বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের গাইবান্ধা জেলা শাখার আহ্বায়ক মাসুদ রানা, সদস্যসচিব বায়োজীদ বোস্তামী জ্বীমসহ ছয় নেতাকে কারণ দর্শানোর (শোকজ) নোটিশ দিয়েছে সংগঠনের কেন্দ্রীয় কমিটি। রোববার সংগঠনের কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক শাহাদাত হোসেন স্বাক্ষরিত পৃথক নোটিশের মাধ্যমে এই সিদ্ধান্ত জানানো হয়। নোটিশে বলা হয়, গাইবান্ধায় একটি রাজনৈতিক দলের কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট বিশৃঙ্খলার ঘটনায় সংশ্লিষ্ট নেতাদের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে, যা সংগঠনের ভাবমূর্তিকে ক্ষুণ্ন করেছে।
শোকজ নোটিশ পাওয়া ছয় নেতার মধ্যে আছেন আহ্বায়ক মাসুদ রানা, সদস্যসচিব বায়োজীদ বোস্তামী জ্বীম, যুগ্ম আহ্বায়ক মেহেদী হাসান, যুগ্ম আহ্বায়ক শাকিল শেখ, সংগঠক অতনু সাহা এবং মেহজাবিন জ্বীম। প্রত্যেককে পাঠানো নোটিশে বলা হয়, ৫ ডিসেম্বর গাইবান্ধা জেলায় একটি রাজনৈতিক দলের কমিটিকে কেন্দ্র করে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টির অভিযোগ কেন্দ্রীয় কমিটির নজরে এসেছে। অভিযোগে বলা হয়, এই ঘটনাগুলো সংগঠনের শৃঙ্খলা, সুনাম ও জনপরিসরের ভাবমূর্তির জন্য হুমকি সৃষ্টি করেছে।
নোটিশে আরও উল্লেখ করা হয় যে, এই ঘটনার ব্যাখ্যা এবং সংশ্লিষ্ট নেতাদের বিরুদ্ধে কেন স্থায়ী সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে না, তার যুক্তিসঙ্গত ব্যাখ্যা আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে দপ্তরের মাধ্যমে সংগঠনের সভাপতি রিফাত রশিদ বরাবর পাঠাতে হবে। একই সঙ্গে পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত শোকজকৃত নেতাদের সব ধরনের সাংগঠনিক কার্যক্রম থেকে বিরত থাকতে বলা হয়েছে।
গাইবান্ধা শাখার যুগ্ম আহ্বায়ক শাকিল শেখ বলেন, তিনি ৫ ডিসেম্বরের আগেই ঢাকায় ছিলেন। তারপরও তাকে শোকজ করা হয়েছে এবং কেন্দ্রীয় পার্টি অফিসে হাজির হতে বলা হয়েছে। তার দাবি, ঘটনাটির সঙ্গে তার সরাসরি কোনো সম্পৃক্ততা নেই এবং পরিস্থিতি সম্পর্কে তিনি ঢাকায় থাকায় অবগতও ছিলেন না।
গাইবান্ধা শাখার আহ্বায়ক মাসুদ রানা নোটিশ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, আওয়ামী লীগ এবং তাদের সহযোগী জাসদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করার কারণেই শোকজ দেওয়া হয়েছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, এই নোটিশ বর্তমান গণ-অভ্যুত্থানকে অসম্মান করার শামিল এবং এটি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত একটি সিদ্ধান্ত। তিনি দাবি করেন, সাধারণ শিক্ষার্থীদের অধিকার আদায়ের আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়ায় তাদের ওপর চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে।
সংগঠনের কেন্দ্রীয় কমিটির একাধিক সূত্র জানায়, সাম্প্রতিক সময়ে জেলা পর্যায়ে সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে বিশৃঙ্খলা, কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করা, একাধিক অভ্যন্তরীণ মতানৈক্য এবং রাজনৈতিক দলের অভ্যন্তরীণ বিরোধে জড়ানোর মতো অভিযোগ কিছু নেতার বিরুদ্ধে উঠেছে। ফলে সংগঠনের শৃঙ্খলা বজায় রাখতে কঠোর অবস্থান নেওয়া হয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, গাইবান্ধা জেলা শাখায় দীর্ঘদিন ধরে নেতৃত্ববিষয়ক দ্বন্দ্ব চলছিল। বিভিন্ন কর্মসূচি পালন, সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং সংগঠনের প্রচলিত নীতিমালা অনুসরণে মতবিরোধ তৈরি হওয়ায় কেন্দ্রীয় কমিটি বেশ কিছুদিন ধরেই পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছিল। শেষপর্যন্ত অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় শোকজের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
তবে শোকজপ্রাপ্ত নেতাদের দাবি, তাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। তারা বলেন, সংগঠনের ভেতরে ভিন্নমত দমন এবং জেলা শাখায় নতুন নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করা হচ্ছে। গাইবান্ধা শাখার বেশ কয়েকজন সদস্যও শোকজকে ‘অত্যন্ত কঠোর’ সিদ্ধান্ত বলে মন্তব্য করেছেন।
এদিকে কেন্দ্রীয় কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, শোকজের জবাব পাওয়ার পর যাচাই-বাছাই করে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে। সংগঠনের কার্যক্রম যাতে সুশৃঙ্খল থাকে এবং রাজনৈতিক স্বার্থে কেউ যেন ব্যবহার করতে না পারে, সেদিকে নজর দিতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন কেন্দ্রীয় নেতারা।
আকাশজমিন / আরআর