ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
‘ট্রফি চোর’ অপবাদ মাথায় নিয়ে শান্ত মেজাজে মাঠ ছাড়লেন নাকভি ২৩ বছরের খরা কাটল না আমেরিকার, ইউএস ওপেনের ট্রফি জভেরেভের হাতে পুরুষদের পর মেয়েরাও বর্জন করল নাকভিকে, দুবাইতে আবারও ট্রফি নাটক রাজধানীর বেসরকারি হাসপাতালে শিশু মৃত্যুর পর তুলকালাম বিশ্বের দূষিত বায়ুর তালিকায় শীর্ষে সিঙ্গাপুর সিটি,ঢাকা ষষ্ঠ আসিফ মাহমুদের আমলের সব নিয়োগ ও পদোন্নতির নথি এখন দুদকে পঞ্চগড়ে বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষ: আহত ১৫, ২ ঘণ্টা মহাসড়ক অবরুদ্ধ অল্পের জন্য বাঁচলেন আন্তর্জাতিক নেতারা ৩৬ ঘণ্টা পর নিহত বাংলাদেশি যুবকের মরদেহ ফেরত দিলো বিএসএফ শত কোটি টাকার সম্পদ, রিট ফাইল চেপে রাখা ও প্রশাসনের নীরবতার অভিযোগ

সরকারি আইন অমান্য করে ভাড়া বাসায় প্রাইভেট পড়ানোর অভিযোগ


  • আপলোড সময় : বুধবার ০৩ ডিসেম্বর, ২০২৫ সময় : ৬:৪৮ পিএম

নড়াইল প্রতিনিধি

নড়াইল সরকারি মহিলা কলেজের শিক্ষক মন্নু বিশ্বাসের বিরুদ্ধে সরকারি আইন অমান্য করে নিজ বাসায় কলেজের শতাধিক ছাত্রীকে প্রাইভেট পড়ানোর অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা জানান, মন্নু বিশ্বাস মাসিক প্রতিটি শিক্ষার্থীর কাছ থেকে ৮০০ টাকা করে নেন, যা সরকারি বিধিমালা এবং কোচিং সেন্টার আইন পরিপন্থী। এর ফলে তার মাসিক আয় দাঁড়ায় প্রায় এক লাখ ষাট হাজার টাকা। তবে এই আয় থেকে ট্যাক্স দেয় কি না এবং সম্পদ বিবরণীতে উল্লেখ করে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।

সাংবাদিকরা মন্নু বিশ্বাসের ভাড়া বাসায় গেলে তিনি সাংবাদিকদের দেখে হুমকি দেন। পড়ুয়ারা জানান, সপ্তাহে তিন দিন তিনি আইসিটি বিষয়ক প্রাইভেট ক্লাস নেন এবং মাসিক ভাড়া হিসেবে ৮০০ টাকা গ্রহণ করেন।

দুর্গাপুর গ্রামের অভিভাবক এস কে জালাল বলেন, কলেজ শিক্ষকদের কাছ থেকে এক মাসের এ্যাডভান্স দিতে হয় এবং প্রাইভেট পড়ানো বন্ধ করলে নানা রকম হয়রানির শিকার হতে হয়। মন্নু বিশ্বাসের বিরুদ্ধে পূর্বেও পাবলিক পরীক্ষায় পরীক্ষার্থীদের ভয়ভীতি প্রদর্শন ও খাতা আটকে রাখাসহ নানা অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া তার স্ত্রীর অনার্স পরীক্ষার সময় নিজ পদার্থবিদ্যা ল্যাবে নকল সরবরাহের অভিযোগও রয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন শিক্ষক বলেন, মন্নু বিশ্বাস ও কয়েকজন সিন্ডিকেট গড়ে দীর্ঘ ১০ বছর ধরে প্রাইভেট ব্যবসায় লিপ্ত আছেন। তার নেতিবাচক আচরণের কারণে আইসিটি বিভাগের কিছু শিক্ষক কলেজ ছেড়ে গেছেন।

অভিযুক্ত শিক্ষক মন্নু বিশ্বাস ১০০ জনের বেশি ছাত্রীকে বাসায় পড়ানো স্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, সাবেক অধ্যক্ষ ও অভিভাবকদের অনুরোধে তিনি বাসায় পড়ান।

কর্মচারীরা জানান, মন্নু বিশ্বাস ২০২৫ সালের আগস্ট পর্যন্ত আইসিটি ব্যবহারিক পরীক্ষার নামে ছাত্রীদের কাছ থেকে নিয়মবিরুদ্ধ টাকা আদায় করেছেন।

বিগত সরকারের আমলে মন্নু বিশ্বাস সরকারি কর্মকর্তাদের সহায়তায় সিনিয়র শিক্ষক অপহরণ, শারীরিক নির্যাতন ও চাঁদা আদায়ের ঘটনায় জড়িয়ে পড়েছিলেন। অভিযোগ স্বীকার করে তিনি কয়েকজন সহযোগীর নাম প্রকাশ করেছেন এবং থানায় মুচলেকা দিয়ে টাকা ফেরত দিয়েছেন।

মন্নু বিশ্বাস সিন্ডিকেট ব্যবহার করে সহকর্মী ও প্রশাসনকে হয়রানি করেন। একজন শিক্ষক ও বিসিএস ক্যাডার হিসেবে এসব কর্মকান্ড সরকারি কর্মচারী আচরণ বিধিমালা লঙ্ঘন।

নড়াইল সরকারি মহিলা কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মোঃ আকবর আহমেদ মন্তব্য করতে রাজি হননি। জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ আব্দুল সালাম বলেন, সরকারি নিয়ম অমান্য করলে সংশ্লিষ্টের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আকাশজমিন / আরআর 


এ সম্পর্কিত আরো খবর