ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় শক্তিশালী স্থানীয় সরকারের বিকল্প নেই: ড. আবদুল মঈন খান স্থানীয় সরকার নির্বাচনে শিক্ষাগত যোগ্যতার বাধ্যবাধকতা নেই: মীর শাহে আলম দুপুরের মধ্যেই বিদ্যুৎ পাচ্ছে বাংলাদেশ: কমবে লোডশেডিং এমপিও শিক্ষকদের নির্বাচন ভাগ্য নির্ধারণ করবে ইসি: মীর শাহে আলম সরকারি কেনাকাটায় পুকুরচুরি ঠেকাতে আসছে অভিন্ন একক দরতালিকা সাগর-রুনি হত্যার বিচার চেয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে লিখিত অভিযোগ তারুণ্য না অভিজ্ঞতা: ছাত্রদলের নতুন নেতৃত্ব চয়নে জটিল হিসাব-নিকাশ আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধের প্রজ্ঞাপন চ্যালেঞ্জের রিট খারিজ হাইকোর্টে ইন্দোনেশিয়ায় ২৪০ যাত্রী নিয়ে জাহাজ নিখোঁজ ঠাকুরগাঁও সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি নিহত, আটক ২

. আমতলী আদালতের নিরাপত্তা বেষ্টনী নির্মাণে বাধার অভিযোগ


  • আপলোড সময় : বৃহস্পতিবার ১৮ ডিসেম্বর, ২০২৫ সময় : ৮:৪৪ পিএম

আমতলী (বরগুনা) প্রতিনিধি।

হাইকোর্টের নির্দেশনা অনুযায়ী বরগুনার আমতলী উপজেলা সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের নিরাপত্তা বেষ্টনী নির্মাণ কাজে উপজেলা প্রশাসনের বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার দুপুরে প্রায় এক ঘণ্টা আদালতের বিচারিক কার্যক্রম বন্ধ থাকে। এতে আইনজীবী ও কয়েকশ বিচারপ্রার্থী চরম ভোগান্তি ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

ঘটনাটি ঘটে বৃহস্পতিবার দুপুরে আমতলী সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত প্রাঙ্গণে। বরগুনা জেলা বার আহ্বায়ক কমিটির সদস্য অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট জসিম উদ্দিন অভিযোগ করেন, আদালতের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চলমান বেষ্টনী নির্মাণ কাজে উপজেলা প্রশাসন অযাচিতভাবে বাধা দেয়।

জানা গেছে, ১৯৮২ সালে আমতলী উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণে সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত স্থাপন করা হয়। সে সময় থেকেই আদালতের দখলে এক একর ৪৬ শতাংশ জমি রয়েছে। ওই জমির ওপর সরকারিভাবে আদালতের বিভিন্ন স্থাপনা নির্মাণ করা হয় এবং দীর্ঘদিন ধরে সেখানে বিচারিক কার্যক্রম পরিচালিত হয়ে আসছে।

২০২৩ সালে তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী অফিসার আশরাফুল আলম ও সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুর রহমান আদালতের জমির সীমানা নির্ধারণ করেন। এরপর তিন দিকের নিরাপত্তা বেষ্টনী নির্মাণের কাজ সম্পন্ন করা হয়। হাইকোর্টের নির্দেশনা অনুযায়ী আদালতের নিরাপত্তা বেষ্টনী ও অন্যান্য স্থাপনা নির্মাণে গণপূর্ত বিভাগ থেকে ২২ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়।

গত ৮ ডিসেম্বর গণপূর্ত বিভাগ আদালতের নিরাপত্তা বেষ্টনী নির্মাণ কাজ শুরু করে। এই কাজের তদারকিতে ছিলেন বরগুনা জেলা বার আহ্বায়ক কমিটির সদস্য অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট জসিম উদ্দিনসহ সংশ্লিষ্ট আইনজীবীরা। বৃহস্পতিবার দুপুর ১টার দিকে নির্মাণ কাজ চলাকালে আমতলী উপজেলা নির্বাহী অফিসার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোঃ আশরাফুল ইসলাম ঘটনাস্থলে এসে কাজ বন্ধের নির্দেশ দেন বলে অভিযোগ ওঠে।

খবর পেয়ে সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ইফতি হাসান ইমরান, আইনজীবী ও বিচারপ্রার্থীরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। এ সময় পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং আদালতের বিচারিক কার্যক্রম প্রায় এক ঘণ্টা বন্ধ থাকে।

তালতলী উপজেলার কড়াইবাড়িয়া এলাকার বিচারপ্রার্থী মাসুদ মিয়াসহ একাধিক বিচারপ্রার্থী বলেন, হঠাৎ উপজেলা নির্বাহী অফিসার এসে আদালতের প্রাচীর নির্মাণে বাধা দেওয়ায় বিচারক ও আইনজীবীরা সবাই ঘটনাস্থলে চলে যান। ফলে আদালতের কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায় এবং আমাদের দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়।

আমতলী সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট মাহবুবুল আলম বলেন, নিরাপত্তা বেষ্টনী নির্মাণে বাধা দেওয়ায় বিচারিক কার্যক্রম ব্যাহত হয়েছে। এতে আইনজীবী ও বিচারপ্রার্থীদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

সিনিয়র আইনজীবী অ্যাডভোকেট মোঃ মহসিন মিয়া বলেন, আদালত দীর্ঘদিন ধরে নিরাপত্তাহীন অবস্থায় ছিল। দুই বছর আগে উপজেলা প্রশাসন ও আদালত কর্তৃপক্ষ যৌথভাবে সীমানা নির্ধারণ করেছেন। হাইকোর্টের আদেশ অনুযায়ী নিরাপত্তার স্বার্থে বেষ্টনী নির্মাণ করা হলেও উপজেলা প্রশাসন এতে অযাচিত হস্তক্ষেপ করেছে।

বরগুনা জেলা আইনজীবী সমিতির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট জসিম উদ্দিন বলেন, নির্ধারিত পিলার অনুযায়ী নিরাপত্তা বেষ্টনী নির্মাণ চলছিল। কিন্তু উপজেলা নির্বাহী অফিসার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) নির্মাণ কাজে বাধা দেন।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে আমতলী উপজেলা নির্বাহী অফিসার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোঃ আশরাফুল ইসলাম বলেন, আদালতের নিরাপত্তা বেষ্টনী নির্মাণে কোনো বাধা দেওয়া হয়নি।

আকাশজমিন / আরআর 


এ সম্পর্কিত আরো খবর