ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬,  ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়েতে বসছে এআই ক্যামেরা, আইন ভাঙলেই স্বয়ংক্রিয় মামলা ফ্যাসিস্টরা স্বাস্থ্যখাতকে ধ্বংস করে দিয়ে গেছে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়াতে জাপান সফরে নতুন ৪টি সমঝোতা স্মারক সই পাশাপাশি চার কবরে চিরনিদ্রায় একই পরিবারের চার সদস্য স্পেনে ভয়াবহ ট্রেন দুর্ঘটনা: নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৬৪, আহত ৮০ ঢামেকে বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্সের ধর্মঘট ৭ দিনের জন্য স্থগিত ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচন: ১৮৫ কেন্দ্রের মধ্যে ১১৫টিই অধিক ঝুঁকিপূর্ণ প্রগতির আড়ালে নৈতিক দেউলিয়া সমাজ: বিশ্ব যখন শেখায়, আমরা তখন পিছিয়ে সেঞ্চুরি থেকে মাত্র ১ রান দূরে সাদমান, প্রথম দিনে বাংলাদেশের সংগ্রহ ২১৩ স্পেনে দ্রুতগতির দুই ট্রেনের সংঘর্ষে নিহত অন্তত ৪৬

রঙের কাজ বন্ধের ঘটনায় উত্তেজনা, প্রক্টরের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ


  • আপলোড সময় : সোমবার ০৮ ডিসেম্বর, ২০২৫ সময় : ১:১২ পিএম

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের তিনটি ভবন ও একটি স্টেডিয়ামে চলমান রঙের কাজ রবিবার (৭ ডিসেম্বর) বন্ধ করে দিয়েছে ঠিকাদাররা। সরাসরি কোম্পানির মাধ্যমে কাজ করানোর কারণে তারা নিজ উদ্যোগে কাজ বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নেন। একপর্যায়ে প্রক্টরের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করার সময় চ্যানেল টোয়েন্টিফোর ও দৈনিক সোনার দেশের রাবি প্রতিনিধি সোহাগ আলীকে হেনস্থা করা হয়।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, সমাবর্তন উপলক্ষ্যে প্রশাসন ভবন ১, প্রশাসন ভবন ২, সিনেট ভবন এবং স্টেডিয়ামে বার্জার কোম্পানির মাধ্যমে রঙের কাজ চলছিল। সাধারণত নিয়মিত ঠিকাদাররা এ ধরনের কাজ করেন। কিন্তু এবারের ক্ষেত্রে সময় সীমাবদ্ধতা এবং দ্রুত কাজ শেষ করার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় সংশ্লিষ্ট কমিটি সরাসরি বার্জার কোম্পানির সঙ্গে চুক্তি করে।

নিয়মিত ঠিকাদাররা দাবি তুলেছেন, তারা সারাবছর কাজ করে থাকেন, তাই কাজটি তাদের দেওয়া উচিত। এই দাবিতে তারা বার্জার কোম্পানির কাজ বন্ধ করে দেন। পরে প্রক্টর অধ্যাপক ড. মাহবুবর রহমান তাদের সঙ্গে আলোচনা করতে গেলে কয়েকজন ঠিকাদার অসৌজন্যমূলক আচরণ শুরু করেন। সেই সময় ভিডিও করার চেষ্টা করা সাংবাদিক সোহাগ আলীকে হেনস্থা করা হয়।

প্রক্টর অধ্যাপক ড. মাহবুবর রহমান বলেন, “আলোচনার সময় উত্তেজনাকর পরিস্থিতি তৈরি হয়। কয়েকজন ঠিকাদারের জুনিয়র কর্মীরা অসৌজন্যমূলক মন্তব্য করতে থাকে। আমি একজনকে জিজ্ঞেস করি তার লাইসেন্স আছে কি না। এরপর আরও কয়েকজন উচ্চস্বরে কথা বলতে থাকে এবং অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি সৃষ্টি করে। সেখানে উপস্থিত একজন সাংবাদিকের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করা হয়। তার মোবাইল কেড়ে নেওয়া হয় এবং অবরুদ্ধ করার চেষ্টা করা হয়। আমাদের দুইজন সহকারী প্রক্টর তাকে নিরাপদে উদ্ধার করে আনে।”

ভুক্তভোগী সাংবাদিক সোহাগ আলী বলেন, “প্রক্টর দপ্তরের ভিতরেই মোবাইল ফোন কেড়ে নিয়ে আমার ওপর চড়াও হন ঠিকাদাররা। এটি স্বাধীন সাংবাদিকতার জন্য হুমকিস্বরূপ। অপরাধীদের বিচারের দাবি করছি।” সাংবাদিকদের নিরাপত্তা ও বিচারের দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের তিনটি সাংবাদিক সংগঠন — রাবি প্রেসক্লাব, রাবি রিপোর্টার্স ইউনিটি এবং রাবি সাংবাদিক সমিতি — প্রক্টরের কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন।

রঙের কাজ আগামীকাল থেকে পুনরায় শুরু হবে বলে জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দপ্তরের প্রশাসক অধ্যাপক ড. আখতার হোসেন মজুমদার। তিনি বলেন, “সমাবর্তন ১৭ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হবে। কাজ দ্রুত শেষ করতে হবে। কোম্পানির মাধ্যমে কাজ করানো হয়েছে, এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো ভুল নেই। জরুরি ও গুরুত্বপূর্ণ কাজের জন্য এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।”

সংক্ষিপ্তভাবে, সরাসরি কোম্পানির মাধ্যমে কাজ করানো, নিয়মিত ঠিকাদারদের অসন্তোষ এবং সাংবাদিককে হেনস্তার ঘটনা রাবিতে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করেছে এবং রঙের কাজ পুনরায় শুরু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

আকাশজমিন / আরআর 


এ সম্পর্কিত আরো খবর