হত্যা প্রতিরোধে কোনো ম্যাজিক বা সুইচ অন–অফের মতো আয়োজন নেই বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী। আজ সোমবার সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আইনশৃঙ্খলাসংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে তিনি এ মন্তব্য করেন। এ সময় তিনি স্পষ্টভাবে জানান, হঠাৎ করে সব অপরাধ বন্ধ করে দেওয়ার মতো কোনো জাদুকরী ব্যবস্থা রাষ্ট্রের হাতে নেই। থাকলে তিনি নিজেই তা ব্যবহার করতেন।
রংপুরে মুক্তিযোদ্ধা ও তাঁর স্ত্রী হত্যাকাণ্ড প্রসঙ্গে সাংবাদিকরা জানতে চাইলে তিনি বলেন, নির্বাচন সামনে বলে এ ধরনের হত্যাকাণ্ড ঘটছে—এমন ভাবার সুযোগ নেই। নির্বাচনের আগেও বিভিন্ন সময় এ ধরনের অপরাধ ঘটেছে। উপদেষ্টার ভাষায়, “নির্বাচনের আগে এগুলো সব বন্ধ হয়ে যাবে তা-ও বলতে পারছি না। যদি আমার কাছে কোনো ম্যাজিক থাকত বা সুইচ অন–অফ থাকত, আমি বন্ধ করে দিতাম। কিন্তু আমার কাছে তেমন কোনো সুইচ নেই।”
সাম্প্রতিক ওই হত্যাকাণ্ড নিয়ে উপদেষ্টা আরও বলেন, নিহত দম্পতির এক সন্তান পুলিশ এবং আরেকজন র্যাবে কর্মরত। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে দ্রুত অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, সরকার যেকোনো অপরাধের তদন্তে আন্তরিক এবং ঘটনার তদন্তে কোনো ধরণের শৈথিল্য দেখানো হবে না।
জাতীয় নির্বাচনে নিরাপত্তা ও অবকাঠামো–সম্পর্কিত প্রস্তুতির বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জানান, নির্বাচনের দিন প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে যেন নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ থাকে সে বিষয়ে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। যদি কোথাও বিদ্যুৎ না থাকে, সেখানে বিকল্প ব্যবস্থার প্রস্তুতি রাখতে স্থানীয় প্রশাসনকে বলা হয়েছে। তিনি বলেন, “নির্বাচনের প্রস্তুতি ভালো। সব বাহিনী প্রশিক্ষণ চালিয়ে যাচ্ছে। আমরা নিজেরা প্রশিক্ষণের মান দেখতে যাব। জানুয়ারির মধ্যে এসব প্রশিক্ষণ শেষ হবে।”
সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ নিয়ে প্রশ্ন উঠলে তিনি জানান, নির্বাচনকে অবাধ ও উৎসবমুখর করতে প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষকারী বাহিনীর কার্যক্রম আরও স্বচ্ছ করতে বডি ক্যামেরা কেনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি। উপদেষ্টা বলেন, “নির্বাচনে বডি ক্যামেরা থাকবে, যাতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে স্বচ্ছতা বজায় থাকে।”
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, নির্বাচন নিয়ে মানুষের সন্দেহ দূর করা যাচ্ছে না শুধুমাত্র গণমাধ্যমের কারণে। তিনি বলেন, “আপনারাই প্রচার করেন যে নির্বাচন হবে কি হবে না। আপনারা বললে জনগণের সন্দেহ কমবে। আপনাদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ।”
সর্বশেষে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জোর দিয়ে বলেন, অপরাধ দমন একটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়া। হঠাৎ কোনো ঘটনার জন্য পুরো আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থাকে দায়ী করা ঠিক নয়। সরকার সব ধরনের অপরাধ নিয়ন্ত্রণে সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে এবং জনগণের সহযোগিতা ছাড়া এ কাজ সহজ নয় বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
আকাশজমিন / আরআর