নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে শনিবার (১৩ ডিসেম্বর) যথাযোগ্য মর্যাদা ও উৎসবমুখর পরিবেশে রূপগঞ্জ মুক্ত দিবস উদযাপন করা হয়েছে। দিনব্যাপী কর্মসূচির মধ্যে ছিল জাতীয় পতাকা উত্তোলন, বর্ণাঢ্য আনন্দ শোভাযাত্রা, স্মৃতিচারণ এবং আলোচনা সভা।
সকালে উপজেলা পরিষদ চত্বরে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে কর্মসূচির সূচনা হয়। এরপর মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্বুদ্ধ একটি বর্ণাঢ্য আনন্দ শোভাযাত্রা বের করা হয়। শোভাযাত্রাটি বাদ্যযন্ত্রের তালে তালে উপজেলা কমপ্লেক্সের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে। এতে মুক্তিযোদ্ধা, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী, বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের সদস্য এবং নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশগ্রহণ করেন।
শোভাযাত্রা শেষে রূপগঞ্জ উপজেলা মিলনায়তনে স্মৃতিচারণ ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন রূপগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ সাইফুল ইসলাম। আলোচনা সভায় মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস, রূপগঞ্জের মুক্তিযুদ্ধকালীন ঘটনাপ্রবাহ এবং মুক্তিযোদ্ধাদের আত্মত্যাগের বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়।
সভায় বক্তব্য রাখেন পূর্বাচল রাজস্ব সার্কেলের সহকারী কমিশনার (ভূমি) ফরিদ আল সোহান, রূপগঞ্জ উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা শাহজাদা ভুঁইয়া, যুগ্ম আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা চান মিয়া, বীর মুক্তিযোদ্ধা গোলাম কাদের, বীর মুক্তিযোদ্ধা সোনামিয়া, বীর মুক্তিযোদ্ধা ফজলুল করিম, বীর মুক্তিযোদ্ধা আলাউদ্দিন ভুঁইয়া এবং বীর মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউল হক প্রমুখ।
বক্তারা বলেন, রূপগঞ্জ মুক্ত দিবস শুধু একটি দিবস নয়, এটি স্বাধীনতা সংগ্রামের গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাসের স্মারক। ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে রূপগঞ্জের মুক্তিযোদ্ধা ও সাধারণ মানুষ জীবন বাজি রেখে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিলেন। তাদের আত্মত্যাগের ফলেই আজকের স্বাধীন বাংলাদেশ।
বক্তারা আরও বলেন, নতুন প্রজন্মের কাছে মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস তুলে ধরা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। মুক্তিযোদ্ধাদের আদর্শ ধারণ করে দেশ গঠনে সবাইকে ভূমিকা রাখতে হবে। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়নের মধ্য দিয়েই স্বাধীনতার প্রকৃত মর্যাদা রক্ষা সম্ভব।
উল্লেখ্য, ১৯৭১ সালের ১৩ ডিসেম্বর রাজধানী ঢাকার উপকণ্ঠ রূপগঞ্জ উপজেলা পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী থেকে মুক্ত হয়। ওই দিন মুক্তিযোদ্ধা ও এলাকাবাসীর তুমুল প্রতিরোধের মুখে পাকহানাদার বাহিনী এক রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের পর রূপগঞ্জ এলাকা ছেড়ে পার্শ্ববর্তী কুমিল্লা জেলা ও ঢাকার অভিমুখে পালিয়ে যায়। এর মধ্য দিয়ে রূপগঞ্জ হানাদারমুক্ত হয় এবং স্বাধীনতার আলো ছড়িয়ে পড়ে পুরো এলাকায়।
রূপগঞ্জ মুক্ত দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী, মুক্তিযোদ্ধা, রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ এবং সাধারণ মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেন।
আকাশজমিন / আরআর