স্বাস্থ্যখাতে চীনের ব্যাপক বিনিয়োগের আহ্বান স্বাস্থ্যমন্ত্রীর ডিএসসিসি কার্যালয়ে প্রশাসকের ঝটিকা পরিদর্শন জ্বালানি হামলা বন্ধের প্রস্তাবে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে কী বলল মস্কো? পবিত্র মক্কা, জেদ্দা ও তাইফে জরুরি সতর্কতা জারি করল সৌদি আরব ৭ জনের ফাঁসির রায়ে ককটেল বিস্ফোরণ বড় বিষয় নয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

শূন্য থেকে কোটিপতি


শূন্য থেকে কোটিপতি

  • আপলোড সময় : শনিবার ২৯ নভেম্বর, ২০২৫ সময় : ৩:৫৬ পিএম

যশোর সংবাদদাতা 

যশোরের বাসিন্দা তোফাজ্জেল হোসেন (মানিক) প্রাথমিক শিক্ষা মাত্র চতুর্থ শ্রেণি পর্যন্ত পেয়েছিলেন। দারিদ্র্যের কারণে তিনি উচ্চশিক্ষা চালিয়ে যেতে পারেননি। তবে নিজের পরিশ্রম ও উদ্যোগে তিনি আজ কোটি কোটি টাকার মালিক। সাত হাজার টাকায় শুরু করা ব্যবসা থেকে তিনি এখন যশোরের পরিচিত উদ্যোক্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত।

তোফাজ্জেল হোসেনের বাবা ছিলেন ছোট মুদিদোকানি। অভাবের সংসারে ছয় ভাইবোনের লেখাপড়ার খরচ চালানো কঠিন ছিল। তাই তিনি ছোট বয়সেই কাজ শুরু করেন। তাঁর মা ওষুধ কেনার জন্য ৬০ টাকা দিয়েছিলেন। তবে তোফাজ্জেল সেই টাকা দিয়ে বিভিন্ন এলাকা ঘুরে গাড়ির পুরোনো লোহা ও যন্ত্রপাতি কিনে বিক্রি করতেন। পরে ঢাকার ইসলামনগরে গিয়ে প্লাস্টিক কারখানায় শ্রমিক হিসেবে কাজ করতে করতে নতুন কিছু বানানো শিখেছেন।

১৯৯৮ সালে যশোরে ফিরে সাত হাজার টাকা দিয়ে একটি যন্ত্র কিনে ছোটখাট জিনিস তৈরি শুরু করেন, যা মোটরসাইকেলের যন্ত্রাংশ হিসেবে ব্যবহৃত হয়। এভাবেই শুরু হয় তাঁর ব্যবসা। বর্তমানে তাঁর দুটি কারখানায় উৎপাদিত মোটরসাইকেলের যন্ত্রাংশ বিক্রয় হয় সিয়াম মোটরস শোরুমের মাধ্যমে। সিস ও বিডি গোল্ড নামে দুটি ব্র্যান্ডের পণ্য দেশের বিভিন্ন জেলায় পৌঁছায়। তিন সন্তানকে মিলে ‘সিস (এসআইএস)’ ব্র্যান্ডের নামকরণ করা হয়েছে।

ঢাকার বংশাল এলাকার রহিমা অটো প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী জাবেদ হোসেন বলেন, তোফাজ্জেল হোসেনের পণ্যের গুণগত মান তুলনামূলক ভালো। আমি বহু বছর ধরে তাঁর কাছ থেকে পাইকারি দামে মোটরসাইকেলের স্ট্যান্ড ও অন্যান্য যন্ত্রাংশ কিনি। বর্তমানে কারখানা ও শোরুম মিলে ২৬ কর্মী কাজ করছেন। বার্ষিক লেনদেন প্রায় দুই কোটি টাকা।

তোফাজ্জেল উদ্যোক্তা তৈরি করতেও নিবেদিত। তিনি দরিদ্র ও অসহায় তরুণদের প্রশিক্ষণ, উৎসাহ ও বিনা সুদে ঋণ দিয়ে ব্যবসা শুরু করার সুযোগ দেন। ১৫ বছরে অন্তত ৩০ জনকে ঋণ দিয়েছেন। ঋণের পরিমাণ ২ হাজার থেকে ৫০ হাজার টাকা। যারা টাকা ফেরত দিতে অক্ষম, তাদের তিনি এককালীন অনুদান দেন।

উদাহরণ হিসেবে যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সোহেল রানা বলেন, তিনি কৃষি উদ্যোক্তা হতে চেয়েছেন। তোফাজ্জেল তাঁকে সহায়তা করে, লেখাপড়ার পাশাপাশি ব্যবসা করার সুযোগ দিয়েছেন।

আরেক উদাহরণ—যশোর শহরের বেজপাড়া এলাকার জেসমিন খাতুন, যিনি ভিক্ষাবৃত্তি করতেন। তোফাজ্জেল তাঁকে পরামর্শ ও বিনা সুদে ঋণ দিয়ে বাদাম বিক্রি শুরু করতে সাহায্য করেছেন। বর্তমানে তিনি স্বাবলম্বী। রেলগেট এলাকার রোমেসা বেগমও সিয়াম মোটরস কারখানায় কাজ করার পাশাপাশি তোফাজ্জেলের ঋণে চটপটির ব্যবসা শুরু করেছেন।

তোফাজ্জেল বলেন, আমি স্বপ্ন দেখি একটি কারিগরি ইনস্টিটিউট স্থাপন করার। সেখানে প্রশিক্ষণসহ বিনা সুদে ঋণ দিয়ে আরও মানুষকে উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তুলতে চাই। কোনো মানুষ যেন কর্মবিমুখ না থাকে।

আকাশজমিন / আরআর 


এ সম্পর্কিত আরো খবর