জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের প্রথম শহীদ রংপুর বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) শিক্ষার্থী আবু সাঈদ হত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় নতুন একটি সেফ হাউসের তথ্য দিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ। মঙ্গলবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেলের সামনে তিনি জবানবন্দি প্রদান করেন। এ মামলায় বেরোবির সাবেক ভিসি হাসিবুর রশীদসহ ৩০ জন আসামি রয়েছেন।
জবানবন্দি শেষে প্রেস ব্রিফিংয়ে হাসনাত আবদুল্লাহ জানান, ২০২৪ সালের ১৬ জুলাই সারাদেশে ছাত্র-জনতার বিক্ষোভ মিছিলে আবু সাঈদ অংশ নেন এবং ওই দিন রংপুরে তাকে গুলি করে হত্যা করা হয়। একইদিন চট্টগ্রামে ওয়াসিমকে ছাত্রলীগ হত্যা করে বলে তিনি দাবি করেন। ওইদিন মোট ছয়জন শিক্ষার্থী শহীদ হন। এই হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে ১৭ জুলাই গায়েবানা জানাজার আয়োজন করতে গেলে গোয়েন্দা সংস্থা চাপ প্রয়োগ করে। রাতে তাকে বাসা থেকে তুলে নিয়ে পদ্মায় নেওয়া হয় এবং কর্মসূচি প্রত্যাহারের জন্য নানা প্রকার চাপ প্রয়োগ করা হয়।
তিনি বলেন, ‘‘আমাদের মন্ত্রীদের সঙ্গে বৈঠকে বসানোর চেষ্টা করা হয়। আমরা বৈঠক প্রত্যাখ্যান করি। একপর্যায়ে আমাদের সামনে দিয়েই তিনজন মন্ত্রী বের হয়ে যান। অর্থাৎ আমাদের সাথে কোনো বৈঠক হয়নি।’’
হাসনাত আরও বলেন, বৈঠক করাতে ব্যর্থ হয়ে সেদিন রাতে তাকে মৎস্য ভবনের সামনে অবস্থিত একটি সেফ হাউসে নেওয়া হয়। এই জায়গাটি বাইরে থেকে পরিত্যক্ত মনে হলেও ভিতরে আধুনিক সুবিধা ছিল। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভাষায় যাকে ‘সেফ হাউস’ বলা হয়। সেখানে তাকে রাতভর জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় এবং শারীরিক-মানসিক চাপ দেওয়া হয়। পরিবারের সদস্যদের জিম্মি অবস্থায় রাখা হয় এবং স্থানীয়ভাবে ছাত্রলীগের মাধ্যমে পরিবারকে হেনস্তা করা হয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, ‘‘সেদিন সকালে এজেন্সির একজন আমাদের হুমকি দিয়ে বলে—আমরা যেন বৈঠক করে সারা দেশের সামনে ঘোষণা দিই যে আন্দোলন প্রত্যাহার করেছি। তাহলে আমাদের ‘লাইফ সেটেল’ করে দেওয়া হবে। কিন্তু আমরা রাজি হইনি।’’
মঙ্গলবার বেলা সোয়া ১১টায় তার সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়। দুপুর দেড়টায় বিরতি দেওয়া হয় এবং পরে প্রেস ব্রিফিং করেন তিনি। দুপুর আড়াইটায় পুনরায় তার বাকি সাক্ষ্য গ্রহণ শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। হাসনাত আবদুল্লাহ জুলাই আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক হিসেবেও পরিচিত।
এ মামলায় প্রসিকিউশনের পক্ষে শুনানি করেন প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম। তার সঙ্গে ছিলেন প্রসিকিউটর মঈনুল করিম, আবদুস সাত্তার পালোয়ানসহ অন্যান্য আইনজীবী।
আকাশজমিন / আরআর