সরিষাবাড়ী (জামালপুর) প্রতিনিধি
জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলার ডোয়াইল ইউনিয়নের রামনন্দনপুর গ্রামে বিষ প্রয়োগ করে মাছ নিধনের ঘটনা ঘটেছে। সোমবার সকালে কামারকুড়া মৎস চাষ প্রকল্প সমিতির ১৬ জন সদস্যের ১০ বিঘা জমিতে বিষ প্রয়োগের ফলে ৩ থেকে ৪ লক্ষ টাকার মাছ নষ্ট হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ওই সমিতি পাঙ্গাস, সরপুঁটি, বাটা সহ দেশীয় বিভিন্ন প্রজাতির মাছ চাষ করছিল। সোমবার সকাল থেকে বিলের পানিতে মাছ ভাসতে দেখে স্থানীয়রা তাদের খবর দেন। পরে প্রকল্পের সদস্যরা পুকুরে গিয়ে মাছের ব্যাপক ক্ষতি দেখতে পান। মৃত মাছের মধ্যে প্রধানত পাঙ্গাস মাছ বেশি ছিল।
কামারকুড়া মৎস চাষ সমিতির সভাপতি শাহাদাত হোসেন বলেন, “আমাদের পাশের পুকুরের মালিক সম্প্রতি তার পুকুরে নেট দিয়ে বেড়া দিয়েছে। এরপর থেকেই মাছ মরতে শুরু করেছে। আমরা সন্দেহ করছি তারা নেট বসানোর সময় হয়তো বিষ প্রয়োগ করেছে।” সাধারণ সম্পাদক খলিলুর রহমান মজনু এবং মমিনুল ইসলাম সাবুও এ অভিযোগের সমর্থন দেন।
মৎস চাষ প্রকল্পে প্রায় ১৮৬ কেজি পাঙ্গাস, ২৭ মন সরপুঁটি ও অন্যান্য দেশীয় মাছ ছিল। তারা জানান, এই বিষ প্রয়োগে প্রকল্পের সম্পূর্ণ মাছ মারা গেছে এবং এর ফলে ৩ থেকে ৪ লক্ষ টাকার ক্ষতি হয়েছে।
স্থানীয়রা ক্ষতিপূরণের দাবি করেছেন এবং প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন। তারা বলছেন, মাছের বিল নিষ্কাশন বা অন্য কোনো কারণে বিষ প্রয়োগ করা হলে তা বন্ধ করতে হবে যাতে ভবিষ্যতে এই ধরনের ক্ষতি না ঘটে।
এ বিষয়ে ডোয়াইল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বলেন, “আমি এই ঘটনায় অবগত এবং তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।” তবে এখন পর্যন্ত বিষ প্রয়োগের সঠিক কারণ এবং অভিযুক্তদের শনাক্ত করা যায়নি।
জামালপুর জেলা মৎস উন্নয়ন কর্মকর্তা জানান, “মাছের এমন মৃত্যু অত্যন্ত দুঃখজনক। আমরা দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবো। আইনত অবৈধ বিষ প্রয়োগ বন্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।”
মৎস চাষে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো বর্তমানে হতাশায় রয়েছেন। তারা মৎস চাষের মাধ্যমে জীবিকা নির্বাহ করতেন এবং এই ক্ষতিতে তারা আর্থিকভাবে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।
সরিষাবাড়ীতে এই প্রথম নয়, আগেও বিলে বিষ প্রয়োগের মাধ্যমে মাছ নিধনের ঘটনা ঘটেছে। তবে এ ধরনের ঘটনা পুনরায় না ঘটে সে জন্য স্থানীয় প্রশাসন ও মৎস চাষিরা সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।
আকাশজমিন / আরআর