বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া চিকিৎসা গ্রহণ করতে পারছেন বলে জানিয়েছেন তার ব্যক্তিগত চিকিৎসক ও দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন। একইসঙ্গে তিনি খালেদা জিয়ার চিকিৎসা নিয়ে গুজবে কান না দেওয়ারও অনুরোধ জানিয়েছেন।
মঙ্গলবার (২ ডিসেম্বর) রাজধানীর বসুন্ধরায় এভারকেয়ার হাসপাতালের মূল ফটকের সামনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ডা. জাহিদ হোসেন এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, খালেদা জিয়ার চিকিৎসা স্থিতিশীল অবস্থায় চলছে এবং মেডিকেল বোর্ড রোগীর স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও চিকিৎসা নিয়ন্ত্রণে রেখেছে।
২৩ নভেম্বর থেকে খালেদা জিয়া এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। সেখানে পরীক্ষা-নিরীক্ষায় ফুসফুসে সংক্রমণ ধরা পড়ে। পরবর্তীতে তার অবস্থা সংকটময় হওয়ায় ২৭ নভেম্বর থেকে তাকে ক্রিটিক্যাল কেয়ার ইউনিটে (সিসিইউ) স্থানান্তর করা হয়। দেশের অভিজ্ঞ চিকিৎসকসহ বিদেশি বিশেষজ্ঞরা অধ্যাপক শাহাবুদ্দিন তালুকদারের নেতৃত্বে তার চিকিৎসায় যুক্ত রয়েছেন।
হাসপাতালের নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। মূল ফটকের সামনে দুই পাশে ব্যারিকেড বসানো হয়েছে এবং পুলিশ সদস্যরা মোতায়েন রয়েছেন। হাসপাতালের আশেপাশে অনুমোদিত ব্যক্তিরা ছাড়া অন্যদের ভিড় করতে দেওয়া হচ্ছে না। পুলিশের উপস্থিতি রোগী ও তাদের পরিবারের নির্বিঘ্ন চলাচল নিশ্চিত করতে এবং খালেদা জিয়ার নিরাপত্তা জোরদার করতে রাখা হয়েছে।
পুলিশ সূত্র জানায়, গত রাত ২টার দিকে হাসপাতালের প্রধান ফটকের সামনে ব্যারিকেড বসানো হয়। হাসপাতালে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করার উদ্দেশ্য হলো রোগীর স্বাচ্ছন্দ্য ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
ডা. জাহিদ হোসেন সংবাদ সম্মেলনে বলেন, খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য নিয়ে গুজব এবং কল্পিত খবর থেকে জনসাধারণকে বিরত থাকতে হবে। তিনি স্পষ্ট করেছেন, খালেদা জিয়ার চিকিৎসা যথাযথভাবে চলছে এবং প্রতিদিন নিয়মিত পর্যবেক্ষণ ও সেবা দেওয়া হচ্ছে।
এর পাশাপাশি সাংবাদিকদের উপস্থিতিতে তিনি জানান, দেশের বাইরে বা সামাজিক মাধ্যমে রোগীর স্বাস্থ্য নিয়ে ভিত্তিহীন তথ্য ছড়ানো থেকে বিরত থাকতে হবে। এতে রোগী ও পরিবারের সদস্যদের মানসিক চাপ বৃদ্ধি পেতে পারে।
এদিকে, হাসপাতালের নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার রাখার পাশাপাশি চিকিৎসক ও মেডিকেল বোর্ড রোগীর স্বাস্থ্য পরিস্থিতি মনিটর করছেন। রোগীর অবস্থার উন্নতি ও সঠিক চিকিৎসা নিশ্চিত করতে সব ধরনের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।