ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  রবিবার, ০১ নভেম্বর ২০২৬,  ১৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
পোশাকশ্রমিকদের আন্দোলন সামলাতে জরুরি বৈঠকে বসছেন প্রধানমন্ত্রী আরব উপসাগরে কাতারের এলএনজি ট্যাংকারে হামলা তাহসিফের সঙ্গে বারে দেখা যাওয়া জেরিকা দিশা ৪ দিনের রিমান্ডে ডেঙ্গুতে আরও ৮ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ১৯২৯ ৪৮ শতাংশ শিক্ষার্থীর মৌলিক জ্ঞান অর্জন হলো না কেন, দায় কার? হাম ও হামের উপসর্গে দেশে মোট মৃত্যু বেড়ে ১২৫৪ প্রধানমন্ত্রীর নজরে টাঙ্গাইলের বাবুপুরের মাঠ: যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর যুগান্তকারী ঘোষণা মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে ২৬টি মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ও স্থাপনা ধ্বংস করেছে ইরান মাদারীপুরে জামায়াত নেতার ঘর-বাড়ি গুঁড়িয়ে দিয়েছে বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী একজন ৫টির বেশি অটোরিকশার মালিক হতে পারবেন না: প্রতিমন্ত্রী শাহে আলম

খালেদা জিয়ার চিকিৎসক জাহিদ

সমন্বিত মতামতের পরই লন্ডনে নেওয়ার সিদ্ধান্ত


খালেদা জিয়ার চিকিৎসক জাহিদ

  • আপলোড সময় : মঙ্গলবার ০২ ডিসেম্বর, ২০২৫ সময় : ৪:৫১ পিএম

বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে বিদেশে নেওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করতে মেডিক্যাল বোর্ডের সমন্বিত মতামত নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন তাঁর ব্যক্তিগত চিকিৎসক ও দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন। তিনি জানান, খালেদা জিয়ার সার্বিক শারীরিক অবস্থা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণে রেখেছেন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা এবং বিদেশে স্থানান্তরের জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতিও রাখা হয়েছে। তবে রোগীর বর্তমান অবস্থা, পরীক্ষার রিপোর্ট এবং মেডিক্যাল বোর্ডের সুপারিশ ছাড়া কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে না।

মঙ্গলবার (২ ডিসেম্বর) দুপুরে এভারকেয়ার হাসপাতালের সামনে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে ডা. জাহিদ বলেন, খালেদা জিয়াকে বিদেশে নেওয়ার মতো পরিস্থিতি আছে কিনা, সে বিষয়ে মেডিক্যাল বোর্ডের মতামতই সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ। আজ যুক্তরাজ্য থেকে আসা বিশেষজ্ঞরাও তাঁকে দেখবেন। তাঁদের পর্যবেক্ষণ যুক্ত হওয়ার পর সম্মিলিতভাবে সিদ্ধান্ত হবে লন্ডনে নেওয়া প্রয়োজন কি না।

তিনি আরও বলেন, “আমরা সব ধরনের প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছি। তবে রোগীর অবস্থা একটি সংকটময় স্তরে রয়েছে। তাই চিকিৎসকদের পরামর্শ ছাড়া কোনো পদক্ষেপ নেওয়ার সুযোগ নেই। দেশবাসীর দোয়ার কারণেই হয়তো তিনি সুস্থ হয়ে উঠবেন—এই আশাই রাখছি।”

গত ২৩ নভেম্বর রাত ৮টার দিকে বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ভর্তি হওয়ার পর থেকেই তিনি অধ্যাপক শাহাবুদ্দিন তালুকদারের তত্ত্বাবধানে চিকিৎসা নিচ্ছেন। ইতোমধ্যে করা বিভিন্ন পরীক্ষার রিপোর্টে দেখা গেছে, তাঁর ফুসফুস ও হৃদ্‌যন্ত্রে ইনফেকশন রয়েছে। ফলে অক্সিজেন সাপোর্টসহ উচ্চমাত্রার চিকিৎসা চলছে।

চিকিৎসায় নিয়োজিত মেডিক্যাল বোর্ডে রয়েছেন অধ্যাপক ডা. শাহাবুদ্দিন তালুকদার ছাড়াও অধ্যাপক এফএস সিদ্দিকী, ডা. জাফর ইকবাল, ডা. জিয়াউল হক, ডা. মামুন আহমেদ এবং অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সাইফুল ইসলাম। বোর্ডের সদস্যরা পর্যায়ক্রমে তাঁর শারীরিক অবস্থার মূল্যায়ন করছেন।

ডা. জাহিদ হোসেন জানান, খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা জটিল হলেও প্রত্যাশা হারিয়ে ফেলেনি চিকিৎসক দল। বিদেশে নেওয়ার সিদ্ধান্ত হলে তা দ্রুত বাস্তবায়ন করার সক্ষমতা আমাদের রয়েছে। তবে প্রতিটি পদক্ষেপ হতে হবে চিকিৎসক-নির্ভর।

তিনি বলেন, আজ যুক্তরাজ্য থেকে যে বিশেষজ্ঞরা আসছেন, তাঁরা তাঁর বর্তমান অবস্থা মূল্যায়ন করে গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ দেবেন। তাঁদের মতামত যুক্ত হওয়ায় সিদ্ধান্ত গ্রহণ আরও নির্ভুল হবে।

বর্তমানে হাই-ডিপেনডেন্সি সাপোর্টেই রাখা হয়েছে খালেদা জিয়াকে। হৃদযন্ত্র ও ফুসফুসে সংক্রমণ থাকায় দীর্ঘ পর্যবেক্ষণ প্রয়োজন হতে পারে বলে জানিয়েছে হাসপাতাল সূত্র। দিন দিন শ্বাসকষ্ট বেড়ে যাওয়ায় আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ডা. জাহিদ সাংবাদিকদের উদ্দেশে বলেন, এটি অত্যন্ত সংবেদনশীল সময়। রোগীর শারীরিক অবস্থার উন্নতির জন্য সবার দোয়া প্রয়োজন।

আকাশজমিন / আরআর 


এ সম্পর্কিত আরো খবর