ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
শত কোটি টাকার সম্পদ, রিট ফাইল চেপে রাখা ও প্রশাসনের নীরবতার অভিযোগ রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়ন ও চাঁদাবাজি কঠোর হাতে দমন করা হবে: আইনমন্ত্রী ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের নতুন অধ্যায় চায় বাংলাদেশ: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ডেঙ্গুতে আরও ৬ প্রাণহানি, এক দিনে হাসপাতালে ১৫৬১ জন ভর্তি গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা জোরদার করতে হবে: রাষ্ট্রপতি আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে ১১ হাজার কোটি টাকা পাচারের অভিযোগ: দুদক ‘বারবার মিথ্যা মামলা না দিয়ে আমাকে একবারে গুলি করে মেরে ফেলেন’ ২১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্র সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশে নতুন গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধানে বিনিয়োগে আগ্রহী মার্কিন কোম্পানি শেভরন পাবনায় ডিবির ওসির প্রত্যাহারে সাংবাদিকদের ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম

রাজশাহীতে সারজিস আলমকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা


  • আপলোড সময় : শনিবার ০৬ ডিসেম্বর, ২০২৫ সময় : ৩:২৭ পিএম

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) রাজশাহী জেলা ও মহানগর কমিটিকে ঘিরে চলমান টানাপোড়েন আবারও নতুন মাত্রা পেয়েছে। এরই মধ্যে দলের উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলমকে রাজশাহীতে ‘অবাঞ্ছিত’ ঘোষণা করেছে এনসিপির স্থানীয় একাংশ। শুক্রবার (৫ ডিসেম্বর) রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে এ ঘোষণা দেন এনসিপির জেলা সমন্বয় কমিটির সাবেক সদস্য মোতালেব হোসেন।

ফেসবুক স্ট্যাটাসে মোতালেব হোসেন দাবি করেন, রাজশাহী জেলার আহ্বায়ক সাইফুল ইসলামকে দল থেকে বহিষ্কার না করার কারণেই তারা সারজিস আলমকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করতে বাধ্য হয়েছেন। গত ২৯ নভেম্বর এনসিপির কেন্দ্রীয় কমিটি সাইফুল ইসলামকে আহ্বায়ক করে রাজশাহী জেলা কমিটি ঘোষণা দেয়। এরপর থেকেই দলের একটি অংশ তাকে ‘আওয়ামী দোসর’ আখ্যা দিয়ে বিরোধিতা শুরু করে এবং কমিটির বৈধতা প্রশ্নবিদ্ধ করে আসছে।

মোতালেব হোসেনের অভিযোগ, সাইফুল ইসলামকে এনসিপিতে যুক্ত করেছেন রাজশাহী বিভাগের সংগঠক ইমরান ইমন, যাঁর সঙ্গে সারজিস আলমের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। বিষয়টি তিনি সারজিস আলমকে জানানোর পরও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে দাবি করেন তিনি। এর পরিপ্রেক্ষিতে সারজিস আলমের বিরুদ্ধে স্থানীয়ভাবে অসন্তোষ চরমে পৌঁছেছে বলে মন্তব্য করেন মোতালেব।

তিনি তার স্ট্যাটাসে আরও লেখেন, রাজশাহীর রাজনৈতিক মাটিতে সারজিস আলমকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করা হলো। পাশাপাশি তিনি সতর্ক করে বলেন, সাইফুল ইসলামের বিরুদ্ধে দলীয়ভাবে ব্যবস্থা না নিলে রাজশাহী জেলায় পুরো এনসিপিকেই অবাঞ্ছিত ঘোষণা করা হবে। এতে দলীয় সংকট আরও গভীর হতে পারে বলে ধারণা রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের।

এনসিপির স্থানীয় নেতাদের একাংশ মনে করেন, কমিটি ঘোষণায় কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত ঠিকভাবে অনুসরণ করা হয়নি এবং কিছু ব্যক্তিগত সম্পর্ক ও স্বার্থের কারণে অযোগ্য ও বিতর্কিত ব্যক্তি কমিটিতে জায়গা পেয়ে গেছেন। এতে দলীয় কর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে এবং সংগঠনের কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।

অন্যদিকে, সাইফুল ইসলামকে আহ্বায়ক করার সিদ্ধান্ত সমর্থনকারী অংশ বলছে, কেন্দ্রীয় কমিটির অনুমোদিত সিদ্ধান্ত মানা বাধ্যতামূলক। কেন্দ্রের সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করা দলীয় শৃঙ্খলার পরিপন্থী। তবে এসব বিষয়ে সারজিস আলম বা কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য দেয়নি।

রাজশাহীতে এনসিপির এই অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব দলটির সাংগঠনিক শক্তির ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। দলীয় নেতারা সতর্ক করে বলছেন, এ ধরনের টানাপোড়েন চলতে থাকলে জাতীয় পর্যায়েও এর বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে। স্থানীয় পর্যায়ে সিদ্ধান্ত নিয়ে দলকে বিভক্ত করার অভিযোগও উঠেছে।

এদিকে সারজিস আলমকে ‘অবাঞ্ছিত’ ঘোষণা স্থানীয় রাজনীতিতে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দলের ভেতরকার অস্বচ্ছ নেতৃত্ব, অভ্যন্তরীণ সমন্বয়ের ঘাটতি এবং ব্যক্তিগত আনুগত্যকে কেন্দ্র করে সৃষ্টি হওয়া অস্থিরতা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।

রাজনীতিতে ‘অবাঞ্ছিত’ ঘোষণা সাধারণত গভীর অসন্তোষের বহিঃপ্রকাশ। এনসিপির রাজশাহীর সাম্প্রতিক ঘোষণায় স্পষ্ট যে দলটি সংগঠন পরিচালনায় বড় সংকটে রয়েছে এবং কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব দ্রুত উদ্যোগ না নিলে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে।

ঢাকা টুডে / আরজে 


এ সম্পর্কিত আরো খবর