রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান হাদির ওপর গুলির ঘটনায় প্রতিবাদে শুরু হয়েছে ‘সর্বদলীয় প্রতিরোধ সমাবেশ’। সোমবার বিকাল ৩টায় আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হওয়া এই সমাবেশে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতাকর্মীরা অংশ নিচ্ছেন।
সমাবেশ শুরুর আগে শহীদ মিনার এলাকায় নেতাকর্মীদের উপস্থিতি বাড়তে থাকে। মঞ্চের প্রস্তুতি, চেয়ার সাজানো ও অন্যান্য আয়োজন সম্পন্ন হয়। বিভিন্ন সংগঠনের কর্মীরা প্রতিবাদী স্লোগান দিয়ে সমাবেশে অংশগ্রহণ শুরু করেন। ‘আমরা সবাই হাদি হবো, ভুলের মুখে কথা বলব’, ‘নারায়ে তাকবির—আল্লাহু আকবর’ এবং ‘এক হাদি রক্ত দেবে, লক্ষ হাদিস জন্ম নেবে’ স্লোগানগুলো সমাবেশস্থল পরিবেশ উত্তেজনায় পূর্ণ করে।
সমাবেশে গান ও কবিতা আবৃত্তির মাধ্যমে শরিফ ওসমান হাদির ওপর হামলার তীব্র প্রতিবাদ জানানো হয়। বক্তারা গণতান্ত্রিক রাজনীতিতে সহিংসতার বিরুদ্ধে কণ্ঠস্বর তোলে এবং শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক পরিবেশের আহ্বান জানান। সমাবেশে উপস্থিত নেতাকর্মীরা বারবার বলছেন, রাজনৈতিক মতপ্রকাশে সহিংসতার কোনো স্থান নেই। তারা দ্রুত হামলাকারীদের শনাক্ত ও বিচারের দাবি করেন।
আয়োজকরা জানান, এই প্রতিবাদ সমাবেশের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক রাজনীতিতে সহিংসতার বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ অবস্থান প্রদর্শন করা হবে। তারা মনে করেন রাজনৈতিক বিরোধ থাকতে পারে, তবে তা কখনো সহিংসতায় পরিণত হতে পারে না।
শরিফ ওসমান হাদি ছিলেন জুলাই গণঅভ্যুত্থানের অন্যতম সংগঠক ও ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক। তিনি ঢাকার ইনকিলাব কালচারাল সেন্টারের প্রতিষ্ঠাতা এবং আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৮ আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করার ঘোষণা দিয়েছিলেন। এই নির্বাচনী প্রচারণায় তিনি নিয়মিত গণসংযোগে লিপ্ত ছিলেন।
গত ১২ ডিসেম্বর পুরানা পল্টনের বক্স-কালভার্ট রোড এলাকায় জুমার নামাজের পর মোটরসাইকেলে আসা দুই দুর্বৃত্তের একটি গুলিতে শরিফ ওসমান হাদি গুরুতর আহত হন। গুলিবিদ্ধ অবস্থায় প্রথমে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় তাকে। পরে অবস্থার অবনতি হলে তাকে এভারকেয়ার হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয় এবং বর্তমানে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুর নেওয়া হচ্ছে। চিকিৎসকরা তার শারীরিক অবস্থা সংকটাপন্ন বলে জানাচ্ছেন।
শহীদ মিনারে শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদী সমাবেশে বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতারা দ্রুত ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন।
আকাশজমিন / আরআর