ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  সোমবার, ২৭ Jul ২০২৬,  ১১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
রপ্তানি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য ১৫ শতাংশ, আয় হতে পারে ৬৩.৪ বিলিয়ন ডলার রাজধানীতে ১৮ মন্ত্রী চলবেন এসকর্ট ছাড়া, বহাল থাকছে ৭ জনের সুবিধা সাতক্ষীরায় অপরিকল্পিত মৎস্য ঘের: পানিবন্দী হাজারও মানুষ, সড়ক-শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্লাবিত সাতক্ষীরার তিন হাসপাতালে হঠাৎ স্বাস্থ্যমন্ত্রী, অনুপস্থিত দুই চিকিৎসকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টেস্ট দল ঘোষণা, নেই নাহিদ-লিটন সেনা কর্মকর্তাদের পদোন্নতি হোক মেধা ও যোগ্যতায়: প্রধানমন্ত্রী হামের উপসর্গে আরও ৪ শিশুর মৃত্যু, আক্রান্ত ১১৬০ জামায়াত জোট ছাড়ার গুঞ্জন নাকচ করল নেজামে ইসলাম চলনবিলে অবাধে ব্যবহার হচ্ছে নিষিদ্ধ চায়নাদুয়ারী জাল লক্ষ্মীপুরে উৎসবমুখর পরিবেশে ধারণ হলো ‘ইত্যাদি’র বিশেষ পর্ব

দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা আবারও তেঁতুলিয়ায়


  • আপলোড সময় : বুধবার ১৭ ডিসেম্বর, ২০২৫ সময় : ১:০৮ পিএম

পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় টানা এক সপ্তাহ ধরে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বয়ে চলেছে। একই সঙ্গে এই সময়জুড়ে দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রাও নিয়মিতভাবে তেঁতুলিয়াতেই রেকর্ড হচ্ছে। কনকনে ঠান্ডা বাতাস, ঘন কুয়াশা ও কম তাপমাত্রার কারণে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে এ অঞ্চলে।

বুধবার সকাল ৯টায় তেঁতুলিয়া আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৯ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এ সময় বাতাসের আর্দ্রতা ছিল ৭১ শতাংশ। সকাল থেকে সূর্যের দেখা মিললেও ঠান্ডার তীব্রতা কমেনি। হিমেল বাতাসে শীতের অনুভূতি আরও জোরালো হয়ে উঠেছে।

এর আগের দিন মঙ্গলবার সকাল ৯টায় তেঁতুলিয়ায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ৯ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। সেদিন বাতাসের আর্দ্রতা ছিল ৭৪ শতাংশ এবং বাতাসের গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ৯ থেকে ১০ কিলোমিটার। দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা উঠেছিল ২৭ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত। যদিও দিনের বেলায় তাপমাত্রা কিছুটা বাড়ে, তবে ভোর ও সকালে শীতের প্রকোপ স্পষ্টভাবে অনুভূত হচ্ছে।

১৫ ডিসেম্বর সকাল ৯টায় তেঁতুলিয়ায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছিল ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস। ওই দিন বাতাসের আর্দ্রতা ছিল ৮৯ শতাংশ এবং বাতাসের গতিবেগ ঘণ্টায় ৯ থেকে ১০ কিলোমিটার। দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ২৭ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এর আগের দিনগুলোতেও একই ধরনের আবহাওয়া বিরাজ করেছে, যা শীতের স্থায়িত্বকে আরও স্পষ্ট করে তুলেছে।

শীতের কারণে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন দিনমজুর, খেটে খাওয়া মানুষ ও নিম্নআয়ের পরিবারগুলো। ভোরের ঠান্ডায় অনেকেই কাজে বের হতে দেরি করছেন। শিশু ও বয়স্কদের মধ্যে ঠান্ডাজনিত অসুস্থতার ঝুঁকিও বাড়ছে। গ্রামীণ এলাকায় শীতবস্ত্রের অভাব প্রকট হয়ে উঠেছে বলে স্থানীয়রা জানান।

তেঁতুলিয়া আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জিতেন্দ্রনাথ রায় জানান, গত ১১ ডিসেম্বর থেকে তেঁতুলিয়ায় টানা মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বিরাজ করছে। তিনি বলেন, উত্তরাঞ্চলে শীত সাধারণত আগে আসে এবং তেঁতুলিয়া ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে প্রতি বছরই এখানে তুলনামূলক বেশি শীত অনুভূত হয়। চলমান শৈত্যপ্রবাহ আরও কয়েকদিন অব্যাহত থাকতে পারে বলেও তিনি ইঙ্গিত দেন।

আবহাওয়াবিদদের মতে, শীতকালীন উচ্চচাপ বলয়ের প্রভাব এবং উত্তরের হিমেল বাতাসের কারণে এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। রাতের আকাশ পরিষ্কার থাকায় তাপমাত্রা দ্রুত কমে যাচ্ছে। পাশাপাশি কুয়াশার কারণে ভোরে সূর্যের তাপ মাটিতে পৌঁছাতে দেরি হচ্ছে, যা শীতকে আরও দীর্ঘায়িত করছে।

স্থানীয় প্রশাসন ও বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন শীতার্ত মানুষের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণের উদ্যোগ নেওয়ার কথা ভাবছে। এদিকে আবহাওয়া পরিস্থিতির ওপর নজর রেখে প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

আকাশজমিন / আরআর 


এ সম্পর্কিত আরো খবর