লালমনিরহাট প্রতিনিধি / : 122
লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলায় সার সংকটে ক্ষুব্ধ কৃষকরা লালমনিরহাট-বুড়িমারী মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছেন। রোববার (৩০ নভেম্বর) দুপুর ১২টার দিকে উপজেলার অডিটরিয়াম চত্বর এলাকায় ‘মেসার্স মোর্শেদ সার ঘর’-এর সামনে কৃষকরা এই বিক্ষোভ করেন।
কৃষকরা জানান, লালমনিরহাটে সবচেয়ে বেশি ভুট্টার চাষ হয় হাতীবান্ধা উপজেলায়। ভুট্টার চাষের মৌসুম শুরু হলেও প্রয়োজনীয় সার যথাযথ পরিমাণে না পাওয়ায় তারা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। উপজেলা সদরে বিএডিসি ও বিসিআইসির পরিবেশক ‘মেসার্স মোর্শেদ সার ঘর’ থেকে সার বিক্রি করা হলেও কয়েকদিন ধরে কৃষকরা সারের জন্য তাড়াহুড়ো করছেন। বিক্রয়কেন্দ্র জানিয়েছিল রোববার সকালে সিংগিমারী ইউনিয়নের কৃষকদের কাছে সার বিক্রি করা হবে।
সেই খবর শুনে সকাল থেকেই সিংগিমারী ইউনিয়নের কৃষকরা বিক্রয় পয়েন্টে ভিড় জমান। কিন্তু সেখানে তাদের চাহিদা মতো সার না দিয়ে হঠাৎ বিক্রয়কেন্দ্র বন্ধ করে দেওয়া হয়, যা নিয়ে কৃষকরা ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তাদের অবরোধের কারণে লালমনিরহাট-বুড়িমারী মহাসড়কের দুই পাশের যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।
হাতীবান্ধা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শামীম মিঞা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। কৃষক সামাদ মিয়া জানান, তার দুই বিঘা জমির জন্য ইউরিয়া সার প্রয়োজন, যা পাচ্ছেন না। অন্য কৃষক সামসুল মিয়া বলেন, এখনই সারের প্রয়োজন না হলে ভুট্টা রোপণ সম্ভব হবে না। অনেক কৃষক সার না পাওয়ায় উদ্বিগ্ন।
কৃষকরা অভিযোগ করেন, সার সরবরাহের অভাবে কিছু ডিলার সার বাজারে বেশি দামে বিক্রি করছেন এবং কালোবাজার করে অবৈধ লেনদেন চালাচ্ছেন। তারা দুর্নীতিবাজ ডিলার ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের অপসারণ দাবি করেছেন। মেসার্স মোর্শেদ সার ঘরের স্বত্বাধিকারী মঞ্জুর মোর্শেদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও পাওয়া যায়নি।
লালমনিরহাট কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শাইখুল আরেফিন বলেন, জেলায় সারের কোনো সংকট নেই এবং পর্যাপ্ত মজুদ রয়েছে। মাসের শেষ হওয়ায় সাময়িক এই সমস্যা দেখা দিতে পারে। পরবর্তী মাসের বরাদ্দ আসার পর সরবরাহ স্বাভাবিক হবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শামীম মিঞা জানিয়েছেন, সারের মজুদ ও বিক্রির হিসাব নেওয়া হচ্ছে। কোনো গড়মিল পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।