ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়ন ও চাঁদাবাজি কঠোর হাতে দমন করা হবে: আইনমন্ত্রী ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের নতুন অধ্যায় চায় বাংলাদেশ: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ডেঙ্গুতে আরও ৬ প্রাণহানি, এক দিনে হাসপাতালে ১৫৬১ জন ভর্তি গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা জোরদার করতে হবে: রাষ্ট্রপতি আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে ১১ হাজার কোটি টাকা পাচারের অভিযোগ: দুদক ‘বারবার মিথ্যা মামলা না দিয়ে আমাকে একবারে গুলি করে মেরে ফেলেন’ ২১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্র সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশে নতুন গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধানে বিনিয়োগে আগ্রহী মার্কিন কোম্পানি শেভরন পাবনায় ডিবির ওসির প্রত্যাহারে সাংবাদিকদের ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় শক্তিশালী স্থানীয় সরকারের বিকল্প নেই: ড. আবদুল মঈন খান

লন্ডন যাচ্ছেন না খালেদা জিয়া

এয়ার অ্যাম্বুলেন্সের অনুমতি বাতিল


  • আপলোড সময় : সোমবার ০৮ ডিসেম্বর, ২০২৫ সময় : ৩:১৭ পিএম

সাবেক প্রধানমন্ত্রী এবং বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে লন্ডনে উন্নত চিকিৎসার জন্য নেওয়ার পরিকল্পনায় নতুন জটিলতা তৈরি হয়েছে। মঙ্গলবার সকাল ৮টায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে একটি এয়ার অ্যাম্বুলেন্স অবতরণের অনুমতি নিয়েছিল জার্মানভিত্তিক এফএআই এভিয়েশন গ্রুপ। তবে শেষ মুহূর্তে সেই অনুমতি বাতিল করেছে তারা। এর ফলে আপাতত লন্ডন যাচ্ছেন না বেগম খালেদা জিয়া, আর এয়ার অ্যাম্বুলেন্সও আর ঢাকায় আসছে না।

বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, এফএআই এভিয়েশন গ্রুপ স্থানীয় সমন্বয়কারী সংস্থার মাধ্যমে পূর্বের স্লট অনুমোদন প্রত্যাহারের আনুষ্ঠানিক আবেদন পাঠিয়েছে। বেবিচক সেই আবেদন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে প্রেরণ করেছে। রোববার জমা দেওয়া অপারেটরের প্রাথমিক আবেদনের ভিত্তিতে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সটি মঙ্গলবার সকাল ৮টায় অবতরণ এবং একই দিন রাত ৯টায় বেগম খালেদা জিয়াকে নিয়ে লন্ডন যাওয়ার কথা ছিল। তবে হঠাৎ অনুমতি প্রত্যাহারের ফলে পুরো প্রক্রিয়া অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে।

এয়ার অ্যাম্বুলেন্সটি কাতার সরকারের পৃষ্ঠপোষকতায় জার্মানি ভিত্তিক এফএআই এভিয়েশন গ্রুপ থেকে ভাড়া নেওয়া হয়েছিল। ব্যবহারের জন্য যে বিমানের পরিকল্পনা ছিল, সেটি বোমবার্ডিয়ার চ্যালেঞ্জার ৬০৪ মডেলের একটি বিশেষায়িত বিজনেস জেট। আন্তর্জাতিক দীর্ঘ দূরত্বের মেডিকেল ইভাকুয়েশনে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত এই মডেলটির রয়েছে উচ্চমানের ট্রান্সকন্টিনেন্টাল উড্ডয়ন সক্ষমতা, যা ঢাকা থেকে লন্ডনের মেডিকেল ট্রান্সফারের জন্য উপযোগী।

বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া দীর্ঘদিন ধরে একাধিক জটিল ও দীর্ঘস্থায়ী রোগে ভুগছেন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো লিভার সিরোসিস, হৃদরোগ, ডায়াবেটিস, আর্থ্রাইটিস (বাত), কিডনি জটিলতা এবং বয়সজনিত আরও বিভিন্ন অসুস্থতা। গত কয়েকদিন ধরে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় বিদেশে উন্নত চিকিৎসার প্রয়োজনীয়তা আরও বাড়তে থাকে। পরিবারের পক্ষ থেকে তাকে দ্রুত বিদেশে নেওয়ার প্রস্তুতি নেওয়া হলেও যথাসময়ে এয়ার অ্যাম্বুলেন্স না আসায় পরিকল্পনা বাস্তবায়নে নতুন বাধা তৈরি হলো।

২৩ নভেম্বর রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করার পর বেগম খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটে। চিকিৎসকরা জানান, তার লিভারজনিত জটিলতা ও অন্যান্য শারীরিক সমস্যা গুরুতর আকার ধারণ করে। অবস্থার অবনতি হওয়ায় ২৭ নভেম্বর তাকে হাসপাতালের সিসিইউতে স্থানান্তর করা হয়। বর্তমানে দেশি ও বিদেশি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের সমন্বয়ে গঠিত মেডিকেল বোর্ডের নিবিড় পর্যবেক্ষণে তিনি চিকিৎসাধীন আছেন। চিকিৎসকদের ভাষায়, তিনি “অত্যন্ত সংকটাপন্ন” অবস্থার মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন।

তার শারীরিক অবস্থা বিবেচনায় জরুরি ভিত্তিতে লন্ডনে স্থানান্তর অত্যন্ত প্রয়োজন বলে চিকিৎসক ও পরিবার মনে করছে। তবে এয়ার অ্যাম্বুলেন্স অনুমতি বাতিল হওয়ায় নতুন করে কবে নাগাদ তাকে বিদেশ নেওয়া সম্ভব হবে তা স্পষ্ট নয়। পরিস্থিতি পর্যালোচনায় পরিবার, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছে। নতুন এয়ার অ্যাম্বুলেন্স ব্যবস্থা বা আগের আবেদন পুনর্বিবেচনা—যে কোনো একটি সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত বিদেশে নেওয়ার প্রক্রিয়া স্থগিত থাকবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

আকাশজমিন / আরআর 


এ সম্পর্কিত আরো খবর