ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ডেঙ্গুতে আরও ৬ প্রাণহানি, এক দিনে হাসপাতালে ১৫৬১ জন ভর্তি গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা জোরদার করতে হবে: রাষ্ট্রপতি আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে ১১ হাজার কোটি টাকা পাচারের অভিযোগ: দুদক ‘বারবার মিথ্যা মামলা না দিয়ে আমাকে একবারে গুলি করে মেরে ফেলেন’ ২১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্র সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশে নতুন গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধানে বিনিয়োগে আগ্রহী মার্কিন কোম্পানি শেভরন পাবনায় ডিবির ওসির প্রত্যাহারে সাংবাদিকদের ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় শক্তিশালী স্থানীয় সরকারের বিকল্প নেই: ড. আবদুল মঈন খান স্থানীয় সরকার নির্বাচনে শিক্ষাগত যোগ্যতার বাধ্যবাধকতা নেই: মীর শাহে আলম দুপুরের মধ্যেই বিদ্যুৎ পাচ্ছে বাংলাদেশ: কমবে লোডশেডিং

সেতু আছে সড়ক নেই


  • আপলোড সময় : সোমবার ১৫ ডিসেম্বর, ২০২৫ সময় : ৭:৫২ পিএম

হাফিজুল নিলু , নড়াইল 

নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলায় বিলের মাঝে প্রায় ১০ বছর আগে নির্মিত একটি সেতু স্থানীয় মানুষের জন্য এখন অভিশাপ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ২০১৫-১৬ অর্থ বছরে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ের সেতু ও কালভার্ট নির্মাণ প্রকল্পের আওতায় প্রায় ১৯ লাখ ৭৪ হাজার ১৫৬ টাকার ব্যয়ে নির্মিত সেতুটি বাস্তবে কোনো কাজে আসছে না। কারণ, সেতুটির দুই পাশে সংযোগ সড়ক নেই, নদী বা খাল নেই, ফলে সেতুটি শুধু বিলের মাঝে দাঁড়িয়ে আছে।

স্থানীয়রা জানায়, সেতু তৈরির পর থেকে সড়ক নির্মাণের কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। এর ফলে সেতুটি ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। মাকড়াইল গ্রামের কৃষক আসিফুর বলেন, "খাল নেই, নদী নেই, রাস্তা নেই, শুধু বিলের মাঝে একমাত্র ব্রিজ। এই ব্রিজ আমাদের কোনো উপকার দিচ্ছে না।" অন্য কৃষক মনিরুল ইসলাম জানান, "সরকারের টাকা খরচ করে সেতু হয়েছে, কিন্তু সেতুর দু’পাশে কোনো রাস্তা না থাকায় আমাদের সুবিধা হচ্ছে না। মাটি ভরাট করে রাস্তা হলে অনেক উপকার হত।"


অন্য একজন বাসিন্দা সৌমিত্র মিত্র বলেন, "এই ব্রিজের কারণে আমাদের পুরো গ্রাম ক্ষতিগ্রস্ত। আমাদের ভ্যান নিয়েও বিলে যেতে হয় দেড় কিলোমিটার ঘুরে। সেতুর দু’পাশ মাটি ভরাট করে রাস্তা তৈরি হলে আমরা অনেক সুবিধা পেতাম।"

লোহাগড়া উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) শরিফ মোহাম্মদ রুবেল জানান, "২০১৫-১৬ অর্থবছরে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ের সেতু ও কালভার্ট নির্মাণ প্রকল্পের আওতায় এই সেতুটি নির্মাণ করা হয়। তবে কেন সেতুর দুই পাশে সংযোগ সড়ক নির্মাণ করা হয়নি, সে বিষয়ে আমার কাছে কোনো তথ্য নেই। তবে আমি সরজমিন পরিদর্শন করে সেতুর দুইপাশে চলাচলের উপযোগী জায়গা মাটি দিয়ে ভরাট করব।"


সেতুর অব্যবস্থাপনা ও সংযোগ সড়কের অভাবে স্থানীয়রা দৈনন্দিন জীবনে বিভিন্ন সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছেন। বিলে যেতে গন্তব্যস্থলে পৌঁছতে দীর্ঘ সময় ধরে বিকল্প পথ দিয়ে যেতে হচ্ছে, যা সময় ও খরচ বৃদ্ধি করেছে। ফসল তোলা, মাছ ধরে বাজারজাতকরণ, জরুরি স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণ করাও কঠিন হয়ে পড়েছে। স্থানীয় কৃষকরা আশা করছেন দ্রুতই সেতুর দুই পাশে সংযোগ সড়ক নির্মাণ করা হবে, যাতে তারা প্রকৃত সুবিধা পেতে পারেন এবং অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে এগিয়ে যেতে পারেন।

আকাশজমিন / আরআর 


এ সম্পর্কিত আরো খবর