তাড়াইল-করিমগঞ্জের বিভিন্ন ইউনিয়ন প্রদক্ষিণ করা এই শোডাউনে শত শত মোটরসাইকেল, নেতাকর্মীদের স্লোগান, ব্যানার-ফেস্টুন এবং মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ পুরো এলাকাকে উৎসবের নগরীতে পরিণত করে। সড়কের দুই পাশে দাঁড়ানো স্থানীয় বাসিন্দা, পথচারী ও যানবাহনের চালকরা হাত নাড়িয়ে শোডাউনকে অভিনন্দন জানান। নির্বাচনী মাঠে হাতপাখা প্রতীকের প্রতি সাধারণ মানুষের আগ্রহ শোডাউনটিকে আরও প্রাণবন্ত করে তোলে।
মোটরসাইকেল শোডাউনে উপস্থিত ছিলেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ তাড়াইল উপজেলা শাখার সভাপতি মাওলানা এনামুল হক (বড় হুজুর), সহ-সভাপতি মাওলানা আব্দুর রউফ, সেক্রেটারি হাফেজ মাওলানা শেখ মুহাম্মাদ সাইফুল ইসলাম। এছাড়া ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশ কিশোরগঞ্জ জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মাদ শহিদুল ইসলাম ভূঁইয়াসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা অংশ নেন।
স্থানীয় রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, কিশোরগঞ্জ-৩ আসনে নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বিতা এখন আরও প্রাণবন্ত। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের তৃণমূলের অবস্থান এবং তাড়াইল-করিমগঞ্জ এলাকায় দলটির ক্রমবর্ধমান জনপ্রিয়তা এবার ভিন্ন বাস্তবতা তৈরি করতে পারে। তাদের মতে, দিনব্যাপী এই মহাসমাবেশ শুধু শক্তি-প্রদর্শন নয়; বরং হাতপাখা প্রতীকের পক্ষে জনমত তৈরির এক গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত।
এলাকার সাধারণ মানুষও শোডাউন নিয়ে নানা প্রতিক্রিয়া জানাচ্ছেন। কেউ কেউ মনে করছেন, আলমগীর হোসাইন তালুকদার মাঠে নেমে যে অবস্থান দেখালেন, তাতে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরাও চাপের মুখে পড়বেন। অন্যদিকে অনেকে আবার বলছেন, ইসলামী আন্দোলনের ধারাবাহিক সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড ও জনগণের সাথে নিবিড় যোগাযোগ তাদের অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করছে।
শোডাউন শেষে দলীয় নেতারা জানান, করিমগঞ্জ-তাড়াইলের প্রতিটি ইউনিয়ন, প্রতিটি ওয়ার্ডে হাতপাখার পক্ষে গণজাগরণ তৈরি করা হবে। নির্বাচনী প্রচারণার অংশ হিসেবে সামনে আরও বড় আয়োজন থাকবে বলেও জানান তারা।
দিনব্যাপী এই শোডাউন শুধু রাস্তায় মোটরসাইকেলের বিশাল বহর নয়, বরং আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে হাতপাখা প্রতীকের প্রতি মানুষের প্রত্যাশা ও সমর্থনের প্রতিফলন হিসেবেই দেখছেন অনেকেই। নির্বাচনের আর মাত্র কয়েক সপ্তাহ বাকি থাকায় কিশোরগঞ্জ-৩ আসনে রাজনৈতিক তৎপরতা আরও জোরদার হবে—এমনটাই ধারণা স্থানীয়দের।
আকাশজমিন / আরআর