মোঃ রফিকুল ইসলাম , মোহনগঞ্জ,নেত্রকোনা
নেত্রকোনার মোহনগঞ্জ পৌরশহরে গড়ে উঠছে একাধিক পতিতালয়, যেখানে নিয়মিত চলছে অসামাজিক কার্যকলাপ, মাদকসেবন এবং বখাটেদের রাতভর আড্ডা। এসব কারণে এলাকার সাধারণ মানুষ চরমভাবে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন। বহুদিন ধরেই প্রভাবশালীদের ছত্রছায়ায় এ কার্যকলাপ চললেও প্রশাসন বা স্থানীয় পুলিশ তেমন কোনো উদ্যোগ নেয়নি বলে অভিযোগ করেছে এলাকাবাসী।
অবশেষে এসব অসামাজিক কর্মকাণ্ডের প্রতিকার চেয়ে শহরের ৮০ জন বাসিন্দা স্বাক্ষরিত একটি অভিযোগপত্র জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে জমা দিয়েছেন। একইসঙ্গে অভিযোগপত্রের অনুলিপি জেলা প্রশাসক, সংশ্লিষ্ট থানার ওসি এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার দপ্তরে পাঠানো হয়েছে। অভিযোগকারী বাসিন্দারা জানিয়েছেন, নিরাপদ ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে বসবাস করার স্বার্থে এসব অনৈতিক কার্যকলাপ বন্ধে দ্রুত কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।
অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, পৌরশহরের আল-মবিন রোডের একটি বাসায় সাফিয়া আক্তার নামে এক নারী দুই থেকে তিন বছর ধরে বসবাস করছেন। এলাকাবাসীর দাবি, সেই বাসায় দিন-রাত চলে অসামাজিক কার্যকলাপ এবং মাদকসেবীদের আড্ডা। এসব কারণে রাত হলেই এলাকায় অস্বস্তিকর পরিবেশ সৃষ্টি হয়। বখাটেদের উপস্থিতি বৃদ্ধি পাওয়ায় নারী ও শিশুদের চলাফেরায়ও অনিরাপত্তা তৈরি হয়েছে।
এ ছাড়া থানার পূর্বপাশে আমেনা নামের আরেক নারী দীর্ঘদিন ধরে একই ধরনের অসামাজিক কার্যকলাপ পরিচালনা করছেন বলেও অভিযোগে উল্লেখ রয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, এসব কর্মকাণ্ডের কারণে সম্মানিত পরিবারগুলো দীর্ঘদিন ধরে লজ্জা ও ভয়ের মধ্যে জীবনযাপন করতে বাধ্য হচ্ছে এবং পুরো এলাকার পরিবেশ নষ্ট হয়ে গেছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বিভিন্ন সময়ে এসব নারীর বিরুদ্ধে পুলিশ ব্যবস্থা নিলেও তাঁরা গ্রেপ্তার হওয়ার পর জামিনে বের হয়ে আগের চেয়ে আরও বেপরোয়া হয়ে কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। এতে করে এলাকার যুব সমাজ নানাভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং অপরাধ প্রবণতা বাড়ছে।
এ বিষয়ে মোহনগঞ্জ থানার ওসির দায়িত্বে থাকা পরিদর্শক (তদন্ত) মো. শফিকুজ্জামান বলেন, “অভিযোগ পেয়েছি। দ্রুত এ বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়া হবে।” তিনি আরও জানান, এ ধরনের অসামাজিক কর্মকাণ্ড দমনে পুলিশের পক্ষ থেকে নিয়মিত নজরদারি বাড়ানো হবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আমেনা খাতুন বলেন, “অভিযোগ পেয়েছি। পুলিশ প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলে যৌথভাবে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” তিনি নিশ্চিত করেন যে, প্রশাসনের কঠোর অবস্থান এলাকার পরিবেশ স্বাভাবিক করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
জেলা পুলিশের মুখপাত্র অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) হাফিজুল ইসলাম বলেন, “অভিযোগ তদন্ত করে ব্যবস্থা নিতে থানা পুলিশকে নির্দেশ দেওয়া হবে।” তিনি জানান, যেকোনো ধরনের অসামাজিক কার্যকলাপ বন্ধে জেলা পুলিশ কঠোর।
জেলা প্রশাসক মো. সাইফুর রহমান বলেন, “সংশ্লিষ্ট ইউএনওর সঙ্গে কথা বলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।” এলাকাবাসীর আশা, প্রশাসনের সমন্বিত পদক্ষেপের ফলে অবশেষে এ ধরনের অসামাজিক কার্যক্রম বন্ধ হবে এবং বাসিন্দারা নিরাপদে বসবাস করতে পারবেন।