ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  রবিবার, ০১ নভেম্বর ২০২৬,  ১৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
মাদারীপুরে জামায়াত নেতার ঘর-বাড়ি গুঁড়িয়ে দিয়েছে বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী একজন ৫টির বেশি অটোরিকশার মালিক হতে পারবেন না: প্রতিমন্ত্রী শাহে আলম মিরপুরে পুলিশের গাড়িতে আগুন, নেভাতে গিয়ে হামলার শিকার ফায়ার সার্ভিস রাহুল গান্ধীর নেতৃত্বে ইন্ডিয়া জোটের দিল্লি পদযাত্রা, পাল্টা র‍্যালি বিজেপির ৭০০ ই-রিকশার মধ্যে ৫টির বৈধ নিবন্ধন পাবেন গোলাম পরওয়ার: প্রতিমন্ত্রী বন্ধ হওয়া তিন স্টেশন চালুর পর মেট্রোরেল চলাচল স্বাভাবিক সাভার ও গাজীপুরে পোশাকশ্রমিকদের বিক্ষোভ, অন্তত ৮০ কারখানায় ছুটি তাহসিফের সঙ্গে থাকা তরুণী দিশা গ্রেপ্তার শ্রমিকদের সরিয়ে নেওয়া হয়েছে, যান চলাচল স্বাভাবিক: ডিএমপি ১৩ সিটি করপোরেশনে ই-রিকশার নিবন্ধন শুরু সোমবার: মীর শাহে আলম

জামায়াতে যোগ দিলেন মেজর (অব.) আক্তারুজ্জামান


  • আপলোড সময় : শনিবার ১৩ ডিসেম্বর, ২০২৫ সময় : ৭:৩০ পিএম

কটিয়াদী (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধিঃ

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীতে যোগ দিয়েছেন বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য ও বীর মুক্তিযোদ্ধা মেজর (অব.) আক্তারুজ্জামান।  শনিবার (১৩ ডিসেম্বর) সকালে রাজধানীর মগবাজারে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দলের আমির ডা. শফিকুর রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ শেষে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে দলটিতে যোগদান করেন।

জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় প্রচার বিভাগের পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়, সাক্ষাৎকালে জামায়াত আমিরের উপস্থিতিতে মেজর (অব.) আক্তারুজ্জামান সংগঠনের নীতি ও আদর্শ, দেশপ্রেম এবং দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় জামায়াতে ইসলামীর অবস্থানের প্রতি গভীর আস্থা প্রকাশ করেন। পরে তিনি সংগঠনের প্রাথমিক সহযোগী সদস্য ফরম পূরণ করে আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীতে যোগ দেন।

প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়, মেজর আক্তারুজ্জামান ইসলাম ও ইসলামী মূল্যবোধ, দেশের স্বার্থ এবং স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষায় অবশিষ্ট জীবন অতিবাহিত করার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। একই সঙ্গে তিনি জামায়াতে ইসলামীর নিয়ম-নীতি, আদর্শ, দলীয় শৃঙ্খলা ও আনুগত্যের প্রতি অনুগত থাকার অঙ্গীকার করেন। এ সময় জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান তাকে আন্তরিকভাবে আলিঙ্গন করেন এবং তার দীর্ঘ নেক হায়াত কামনা করেন।

জামায়াতে যোগদানের বিষয়ে গণমাধ্যমকে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে মেজর (অব.) আক্তারুজ্জামান বলেন, “আমি জামায়াতে যোগ দিয়েছি, তবে জাতীয় নির্বাচনে অংশ নেব না। তারেক রহমান বলেছেন জামায়াত লক্ষ লক্ষ মানুষ হত্যা করেছে। তার এই বক্তব্যের কারণেই আমি জামায়াতে যোগ দিয়েছি। যারা এত লোক মারতে পারে, তারাই তো শক্তিশালী—তাদের পাশে থাকা দরকার মনে করেছি।”

 এ খবর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী–পাকুন্দিয়া এলাকায় বিষয়টি নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। কেউ কেউ বিষয়টিকে ব্যক্তিগত রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ কেউ এ বক্তব্য ও সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন।

 কটিয়াদী উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির অধ্যাপক মোজাম্মেল হক বলেন,“আমরা কেন্দ্রীয় সূত্রে নিশ্চিত হয়েছি যে মেজর (অব.) আক্তারুজ্জামান জামায়াতে ইসলামীতে যোগদান করেছেন। বিষয়টি আমাদের জন্য একটি রাজনৈতিক বাস্তবতা।” অন্যদিকে, কটিয়াদী উপজেলা বিএনপির এক নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন,“তিনি দীর্ঘদিন বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। বিতর্কিত ভূমিকার কারণে একাধিকবার বহিষ্কৃতও হয়েছেন। দলে ফেরার সম্ভাবনা না পেয়ে হয়তো তিনি জামায়াতে যোগ দিয়েছেন।” আরেক বিএনপি নেতা জানান,“কটিয়াদী–পাকুন্দিয়া এলাকায় অনেক বহিষ্কৃত নেতার বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করে দলে ফিরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

এক পর্যায়ে মেজর আক্তারুজ্জামানকেও ফেরানো যেত।” উল্লেখ্য, মেজর (অব.) আক্তারুজ্জামান বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধের একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা, প্রবীণ রাজনীতিবিদ এবং বিভিন্ন গণতান্ত্রিক আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী ব্যক্তিত্ব। স্বাধীনতার পর থেকে তিনি রাজনীতি ও সমাজকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে আসছেন। তিনি বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর একজন অবসরপ্রাপ্ত মেজর এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) থেকে দুইবার কিশোরগঞ্জ-২ (কটিয়াদী–পাকুন্দিয়া) আসন থেকে জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। মুক্তিযোদ্ধাদের মর্যাদা ও ন্যায্য অধিকার আদায়ে তিনি এখনো সক্রিয় রয়েছেন।

জামায়াতে যোগদান প্রসঙ্গে মেজর আক্তারুজ্জামানের দেওয়া বক্তব্য রাজনৈতিকভাবে সবচেয়ে বেশি আলোচিত হয়েছে। বিশেষ করে তারেক রহমানের একটি বক্তব্যকে কেন্দ্র করে জামায়াতে যোগদানের যুক্তি তুলে ধরা রাজনৈতিক শিষ্টাচার ও নৈতিকতার প্রশ্ন উত্থাপন করেছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই বক্তব্য ব্যক্তিগত ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ নাকি রাজনৈতিক কৌশল—তা স্পষ্ট নয়, তবে এটি উভয় দলের নেতাকর্মীদের মধ্যেই অস্বস্তি সৃষ্টি করেছে।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সাবেক বিএনপি এমপির জামায়াতে যোগদান দলটির জন্য প্রতীকী গুরুত্ব বহন করে। বিশেষ করে জামায়াত দীর্ঘদিন ধরে মুক্তিযুদ্ধবিরোধী অপপ্রচারের মুখে থাকায় একজন মুক্তিযোদ্ধার যুক্ত হওয়া তাদের রাজনৈতিক বয়ানকে নতুন মাত্রা দিতে পারে। তবে বিতর্কিত বক্তব্য ও অতীত রাজনৈতিক অবস্থান জামায়াতের জন্য স্বস্তির পরিবর্তে নতুন বিতর্কও তৈরি করতে পারে বলে মনে করছেন কেউ কেউ। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত কটিয়াদী–পাকুন্দিয়া এলাকার বিভিন্ন জনসাধারণের  মিশ্র প্রতিক্রিয়া  অব্যাহত রয়েছে।

আকাশজমিন / আরআর


এ সম্পর্কিত আরো খবর