পঞ্চগড়ে টানা তিন দিন ধরে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে স্থিতিশীল রয়েছে। ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহ থেকেই হিমেল বাতাসে শীতের তীব্রতা বেড়ে চলেছে। দিন ও রাতের তাপমাত্রার ব্যাপক পার্থক্যের কারণে শীতের অনুভূতি আরও তীব্র হয়ে উঠেছে।
সোমবার (৮ ডিসেম্বর) সকাল ৯টায় তেঁতুলিয়ায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ১০ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস, এসময় বাতাসের আর্দ্রতা ছিল ৮৪ শতাংশ। যদিও আজ ঘন কুয়াশা নেই, তবে ভোরে হালকা কুয়াশা দেখা যায়। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে রোদ উঠলেও তাতে তেমন উষ্ণতা পাওয়া যায়নি। এর আগের দিন তেঁতুলিয়ায় দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছিল ২৬ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। সপ্তাহজুড়ে দিন-রাতের এমন বড় তাপমাত্রার তারতম্যের কারণে শীতের প্রভাব আরও প্রকট হচ্ছে।
শীত বাড়ায় সাধারণ মানুষের দুর্ভোগও কয়েকগুণ বেড়েছে। অনেকেই ঠান্ডা থেকে বাঁচতে বাড়িঘর ও রাস্তার মোড়ে খড়কুটো জ্বালিয়ে শীত নিবারণের চেষ্টা করছেন। তালমা এলাকার কৃষক হাসিবুল ইসলাম জানান, ভোরে ঘন কুয়াশা না থাকলেও শীতের তীব্রতা কমেনি। সকালে সূর্যের দেখা মিললেও ঠান্ডা আরও তীব্র মনে হচ্ছিল।
তেঁতুলিয়া আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জিতেন্দ্রনাথ রায় বলেন, গত তিন দিন ধরে তাপমাত্রা ১০ ডিগ্রি ঘরেই অবস্থান করছে। ডিসেম্বরের শুরুতেই এমন অবস্থা তৈরি হওয়ায় সামনের দিনগুলোতে শৈত্যপ্রবাহ আরও জোরদার হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
শীতের কারণে বিশেষ করে কৃষক ও পথচারীদের জীবনযাত্রায় প্রভাব পড়ছে। তাঁরা খড়কুটো জ্বালানোসহ অন্যান্য উপায়ে ঠান্ডা প্রতিরোধের চেষ্টা করছেন। আবহাওয়া বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, দিন-রাতের তাপমাত্রার বড় পার্থক্য সামনের দিনগুলোতে শৈত্যপ্রবাহকে আরও প্রবল করতে পারে।
পঞ্চগড়ের স্থানীয়রা মনে করছেন, সাধারণ মানুষ শীতের কারণে নানা অসুবিধার মুখোমুখি হচ্ছে। বাড়িঘর ও স্কুল, বাজারের কার্যক্রমেও প্রভাব পড়ছে। বিশেষ করে শিশু ও বৃদ্ধরা শীতের তীব্রতা থেকে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।
আবার, তাপমাত্রা ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে নেমে গেলে আরও কঠোর সতর্কতা ও প্রস্তুতির প্রয়োজন হবে। স্থানীয় প্রশাসন ও আবহাওয়া সংস্থা সাধারণ মানুষকে শৈত্যপ্রবাহের প্রভাব থেকে সুরক্ষিত থাকার জন্য সচেতন করছে।
সার্বিকভাবে, পঞ্চগড়ে শীতের তীব্রতা বেড়ে যাওয়ায় আবহাওয়ার ওপর নজর রাখা, সঠিক সময়ের সতর্কবার্তা প্রচার এবং স্থানীয় মানুষের প্রস্তুতি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। সামনের দিনগুলোতে তাপমাত্রা ও শৈত্যপ্রবাহের পর্যবেক্ষণ চলমান থাকবে।