ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় শক্তিশালী স্থানীয় সরকারের বিকল্প নেই: ড. আবদুল মঈন খান স্থানীয় সরকার নির্বাচনে শিক্ষাগত যোগ্যতার বাধ্যবাধকতা নেই: মীর শাহে আলম দুপুরের মধ্যেই বিদ্যুৎ পাচ্ছে বাংলাদেশ: কমবে লোডশেডিং এমপিও শিক্ষকদের নির্বাচন ভাগ্য নির্ধারণ করবে ইসি: মীর শাহে আলম সরকারি কেনাকাটায় পুকুরচুরি ঠেকাতে আসছে অভিন্ন একক দরতালিকা সাগর-রুনি হত্যার বিচার চেয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে লিখিত অভিযোগ তারুণ্য না অভিজ্ঞতা: ছাত্রদলের নতুন নেতৃত্ব চয়নে জটিল হিসাব-নিকাশ আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধের প্রজ্ঞাপন চ্যালেঞ্জের রিট খারিজ হাইকোর্টে ইন্দোনেশিয়ায় ২৪০ যাত্রী নিয়ে জাহাজ নিখোঁজ ঠাকুরগাঁও সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি নিহত, আটক ২

শহীদ মাসুদ রানা স্মরণে পরিবারের আহাজারি


  • আপলোড সময় : সোমবার ১৫ ডিসেম্বর, ২০২৫ সময় : ৩:৪৫ পিএম

সুদানে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে মাত্র এক মাস আট দিন আগে যোগ দিয়েছিলেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর কর্পোরাল মাসুদ রানা। বুকভরা স্বপ্ন ছিল, মিশন শেষে দেশে ফিরে বাবার পৈতৃক ভিটায় একটি আধুনিক বাড়ি গড়ে তোলা। কিন্তু সেই স্বপ্ন আর পূরণ হয়নি। সন্ত্রাসীদের হামলায় বিদেশের মাটিতেই নিভে গেছে তার জীবন। সঙ্গে চুরমার হয়ে গেছে পরিবারের সব আশা-আকাঙ্ক্ষা।

শনিবার (১৩ ডিসেম্বর) সুদানের আবেই এলাকায় জাতিসংঘের একটি ঘাঁটিতে সন্ত্রাসীদের অতর্কিত হামলায় শহীদ হন কর্পোরাল মাসুদ রানা। তিনি নাটোরের লালপুর উপজেলার আরবাব ইউনিয়নের বোয়ালিয়াপাড়া গ্রামের মৃত সাহার উদ্দিনের বড় ছেলে। তার শহীদের খবরে গ্রামজুড়ে নেমে এসেছে শোকের ছায়া।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, ২০০৬ সালে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে যোগ দেওয়ার পর থেকেই সংসারের হাল ধরেন মাসুদ রানা। নিজের শখ-আহ্লাদ বিসর্জন দিয়ে তিনি ছোট দুই ভাই মনিরুল ইসলাম ও রনি আলমকে বড় করেছেন। সংসারের দায়িত্ব কাঁধে নিয়েই তিনি দীর্ঘদিন ধরে পৈতৃক ভিটায় একটি আধুনিক বাড়ি নির্মাণের স্বপ্ন দেখতেন।

সর্বশেষ যশোর ক্যান্টনমেন্টে কর্মরত অবস্থায় সুদানে শান্তিরক্ষা মিশনে যাওয়ার সুযোগ পেয়ে নতুন করে আশায় বুক বাঁধেন মাসুদ। পরিকল্পনা ছিল, মিশন শেষে দেশে ফিরে পরিবারের সব অভাব ঘুচবে এবং স্বপ্নের বাড়ি বাস্তব রূপ পাবে। সেই স্বপ্ন নিয়েই গত ৭ নভেম্বর স্ত্রী আসমাউল হুসনা আঁখি ও আট বছরের একমাত্র কন্যা মাগফিরাতুল মাওয়া আমিনাকে বিদায় জানিয়ে সুদানে পাড়ি জমান তিনি।

কিন্তু মাত্র ৩৮ দিনের মাথায় দেশের পতাকাই হয়ে ওঠে তার শেষ পোশাক। মাসুদের মৃত্যুর খবর প্রথম জানতে পারেন তার ছোট ভাই, সেনাসদস্য রনি আলম। খবরটি গ্রামে পৌঁছাতেই পুরো বোয়ালিয়াপাড়া স্তব্ধ হয়ে যায়। মাসুদের বাড়িতে এখন শুধু কান্না আর আহাজারি।

শহীদ মাসুদ রানার মা মর্জিনা খাতুন ছেলের শোকে বারবার মূর্ছা যাচ্ছেন। বিলাপ করতে করতে তিনি বলেন, “ভবিষ্যতের জন্য আমার ছেলে নিজের জন্য কিছুই রাখেনি। দেশে ফিরে একটি সুন্দর বাড়ি করার স্বপ্ন বলেই সে বিদায় নিয়েছিল। যাওয়ার আগের দিন ডিউটির কষ্ট জানতে চাইলে সে বলেছিল—‘মা, এখন আর কষ্ট নাই, ডিউটি কম।’ আমাকে ভালো থাকতে বলে নিজেই না ফেরার দেশে চলে গেল।”

প্রতিবেশীরা জানান, মাসুদ রানা ছিলেন অত্যন্ত শান্ত ও মিশুক স্বভাবের। গ্রামের মানুষের কাছে তিনি ছিলেন গর্বের নাম। তার অকাল মৃত্যুতে কেউই স্বাভাবিকভাবে শোক সামলাতে পারছেন না। এলাকাজুড়ে চলছে শোকের মাতম।

রোববার বিকেলে শহীদ মাসুদের বাড়িতে গিয়ে পরিবারের সদস্যদের সান্ত্বনা দেন নাটোর স্টেডিয়াম সেনাক্যাম্পের কমান্ডার মেজর মো. নাজমুল আলম আবীর। তিনি জানান, শহীদ মাসুদ রানার মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে সব ধরনের প্রচেষ্টা চলছে। একই সঙ্গে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে শহীদের পরিবারের পাশে থাকার আশ্বাস দেন তিনি।

এদিকে লালপুর উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকেও পরিবারের সার্বিক সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। লালপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. জুলহাস হোসেন সৌরভ শোকসন্তপ্ত পরিবারের খোঁজখবর নেন এবং সব ধরনের সহায়তার আশ্বাস প্রদান করেন।

শহীদ মাসুদ রানার আত্মত্যাগে গর্বিত হলেও তার শূন্যতা কোনোভাবেই পূরণ হওয়ার নয়—এমনটাই বলছেন গ্রামবাসী। সবাই এক কণ্ঠে শহীদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করছেন এবং তার পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন।

আকাশজমিন / আরআর 


এ সম্পর্কিত আরো খবর