কথায় নয়, কাজে মানবিকতার নজির স্থাপন করছেন চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা। গণশুনানিতে সরাসরি অসহায় মানুষের কথা শুনে তাৎক্ষণিক সহায়তা দিয়ে তিনি নতুন করে আশার আলো জ্বালাচ্ছেন অনেকের জীবনে। বুধবার (১৭ ডিসেম্বর) অনুষ্ঠিত জেলা প্রশাসকের গণশুনানিতে একদিনেই চারজন গুরুতর অসুস্থ ব্যক্তিকে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়।
চোখে আলো ফেরানোর স্বপ্ন নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে লায়ন্স দাতব্য চক্ষু হাসপাতালে চিকিৎসাধীন কোতোয়ালী থানার পাথরঘাটা এলাকার ঠান্ডা মিয়া ও আমেনা খাতুন দম্পত্তির মেয়ে বিবি আয়েশা। চিকিৎসকদের মতে, তার চোখের অবস্থা আশঙ্কাজনক। সুস্থ হতে প্রয়োজন পাঁচটি ইনজেকশন, তবে অর্থাভাবে তিনি নিতে পেরেছেন মাত্র দুটি। প্রতিটি ইনজেকশনের দাম সাড়ে পাঁচ হাজার টাকা।
অসুস্থ স্বামী মুক্তার আহমেদকে নিয়ে বিবি আয়েশার জীবনযাপন দিন দিন আরও কষ্টকর হয়ে উঠেছে। একমাত্র ছেলে আলাদা থাকেন এবং খোঁজ নেন না। মেয়েও ব্যস্ত নিজের সংসার নিয়ে। ফলে এই অসহায় দম্পতির দেখভালের মতো কেউ নেই। শেষ ভরসা হিসেবে বুধবার তিনি চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। তার কষ্টের কথা শুনে জেলা প্রশাসক তাৎক্ষণিক আর্থিক সহায়তা দেন। সহায়তা পেয়ে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বিবি আয়েশা বলেন, “ডিসি স্যার আমার কথা মন দিয়ে শুনেছেন। শুধু আর্থিক সাহায্যই নয়, আমার জন্য দোয়া করতে বলেছেন।”
একই গণশুনানিতে পটিয়ার দক্ষিণ মনসা কুসুমপুরা ইউনিয়নের অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী নুর জান্নাত হোসেন রাজমীর বিষয়টিও তুলে ধরা হয়। হরমোনজনিত জটিল রোগে ভুগছে রাজমী। বয়স অনুযায়ী তার শারীরিক গঠন না বাড়ায় সে দেখতে চার বছরের শিশুর মতো। চিকিৎসকদের মতে, প্রতি মাসে প্রায় ৪০ হাজার টাকা মূল্যের ইনজেকশন প্রয়োজন তার। রাজমীর মা দিলোয়ারা বেগম জানান, এর আগে বিভিন্ন জায়গা থেকে সহায়তার আশ্বাস পেলেও বাস্তবে কিছুই পাননি। তবে জেলা প্রশাসকের কাছ থেকে তাৎক্ষণিক সহায়তা পেয়ে তিনি নতুন করে আশার আলো দেখছেন।
সাতকানিয়ার মোবারক হোসেন ও তার স্ত্রী দুজনেই বাক ও শ্রবণ প্রতিবন্ধী। তাদের পাঁচ বছরের সন্তান মারাত্মক রোগে আক্রান্ত। চিকিৎসা ব্যয় বহন করতে গিয়ে পরিবারটি নিঃস্ব হয়ে পড়েছে। গণশুনানিতে তাদের দুর্দশার কথা শোনার পর জেলা প্রশাসক এই পরিবারকেও আর্থিক সহায়তা প্রদান করেন। চট্টগ্রাম বধির সংঘের সদস্য এস এম মোজাফফর হোসেন বলেন, “এমন মানবিক জেলা প্রশাসক আমরা আগে দেখিনি। তিনি শুধু কথা শোনেন না, সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নেন।”
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, বুধবার সকাল ১০টায় অনুষ্ঠিত গণশুনানিতে মোট ২৭ জন সেবাপ্রত্যাশীর সমস্যা শোনা হয়। এর মধ্যে চারজন গুরুতর অসুস্থ ব্যক্তিকে জরুরি ভিত্তিতে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়ানোই এ গণশুনানির মূল উদ্দেশ্য। মানবিক উদ্যোগের মাধ্যমে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা অসহায় মানুষের ভরসায় পরিণত হয়েছেন বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। তাদের ভাষায়, দারিদ্র্যের দেয়ালে আশার আলো জ্বালাচ্ছেন এই মানবিক ডিসি।
আকাশজমিন / আরআর