নকলা (শেরপুর) প্রতিনিধি:
মুক্তিযুদ্ধের ১১ নম্বর সেক্টরের আওতাধীন এই নকলা অঞ্চলের মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনা করেন মেজর রিয়াজ, যিনি পাকবাহিনীর হেডকোয়ার্টার হিসেবে ব্যবহৃত আহম্মদ আলী উচ্চ বিদ্যালয়ের দায়িত্বে ছিলেন। মুক্তিবাহিনীর গুরুদায়িত্বে ছিলেন এম. হামিদুল্লাহ ও ল্যাফটেনেন্ট কর্নেল আবু তাহের।
হানাদার বাহিনী নকলায় আক্রমণ চালিয়ে হাজার হাজার মানুষকে গৃহহীন করে, ঘরবাড়ি পুড়িয়ে দিয়েছে। মুক্তিকামী যুবকদের হত্যা করা হয় এবং ১৯ জন বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ হন। তবে ভারতীয় মিত্রবাহিনী ও স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় হানাদার বাহিনীকে পরাজিত করে মুক্তি নিশ্চিত করা সম্ভব হয়।
মিত্রবাহিনীর মেজর বানাজিত শিং ত্যাগী ও ব্রিগেডিয়ার সানাতন শিংয়ের নেতৃত্বে, কোম্পানী কমান্ডার আব্দুল হক চৌধুরীর তত্ত্বাবধানে এবং টু-আইসি আব্দুর রশিদ ও সিকিউরিটি কর্মকর্তা একলিম শাহসহ প্রায় ৩০০ মুক্তিযোদ্ধা সম্মুখ যুদ্ধে অংশ নেন। লড়াই শেষে ১৩০ জন হানাদার ও বদররা বন্দি হন। পরদিন ১১৭ জন রাজাকার ও বদর ১১০টি অস্ত্রসহ আত্মসমর্পণ করেন।
মুক্তির আনন্দে ৯ ডিসেম্বর সকাল ১১টায় নকলা পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাধীন বাংলাদেশের মানচিত্র আঁকা জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়। অনুষ্ঠানে ভারতীয় মিত্রবাহিনীর মেজর বানাজিত শিং ত্যাগী, ল্যাফটেনেন্ট কর্নেল আবু তাহের, কোম্পানী কমান্ডার আব্দুল হক চৌধুরী, গিয়াস উদ্দিন, ইপিআর ও বিভিন্ন এলাকার প্লাটুন কমান্ডাররা উপস্থিত ছিলেন। এসময় হাজারো মুক্তিকামী সাধারণ মানুষও উপস্থিত ছিলেন।
২০২৩ সাল পর্যন্ত নকলায় প্রতিবছর উপজেলা প্রশাসন ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দল দিবসটি যথাযথ মর্যাদায় পালন করত। উপজেলা প্রশাসন, মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, মুক্তিযোদ্ধা সন্তান সংসদ, ‘আমরা মুক্তিযোদ্ধার সন্তান’, বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুর রাজ্জাক কমান্ডার স্মৃতি সংসদ, প্রেস ক্লাবসহ বিভিন্ন সংগঠন এদিন নানা কর্মসূচি পালন করে থাকে। কিন্তু এবছর নানা কারণে এসব আয়োজন হয়নি বলে জানা গেছে।
আকাশজমিন / আরআর