ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় শক্তিশালী স্থানীয় সরকারের বিকল্প নেই: ড. আবদুল মঈন খান স্থানীয় সরকার নির্বাচনে শিক্ষাগত যোগ্যতার বাধ্যবাধকতা নেই: মীর শাহে আলম দুপুরের মধ্যেই বিদ্যুৎ পাচ্ছে বাংলাদেশ: কমবে লোডশেডিং এমপিও শিক্ষকদের নির্বাচন ভাগ্য নির্ধারণ করবে ইসি: মীর শাহে আলম সরকারি কেনাকাটায় পুকুরচুরি ঠেকাতে আসছে অভিন্ন একক দরতালিকা সাগর-রুনি হত্যার বিচার চেয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে লিখিত অভিযোগ তারুণ্য না অভিজ্ঞতা: ছাত্রদলের নতুন নেতৃত্ব চয়নে জটিল হিসাব-নিকাশ আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধের প্রজ্ঞাপন চ্যালেঞ্জের রিট খারিজ হাইকোর্টে ইন্দোনেশিয়ায় ২৪০ যাত্রী নিয়ে জাহাজ নিখোঁজ ঠাকুরগাঁও সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি নিহত, আটক ২

৫৩ বছরেও স্বীকৃতি নেই, পাশে দাঁড়ালেন মানবিক ডিসি


চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক (ডিসি) মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা

  • আপলোড সময় : সোমবার ১৫ ডিসেম্বর, ২০২৫ সময় : ৮:৩৯ পিএম

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি 

বিজয় দিবসের আগের দিন স্বীকৃতিহীন এক শহীদ মুক্তিযোদ্ধার পরিবারের পাশে দাঁড়িয়ে মানবিকতার অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক (ডিসি) মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা। দীর্ঘ ৫৩ বছরেও মুক্তিযুদ্ধে শহীদ পরিবারের স্বীকৃতি না পাওয়া শহীদ এএসআই আব্দুল লতিফের কন্যার পাশে দাঁড়িয়ে তিনি সহমর্মিতা ও দায়িত্ববোধের পরিচয় দিয়েছেন। শহীদ এএসআই আব্দুল লতিফ ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে সিলেটের গোয়াইনঘাট থানায় কর্মরত ছিলেন। দায়িত্ব পালনরত অবস্থায় পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর হামলায় তিনি ১৯৭১ সালের ২৭ জুন শহীদ হন। তার নাম সিলেট পুলিশ লাইনের স্মৃতিস্তম্ভে অন্তর্ভুক্ত থাকলেও স্বাধীনতার ৫৩ বছর পরও তার পরিবার শহীদ মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সরকারি স্বীকৃতি ও সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত রয়েছে।

শহীদের কন্যা শামীমা বেগম জানান, অজানা কারণে তারা কখনোই শহীদ মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের জন্য নির্ধারিত সরকারি সুবিধা পাননি। বর্তমানে তিনি চট্টগ্রাম মহানগরের চকবাজার থানার পাঁচলাইশ এলাকার বাদুরতলা জঙ্গিশাহ এলাকায় বসবাস করছেন।

২০১৬ সালে শামীমা বেগমের স্বামী মৃত্যুবরণ করেন। তিনি দুই ছেলে ও এক মেয়েকে নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপসহ নানা জটিল রোগে আক্রান্ত শামীমা বেগম গত মাসে গুরুতর অসুস্থ হয়ে চট্টগ্রামের একটি বেসরকারি হাসপাতালে আইসিইউতে ভর্তি ছিলেন। এতে পরিবারটির আর্থিক সংকট আরও ভয়াবহ রূপ নেয়। তার বড় ছেলে মিজানুর রহমান টিপু একটি ছোট দোকানে কর্মচারী হিসেবে কাজ করেন। অসুস্থ মায়ের চিকিৎসা ব্যয় বহন করতে গিয়ে তিনি চরম বিপাকে পড়েন।

এমন অবস্থায় সোমবার (১৫ ডিসেম্বর) শামীমা বেগম পরিবারের সদস্যদের নিয়ে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। ওইদিন জেলা প্রশাসক সেনা কর্মকর্তা, পুলিশ সুপার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদের সঙ্গে রাউজান উপজেলায় পূর্বনির্ধারিত আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বিষয়ক যৌথ মহড়া ও মতবিনিময় সভা নিয়ে প্রচণ্ড ব্যস্ত থাকলেও তিনি দীর্ঘ সময় ধরে নিজের কার্যালয়ে বসে শামীমা বেগমের দুরবস্থার কথা মনোযোগ সহকারে শোনেন।

এ সময় জেলা প্রশাসক তাৎক্ষণিকভাবে শামীমা বেগমের চিকিৎসার জন্য নগদ আর্থিক সহায়তা প্রদান করেন। জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, “বিজয় দিবসের আগের দিন একজন শহীদ মুক্তিযোদ্ধার পরিবারের পাশে দাঁড়াতে পেরে নিজেকে ধন্য মনে করছি। আমার সীমিত সামর্থ্যের মধ্যেও সর্বোচ্চটা দিয়ে তাদের পাশে থাকতে চাই।”

ডিসির সহায়তায় আবেগাপ্লুত শামীমা বেগম বলেন, “শহীদ মুক্তিযোদ্ধার পরিবার হিসেবে আমার বাবার মুক্তিযোদ্ধার সনদ, শহীদ পরিবারের স্বীকৃতি এবং পুলিশ ফান্ডসহ আনুষঙ্গিক সরকারি সুযোগ-সুবিধা পাওয়ার বিষয়ে ডিসি স্যারের সহায়তা চেয়েছি। তিনি আমাদের আশ্বাস দিয়েছেন।”

শহীদ এএসআই আব্দুল লতিফের নাতি মিজানুর রহমান টিপু বলেন, “আমরা সরকারি আশ্রয়ণ প্রকল্পের আওতায় একটি ঘর পাওয়ার অনুরোধ জানিয়েছি। জেলা প্রশাসক স্যার বিষয়টি বিবেচনার আশ্বাস দিয়েছেন।” বিজয় দিবসের প্রাক্কালে শহীদ মুক্তিযোদ্ধার পরিবারের পাশে জেলা প্রশাসকের এই মানবিক উদ্যোগ স্থানীয় মহলে ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে।

আকাশজমিন / আরআর 


এ সম্পর্কিত আরো খবর