ডিজিটালাইজেশনের ফলে বিদেশগমন প্রক্রিয়ায় দুর্নীতি, হয়রানি ও ভোগান্তি উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে বলে জানিয়েছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. আসিফ নজরুল। তিনি বলেন, আগে প্রবাসী অ্যাপস ও বিভিন্ন অনিয়মের মাধ্যমে প্রবাসীদের কাছ থেকে বিপুল অঙ্কের অর্থ আদায় করা হতো। বিদেশে যেতে ইচ্ছুক কর্মীদের কাছ থেকে নানা ধরনের অবৈধ অর্থ আদায়ের অভিযোগ ছিল। এসব বন্ধ করতে সরকারকে কঠোর ও ধারাবাহিক প্রচেষ্টা চালাতে হয়েছে।
বুধবার আন্তর্জাতিক অভিবাসী দিবস ও জাতীয় প্রবাসী দিবস–২০২৫ উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস।
আসিফ নজরুল বলেন, বিদেশে কর্মসংস্থানের পুরো প্রক্রিয়াকে স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক করতে একটি পূর্ণাঙ্গ অনলাইন ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। ওভারসিজ অ্যামপ্লয়মেন্ট প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে বিদেশে গমনের প্রক্রিয়াকে শতভাগ ডিজিটাল করা হয়েছে। এর ফলে মধ্যস্বত্বভোগী ও অনিয়মের সুযোগ অনেকটাই কমে এসেছে। ডিজিটালাইজেশনের কারণে এখন দুর্নীতি, হয়রানি ও ভোগান্তির সুযোগ আগের তুলনায় অনেক কম।
তিনি আরও বলেন, এই উদ্যোগ বাস্তবায়নে আন্তর্জাতিক সহযোগিতাও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। আইওএম এবং আইএলও এই প্রক্রিয়ায় সহায়তা করেছে। তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, ডিজিটাল ব্যবস্থার পেছনেও মানুষ কাজ করে। সেই মানুষগুলোকেই দায়িত্বশীল হতে হবে এবং সততার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে হবে। প্রযুক্তি একা সব সমস্যার সমাধান নয়, মানবিক ও নৈতিক দায়িত্ববোধও জরুরি।
প্রবাসী কল্যাণ উপদেষ্টা বলেন, প্রবাসীদের প্রতি গুরুত্ব দেওয়ার দৃষ্টিভঙ্গির বাস্তব প্রতিফলন ঘটানো হয়েছে। ঢাকার বিমানবন্দরে প্রবাসীদের জন্য রুটিন কাজের বাইরে বিশেষ কিছু পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, যা আগে কখনো করা হয়নি। তিনি স্বীকার করেন, এই উদ্যোগগুলো এখনও যথেষ্ট নয়, তবে একটি ইতিবাচক শুরু হয়েছে।
আসিফ নজরুল আরও জানান, সৌদি আরবের সঙ্গে প্রথমবারের মতো বাংলাদেশ আনুষ্ঠানিক চুক্তি করেছে। এই চুক্তির তাৎক্ষণিক প্রভাব দৃশ্যমান না হলেও ভবিষ্যতে এর ইতিবাচক প্রভাব পাওয়া যাবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। সৌদি আরবের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী এবং বাংলাদেশি মিশনের কর্মকর্তারা তাকে জানিয়েছেন, পাকিস্তান বা ভারতের সঙ্গে এমন চুক্তি না হলেও বাংলাদেশের সঙ্গে এই চুক্তি হয়েছে, যা একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি।
মালয়েশিয়ার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আগে সেখানে কর্মরত অনেক শ্রমিক দেশে এলে আর ফিরে যেতে পারতেন না, কারণ তাদের সিঙ্গেল ভিসা দেওয়া হতো। সরকারের অনুরোধ ও আলোচনার মাধ্যমে প্রথমবারের মতো মাল্টিপল ভিসা চালু করা সম্ভব হয়েছে। এতে শ্রমিকদের যাতায়াতের সমস্যা অনেকটাই কমেছে।
তিনি বলেন, মালয়েশিয়ায় শ্রমবাজারকে ঘিরে সিন্ডিকেটের অভিযোগ দীর্ঘদিনের। এই সিন্ডিকেটকে সম্পূর্ণভাবে ডিলিস্টিং করা হয়েছে। সরকার স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, কোনো সিন্ডিকেটকে আর সুযোগ দেওয়া হবে না। প্রবাসী শ্রমিকদের কাছ থেকে অবৈধ ও অনিয়ন্ত্রিত মুনাফা আদায়ের যে ব্যবস্থা ছিল, তা ভাঙার চেষ্টা করা হয়েছে এবং এখন পর্যন্ত তা হতে দেওয়া হয়নি।
শেষে আসিফ নজরুল বলেন, ভবিষ্যতের সরকার যদি দেশের মানুষের প্রতি ন্যূনতম দায়িত্ববোধ ও কৃতজ্ঞতা রাখে, তাহলে এই উদ্যোগগুলো আরও এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে। প্রবাসীদের কল্যাণে আরও দীর্ঘমেয়াদি ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার সুযোগ ভবিষ্যতে আরও বেশি থাকবে।
আকাশজমিন / আরআর