নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার তারাবো পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের রসুলপুর এলাকায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে অশালীন মন্তব্যকে কেন্দ্র করে দুই গ্রুপের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে গুলিবিদ্ধসহ পাঁচজন আহত হয়েছেন। গত ৭ ডিসেম্বর রোববার রাত ২টার দিকে এ সংঘর্ষের ঘটনাটি ঘটে। হঠাৎ রাতের নীরবতা ভেঙে গুলির শব্দে পুরো এলাকা আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রসুলপুর এলাকার সুজাত আলীর ছেলে সাকিবুল হাসান গত সপ্তাহে রূপগঞ্জ মানবাধিকার সংস্থার সদস্য পদে নির্বাচিত হন। এ উপলক্ষে তিনি তাঁর ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডিতে একটি পোস্ট দেন। সেই পোস্টে একই এলাকার আবু দায়েন প্রধানের ছেলে মাহিম অশালীন মন্তব্য করেন। মন্তব্যটি নিয়ে প্রথমে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উত্তপ্ত আলোচনা শুরু হয়। পরে বিষয়টি বাড়াবাড়ির পর্যায়ে পৌঁছালে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
গত রোববার রাত ১১টার দিকে সাকিবুল হাসান ও মাহিমের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে ধাক্কাধাক্কির ঘটনাও ঘটে। স্থানীয়রা মধ্যস্থতা করে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করলেও উত্তেজনা থামেনি। এরপর রাত ২টার দিকে দুই পক্ষের লোকজন পিস্তল ও দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। সংঘর্ষে গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটে, একাধিক বাড়িঘর ভাঙচুর ও লুটপাট হয়।
সংঘর্ষে শহিদুল ইসলাম (২০) গুলিবিদ্ধ হন। তাঁকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করে দ্রুত ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। এ ছাড়া আরও চারজন আহত হন। আহতদের মধ্যে সাকিবুল হাসান (২২), মাহিম (২৪), সাইফুল ইসলাম (২৫) এবং রাকিবুল ইসলাম (২৪) — তাঁদেরকে ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আহতদের মধ্যে কিছুজনের অবস্থা গুরুতর বলে জানা গেছে।
ঘটনার পরপরই রূপগঞ্জ থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে তিন রাউন্ড গুলির খোসা উদ্ধার করেছে। সংঘর্ষের কারণে এলাকায় কিছু সময় আতঙ্কের সৃষ্টি হলেও বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। স্থানীয়রা জানান, কয়েক মাস ধরে এলাকায় আধিপত্য ও বিভিন্ন বিষয়ে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা বাড়ছিল। ফেসবুকের মন্তব্যকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষটি বড় আকার ধারণ করে।
রূপগঞ্জ থানা ওসি মোহাম্মদ তরিকুল ইসলাম বলেন, “পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। তিন রাউন্ড গুলির খোসা উদ্ধার করা হয়েছে। পরিস্থিতি এখন স্বাভাবিক। এ ঘটনায় পৃথক দুইটি মামলার প্রস্তুতি চলছে।” তিনি আরও বলেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উসকানিমূলক মন্তব্য কিংবা পোস্ট থেকে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়া প্রতিরোধে পুলিশ সতর্ক অবস্থায় রয়েছে।
এ ঘটনার পর এলাকায় টহল জোরদার করা হয়েছে। স্থানীয়রা জানান, এ ধরনের সংঘর্ষ ভবিষ্যতে যাতে না ঘটে, সে বিষয়ে পুলিশের পাশাপাশি জনপ্রতিনিধিদেরও ভূমিকা রাখা প্রয়োজন। অন্যথায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের ক্ষুদ্র উত্তেজনা বড় ধরনের সহিংসতার রূপ নিতে পারে।
আকাশজমিন / আরআর