ভাঙ্গা (ফরিদপুর) প্রতিনিধি
ফরিদপুরের ভাঙ্গায় পারিবারিক ঝগড়ায় ছোট ভাইয়ের স্ত্রীর বটির আঘাতে টুকু মোল্লা (৪০) নামের এক জুতা তৈরির কারিগর নিহত হয়েছেন। নিহত টুকু মোল্লা উপজেলার আলগী ইউনিয়নের গুনপালদী গ্রামের ইদ্রিস মোল্লার পুত্র। শুক্রবার (১৯ ডিসেম্বর) বিকাল সাড়ে তিনটার দিকে উপজেলার আলগী ইউনিয়নের গুনপালদী গ্রামে এই ঘটনা ঘটে। নিহত টুকু মোল্লা সুন্নাতে খৎনার অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার পর বাড়ি ফেরার সময় দুই ভাইয়ের স্ত্রীদের মধ্যে ঝগড়া শুরু হয়। খৎনার অনুষ্ঠানে খাওয়া দাওয়া শেষে বাড়ি ফেরার পথে ঝগড়া চলাকালীন ছোট ভাইয়ের স্ত্রী বটি দিয়ে টুকু মোল্লার বুকে আঘাত করে। স্থানীয়রা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহতের চাচাতো ভাই শাহীন মোল্লা জানান, নিহত টুকু মোল্লা ঢাকায় একটি জুতার কারখানায় কারিগর হিসেবে কাজ করতেন। পারিবারিক খৎনার অনুষ্ঠানে যোগ দিতে বাড়ি আসেন। অনুষ্ঠান শেষে দুই ভাইয়ের স্ত্রীদের মধ্যে খামখেয়ালি ঝগড়া হয়। ঝগড়ার সময় ছোট ভাইয়ের স্ত্রী তাকে বটি দিয়ে আঘাত করে, যা গুরুতর প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে। ভাঙ্গা থানা পুলিশের অফিসার ইনচার্জ আব্দুল আলিম বলেন, “আমরা খবর পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে লাশ উদ্ধার করেছি এবং সুরতহাল রিপোর্ট প্রস্তুত করে থানা হেফাজতে নিয়েছি। এই ঘটনার ব্যাপারে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।”
স্থানীয়দের মতে, ঘটনাটি পুরোপুরি পারিবারিক কলহ থেকে সংঘটিত হয়েছে। নিহত টুকু মোল্লা একজন পরিচিত কারিগর ছিলেন এবং এলাকার মানুষ তাকে সম্মান করতেন। স্থানীয়রা আরও জানান, পারিবারিক বিবাদগুলো প্রায়ই ছোটখাটো তর্কে রূপ নিত, কিন্তু এ ধরনের হত্যার ঘটনা সবাইকে শোকের ছায়ায় ফেলেছে। স্থানীয়দের মধ্যে অনেকেই বলছেন, পারিবারিক কলহ ও মানসিক চাপই এমন অঘটনের মূল কারণ হতে পারে। তারা আশা করছেন, আইন প্রয়োগকারী সংস্থা দ্রুত তদন্ত শেষ করে দোষীদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেবে।
ভাঙ্গা উপজেলার বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনও এই হত্যার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। তারা বলেন, পারিবারিক বিবাদ কখনোই প্রাণহানির কারণ হতে পারে না। এই ধরনের ঘটনা বন্ধে সচেতনতা বাড়ানো জরুরি। স্থানীয়রা মনে করছেন, নিহতের পরিবারের জন্য এটি এক গভীর শোকের সময়। নিহতের স্ত্রী, সন্তান ও পরিবারের অন্য সদস্যরা মানসিকভাবে অস্থির। এমন দুর্ঘটনা সামলাতে পরিবারকে সম্প্রদায়ের সমর্থন প্রয়োজন। ভাঙ্গা থানা পুলিশ ইতিমধ্যে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং নিহতের পরিবারের বক্তব্য নিয়েছে। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, হত্যার ঘটনায় মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে এবং শীঘ্রই অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা করা হবে।
নিহতের চাচাতো ভাই শাহীন মোল্লা বলেন, “আমরা চাই দোষীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা হোক। কেউই আইনের বাইরে থাকা উচিত নয়। আমাদের পরিবারকে শান্তি ফিরে পেতে হবে।” স্থানীয়রা আরও আশা করছেন, সমাজে পারিবারিক ঝগড়ার কারণে ঘটে যাওয়া হঠাৎ ঘটনা প্রতিরোধের জন্য সচেতনতা বৃদ্ধি করা হবে। পরিবার ও স্থানীয় প্রশাসন একত্রিত হয়ে এ ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে পদক্ষেপ নেবে।
আকাশজমিন / আরআর