শিবগঞ্জ (বগুড়া) প্রতিনিধি:
বগুড়ার শিবগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী ও সর্ববৃহৎ সবজির মোকাম মহাস্থান হাটে শীতকালীন সবজির বাম্পার সরবরাহ বাজারে ধস নেমেছে। শনিবার হাটে প্রচুর সবজি আসলেও ক্রেতার উপস্থিতি কম থাকায় কৃষকরা পানির দরে সবজি বিক্রি করতে বাধ্য হয়েছেন। বিশেষ করে ফুলকপির দাম অস্বাভাবিকভাবে কমে গিয়ে মাত্র ২ থেকে ৩ টাকা প্রতি কেজিতে, যা মণ হিসেবে ৯০-১২০ টাকা, যদিও দুই সপ্তাহ আগে একই ফুলকপি মণপ্রতি ১০০০-১২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছিল।
বাজারে চাহিদার তুলনায় সরবরাহ বেশি এবং পর্যাপ্ত স্টোরেজ সুবিধা না থাকার কারণে অন্যান্য সবজির দামও নিম্নমুখী। উদাহরণস্বরূপ, মুলা বিক্রি হচ্ছে ৪০০-৬০০ টাকা মণ, নতুন আলু জাতভেদে ৫০০-১২০০ টাকা মণ, যা গত সপ্তাহে ছিল ১৬০০-২০০০ টাকা। এছাড়াও শিম ১৬ টাকা, করলা ৪০ টাকা, পেঁয়াজ ৬০ টাকা, পাতা পেঁয়াজ ৩০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। কাঁচা টমেটো ২০ টাকা ও কাঁচা মরিচ ৩০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। তবে ব্যতিক্রম হিসেবে রঙ্গিলা জাতের বেগুন মণপ্রতি ৭০০-৯০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
কৃষকরা জানিয়েছেন, মাঠ থেকে হাটে সবজি আনতে যে পরিবহন ও শ্রমিকের খরচ হচ্ছে, বর্তমান বাজারদরে সেটিও উঠে না। কৃষক নয়ন মিয়া বলেন, “যে কপি গত সপ্তাহে ২৫০-৩০০ টাকায় বিক্রি করেছি, আজ তা ৯০ টাকা মণ দরে বিক্রি করতে বাধ্য হয়েছি। এতে উৎপাদন খরচও ওঠে না।”
আড়তদাররা জানাচ্ছেন, প্রতিদিন প্রায় ৪০ ট্রাক সবজি ঢাকা, চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন স্থানে যাচ্ছে। কিন্তু বাইরের পাইকারের কম উপস্থিতি স্থানীয় বাজারে অস্থিরতা তৈরি করেছে। এতে কৃষক ও ব্যবসায়ী—উভয়ই বড় ধরনের লোকসানের মুখে পড়েছেন।
শিবগঞ্জের ১৭টি হিমাগারে হাজার হাজার বস্তা আলু পড়ে আছে। অনেক কৃষক ১৫ নভেম্বর আলু উত্তোলনের সময় দাম না থাকার কারণে আলু সংগ্রহ করেননি। বগিলাগাড়ী নিউ কাফেলা কোল্ডস্টোরের ব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, বারবার মাইকিং করার পরও বর্তমানে ৯ হাজার বস্তা আলু অবিক্রিত রয়েছে। চাহিদার তুলনায় সরবরাহ বেশি হওয়ায় এ বছর আলুর বাজারও মন্দা। স্থানীয়রা বলছেন, প্রতি বছর বাম্পার ফলন হলেও ন্যায্যমূল্য না পাওয়ায় কৃষকরা চিন্তিত। যথাযথ বাজারজাতকরণ ব্যবস্থা এবং পর্যাপ্ত হিমাগার সুবিধার অভাব প্রতিবারই এই সমস্যার সৃষ্টি করছে।
বাজারে ধসের কারণে কৃষকরা যেমন লোকসান করছেন, তেমনি ভোক্তারা কম দামে সবজি কিনতে পারছেন। তবে এই পরিস্থিতি দীর্ঘমেয়াদে উৎপাদন ও সরবরাহ চেইনে প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, সরকারী সহায়তা, হিমাগার সম্প্রসারণ এবং স্থানীয় বাজারে পাইকারদের আগমন বাড়ানো গেলে এই সংকট সামাল দেওয়া সম্ভব।
আকাশজমিন / আরআর