ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  সোমবার, ২৭ Jul ২০২৬,  ১১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
রপ্তানি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য ১৫ শতাংশ, আয় হতে পারে ৬৩.৪ বিলিয়ন ডলার রাজধানীতে ১৮ মন্ত্রী চলবেন এসকর্ট ছাড়া, বহাল থাকছে ৭ জনের সুবিধা সাতক্ষীরায় অপরিকল্পিত মৎস্য ঘের: পানিবন্দী হাজারও মানুষ, সড়ক-শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্লাবিত সাতক্ষীরার তিন হাসপাতালে হঠাৎ স্বাস্থ্যমন্ত্রী, অনুপস্থিত দুই চিকিৎসকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টেস্ট দল ঘোষণা, নেই নাহিদ-লিটন সেনা কর্মকর্তাদের পদোন্নতি হোক মেধা ও যোগ্যতায়: প্রধানমন্ত্রী হামের উপসর্গে আরও ৪ শিশুর মৃত্যু, আক্রান্ত ১১৬০ জামায়াত জোট ছাড়ার গুঞ্জন নাকচ করল নেজামে ইসলাম চলনবিলে অবাধে ব্যবহার হচ্ছে নিষিদ্ধ চায়নাদুয়ারী জাল লক্ষ্মীপুরে উৎসবমুখর পরিবেশে ধারণ হলো ‘ইত্যাদি’র বিশেষ পর্ব

৯ ডিসেম্বর নকলা পাকিস্তানি হানাদার মুক্ত দিবস


  • আপলোড সময় : সোমবার ০৮ ডিসেম্বর, ২০২৫ সময় : ৯:৪৭ পিএম

নকলা (শেরপুর) প্রতিনিধি:

৯ ডিসেম্বর নকলা পাকিস্তানি হানাদার মুক্ত দিবস হিসেবে উদযাপিত হয়। ১৯৭১ সালের এই দিনে স্বাধীনতা যুদ্ধে দেশরত মুক্তিযোদ্ধারা ভারতীয় মিত্র বাহিনীর সহযোগিতায় সশস্ত্র ও রক্তক্ষয়ী লড়াইয়ের মাধ্যমে শেরপুরের নকলা অঞ্চলকে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী থেকে মুক্ত করেছিলেন। এই ঐতিহাসিক বিজয়ী দিনটিকে স্মরণ করে প্রতি বছর নকলা অঞ্চলে নানা কর্মসূচীর মাধ্যমে দিবসটি পালিত হয়ে আসছে।

মুক্তিযুদ্ধের ১১ নম্বর সেক্টরের আওতাধীন এই নকলা অঞ্চলের মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনা করেন মেজর রিয়াজ, যিনি পাকবাহিনীর হেডকোয়ার্টার হিসেবে ব্যবহৃত আহম্মদ আলী উচ্চ বিদ্যালয়ের দায়িত্বে ছিলেন। মুক্তিবাহিনীর গুরুদায়িত্বে ছিলেন এম. হামিদুল্লাহ ও ল্যাফটেনেন্ট কর্নেল আবু তাহের।

হানাদার বাহিনী নকলায় আক্রমণ চালিয়ে হাজার হাজার মানুষকে গৃহহীন করে, ঘরবাড়ি পুড়িয়ে দিয়েছে। মুক্তিকামী যুবকদের হত্যা করা হয় এবং ১৯ জন বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ হন। তবে ভারতীয় মিত্রবাহিনী ও স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় হানাদার বাহিনীকে পরাজিত করে মুক্তি নিশ্চিত করা সম্ভব হয়।

মিত্রবাহিনীর মেজর বানাজিত শিং ত্যাগী ও ব্রিগেডিয়ার সানাতন শিংয়ের নেতৃত্বে, কোম্পানী কমান্ডার আব্দুল হক চৌধুরীর তত্ত্বাবধানে এবং টু-আইসি আব্দুর রশিদ ও সিকিউরিটি কর্মকর্তা একলিম শাহসহ প্রায় ৩০০ মুক্তিযোদ্ধা সম্মুখ যুদ্ধে অংশ নেন। লড়াই শেষে ১৩০ জন হানাদার ও বদররা বন্দি হন। পরদিন ১১৭ জন রাজাকার ও বদর ১১০টি অস্ত্রসহ আত্মসমর্পণ করেন।

মুক্তির আনন্দে ৯ ডিসেম্বর সকাল ১১টায় নকলা পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাধীন বাংলাদেশের মানচিত্র আঁকা জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়। অনুষ্ঠানে ভারতীয় মিত্রবাহিনীর মেজর বানাজিত শিং ত্যাগী, ল্যাফটেনেন্ট কর্নেল আবু তাহের, কোম্পানী কমান্ডার আব্দুল হক চৌধুরী, গিয়াস উদ্দিন, ইপিআর ও বিভিন্ন এলাকার প্লাটুন কমান্ডাররা উপস্থিত ছিলেন। এসময় হাজারো মুক্তিকামী সাধারণ মানুষও উপস্থিত ছিলেন।

২০২৩ সাল পর্যন্ত নকলায় প্রতিবছর উপজেলা প্রশাসন ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দল দিবসটি যথাযথ মর্যাদায় পালন করত। উপজেলা প্রশাসন, মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, মুক্তিযোদ্ধা সন্তান সংসদ, ‘আমরা মুক্তিযোদ্ধার সন্তান’, বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুর রাজ্জাক কমান্ডার স্মৃতি সংসদ, প্রেস ক্লাবসহ বিভিন্ন সংগঠন এদিন নানা কর্মসূচি পালন করে থাকে। কিন্তু এবছর নানা কারণে এসব আয়োজন হয়নি বলে জানা গেছে।

আকাশজমিন / আরআর 


এ সম্পর্কিত আরো খবর