ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
অঙ্গ পাচার চক্রের হাত থেকে ফিরল লোহাগাড়ার রায়হান ডিএমপির ৩ সহকারী পুলিশ কমিশনারকে নতুন পদে বদলি মধ্যপ্রাচ্যে উত্তাপ: বিশ্ববাজারে তেলের দাম ছাড়াল ১০৭ ডলার হরমুজে নতুন নৌপথ: ওমানের আঞ্চলিক বৈঠক স্থগিত দেশে ফিরে ইতালিতে হামলার বিরুদ্ধে মুখ খুললেন অভিনেত্রী বাঁধন ব্রিকসে বিশ্বনেতাদের দেওয়া হলো নিরামিষ খাবার: বিজেপি-কংগ্রেস তুমুল বিতর্ক সারাদেশে ঘরে ঘরে জ্বর: ডেঙ্গু ও হামের সঙ্গে বাড়ছে টাইফয়েড ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধ হলেই কি থামবে মধ্যপ্রাচ্যের ইরান যুদ্ধ? ‘ট্রফি চোর’ অপবাদ মাথায় নিয়ে শান্ত মেজাজে মাঠ ছাড়লেন নাকভি ২৩ বছরের খরা কাটল না আমেরিকার, ইউএস ওপেনের ট্রফি জভেরেভের হাতে

নড়াইলে রোগীর পেটে গজ রেখে সেলাই: ক্লিনিক সিলগালা


  • আপলোড সময় : বুধবার ১০ ডিসেম্বর, ২০২৫ সময় : ৯:৫১ পিএম

নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলায় রোগীর পেটে গজ রেখে সেলাই দেওয়ার অভিযোগে মোর্শেদা সার্জিক্যাল ক্লিনিকের অপারেশন থিয়েটার সিলগালা এবং সব কার্যক্রম বন্ধের নির্দেশ দিয়েছে উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগ। বুধবার (১০ ডিসেম্বর) দুপুরে সিএন্ডবি চৌরাস্তায় অবস্থিত এই ক্লিনিকটিতে অভিযান চালানো হয়।

অভিযানের নেতৃত্ব দেন লোহাগড়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আবুল হাসনাত। তিনি অপারেশন থিয়েটার সিলগালা এবং পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত ক্লিনিকের সব কার্যক্রম বন্ধ রাখার নির্দেশ দেন। এ সময় ইপিআই প্রকল্পের প্রধান সমন্বয়কারী প্রসান্ত ঘোষ, প্রশাসনিক কর্মকর্তা এবং লোহাগড়া উপজেলা ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক অনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক রাজু আহমেদ বাপ্পিসহ অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন।

ডা. আবুল হাসনাত বলেন, “অভিযোগের ভিত্তিতে মোর্শেদা সার্জিক্যাল ক্লিনিক পরিদর্শন করি। এ সময় নানা অনিয়ম চোখে পড়ে। এর মধ্যে রয়েছে—ক্লিনিকের কোনো বৈধ লাইসেন্স নেই, সার্বক্ষণিক চিকিৎসক নেই, ডিপ্লোমাধারী সেবিকা নেই এবং অপারেশন কক্ষে প্রয়োজনীয় সুরক্ষা ব্যবস্থা নেই। এসব অনিয়মের কারণে ক্লিনিকের সব কার্যক্রম বন্ধ করা হয়েছে। একই সঙ্গে অভিযুক্ত চিকিৎসককে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত অপারেশন কার্যক্রম থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।”

লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, লোহাগড়া উপজেলার ইতনা ইউনিয়নের দক্ষিণ পাংখারচর গ্রামের শওকত মোল্যার স্ত্রী বাকপ্রতিবন্ধী সুমি খানম সন্তানসম্ভবা হওয়ায় গত ২২ নভেম্বর ভোরে মোর্শেদা সার্জিক্যাল ক্লিনিকে ভর্তি হন। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক নেওয়াজ মোর্শেদ, আল খাদিজা সম্পা, ক্লিনিক মালিক জাকির হোসেন, ম্যানেজার সুমন ও সেবিকা সাবিনা তাকে সিজারিয়ান অপারেশনের পরামর্শ দেন।

১৩ হাজার টাকায় চুক্তির ভিত্তিতে সিজারিয়ান অপারেশন করা হয় এবং সুমি একটি কন্যাসন্তানের জন্ম দেন। কিন্তু অপারেশনের পর সুমির পেট ফুলে যায় এবং তিনি সার্বক্ষণিক অসুস্থ অনুভব করেন। পরিবারের অভিযোগ—দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসকরা বিষয়টি জানালে তারা জানান, “রোগীর গ্যাসের সমস্যা।” পরে ২৭ নভেম্বর তাকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়।

ছাড়পত্র পাওয়ার পর রোগীর অবস্থা আরও খারাপ হতে থাকে। গত ৪ ডিসেম্বর একজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের কাছে নেওয়া হলে তিনি দ্রুত খুলনা মেডিকেলে নেওয়ার পরামর্শ দেন। পরে ৭ ডিসেম্বর খুলনা গাজী মেডিকেলে নেওয়া হলে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর চিকিৎসকরা জানান, সিজারিয়ান অপারেশনের সময় রোগীর নাড়ি কেটে যায় এবং সেটি গজ দিয়ে চেপে সেলাই করা হয়। এতে ওই জায়গায় পচন ধরে ভয়াবহ জটিলতা দেখা দেয়।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত হওয়ার পর ৯ ডিসেম্বর রোগী সুমির ফুফাতো ভাই কাজী ইয়াজুর রহমান বাবু সিভিল সার্জন, নড়াইল বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক ও ক্লিনিক ব্যবস্থাপনার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়।

এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। তারা বলেন, লাইসেন্সবিহীন ক্লিনিকগুলো স্বাস্থ্যসেবার নামে প্রতারণা করছে। জাইলের এই অনিয়ম বন্ধ ও দোষীদের কঠোর শাস্তির দাবি জানান তারা।


এ সম্পর্কিত আরো খবর