ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ৩১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
৯০ দিন বাড়ল ডাকসুর সময়সীমা, তফসিল ঘোষণাতেই বাতিল হবে কমিটি হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৬ জনের মৃত্যু, নতুন আক্রান্ত ১৩১৬ ডেঙ্গুতে একদিনে আরও ৮ জনের মৃত্যু, আক্রান্ত ১৫৯৩ ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনার মধ্যেই চীন সফরে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরাগচি কিম জং উনের ছেলে সন্তান ঘিরে রহস্য, উত্তরসূরি নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে তর্ক বাংলাদেশের স্বাস্থ্যখাতে চীনের ব্যাপক বিনিয়োগের আহ্বান স্বাস্থ্যমন্ত্রীর ডিএসসিসি কার্যালয়ে প্রশাসকের ঝটিকা পরিদর্শন জ্বালানি হামলা বন্ধের প্রস্তাবে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে কী বলল মস্কো? পবিত্র মক্কা, জেদ্দা ও তাইফে জরুরি সতর্কতা জারি করল সৌদি আরব ৭ জনের ফাঁসির রায়ে ককটেল বিস্ফোরণ বড় বিষয় নয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

সেতুর অভাবে থমকে আছে ২০টি গ্রামের জীবন


  • আপলোড সময় : শনিবার ২৯ নভেম্বর, ২০২৫ সময় : ৭:০৫ পিএম

রেজাউল ক‌রিম ঝন্টু : সিরাজগঞ্জ

সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ার সলঙ্গা ইউনিয়নের ঝপঝপিয়া নদীর উপর একটি সেতুর অভাবে থমকে আছে প্রায় ২০টি গ্রামের মানুষের জীবনযাপন। স্বাধীনতার পঞ্চাশ বছর পেরিয়ে গেলেও, এই অঞ্চলের মানুষ আধুনিক জীবনের সুবিধা থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে রয়েছে। ঝপঝপিয়া নদীর ওপর কোনো পাকা সেতু না থাকায় হাজারো মানুষ এখনো দড়ি টানা নড়বড়ে ডিঙি নৌকায় নদী পারাপার করছে। এই দীর্ঘ সময়ের অবহেলা শিক্ষার উন্নয়ন, স্বাস্থ্যসেবা এবং অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডকে ব্যাহত করেছে।

সলঙ্গা-ধামাইকান্দি সড়কের চরবেড়া খেয়াঘাটে স্থির হয়ে আছে উন্নয়নের গতি। চরবেড়া, তেলকুপি, গোজা, সাতটিক্রি, মানিকদিয়া ও দিয়ারপাড়াসহ প্রায় ২০টি গ্রামের মানুষ সলঙ্গা বাজার, ইউনিয়ন পরিষদ ও উপজেলা সদরে যাওয়ার জন্য এই নদীপথে নির্ভরশীল। কিন্তু নদীর পারাপারের জন্য যে নৌকাটি ব্যবহৃত হয়, সেটি অত্যন্ত অস্থির ও বিপজ্জনক। নদী পার হতে হলে দড়ি টানতে হয়, যা শিশু ও প্রবীণদের জন্য বিশেষ ঝুঁকিপূর্ণ।

চর গোজার বৃদ্ধ ইছহাক মিয়া বলেন, "পঞ্চাশ বছর ধরে আমরা শুধু আশাতেই বাঁচছি, কিন্তু কোনো সেতুর দেখা মেলেনি।" সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে রয়েছে স্কুলপড়ুয়া শিশুরা। চরবেড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মিম খাতুন ও মাহিম রেজা জানান, "নৌকা পার হতে মাঝি না থাকলে আমাদেরই দড়ি টানতে হয়। প্রায়ই আমাদের বই-খাতা পানিতে ভিজে যায়, তখন স্কুলে যেতে মন করে না।"

সলঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম মন্টু জানান, তারা বহুবার সেতু নির্মাণের চেষ্টা করেছেন, কিন্তু রাজনৈতিক ইচ্ছাশক্তির অভাবে কিছুই সম্ভব হয়নি। তবে স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে আশা দেখানো হয়েছে। উল্লাপাড়া উপজেলা প্রকৌশলী মো. শহিদুল্লাহ জানান, "সেতু নির্মাণের জন্য একটি প্রকল্প প্রস্তাবনা তৈরি করে অনুমোদনের জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।"

এখন এই প্রকল্প অনুমোদন পেলে কবে নাগাদ নির্মাণ শুরু হবে এবং দীর্ঘদিনের দুর্ভোগের অবসান হবে তা নিয়ে অপেক্ষায় আছে ঝপঝপিয়া পাড়ের মানুষ।

আকাশজমিন / আরআর 


এ সম্পর্কিত আরো খবর