দৈনিক প্রথম আলো ও দ্য ডেইলি স্টার কার্যালয়ে সহিংসতা, ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় জড়িত অভিযোগে এখন পর্যন্ত ১৭ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ঘটনায় জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। সোমবার (২২ ডিসেম্বর) দুপুরে রাজধানীর মিন্টো রোডে ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) এস এন নজরুল ইসলাম।
তিনি বলেন, ঘটনাস্থলের বিভিন্ন ভিডিও ফুটেজ বিশ্লেষণ করে অন্তত ৩১ জনকে শনাক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে এখন পর্যন্ত ১৭ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারদের মধ্যে থানা-পুলিশ ১৩ জন, কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিট (সিটিটিসি) ৩ জন এবং গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি) ১ জনকে গ্রেপ্তার করেছে।
থানা-পুলিশের গ্রেপ্তার ১৩ জনের মধ্যে ১১ জনের নাম প্রকাশ করা হয়। তারা হলেন মোহাম্মদ নাইম, মোহাম্মদ আকাশ, আহমেদ সাগর, মো. আবদুল আহাদ, মো. নজরুল ইসলাম (মিনহাজ), মো. জাহাঙ্গীর, মোহাম্মদ সোহেল রানা, মো. আবদুল বারেক শেখ (আল আমিন), রাশেদুল ইসলাম, সোহেল রানা ও শফিকুল ইসলাম।
এছাড়া সিটিটিসি গ্রেপ্তার করেছে মো. প্রান্ত শিকদার (ফয়সাল), আহম্মেদ প্রান্ত ও আবুল কাসেম রাজু হোসাইনকে। আর ডিবি গ্রেপ্তার করেছে মো. সাইদুর রহমানকে। সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, গ্রেপ্তার মোহাম্মদ নাইমের কাছ থেকে লুট করা নগদ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে। ওই টাকা দিয়ে তিনি একটি টিভি ও একটি টাচ ফ্রিজ কিনেছিলেন। এসব মালামাল জব্দ করা হয়েছে।
ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার এস এন নজরুল ইসলাম বলেন, ‘এই ঘটনায় যারা সরাসরি অংশ নিয়েছে, তাদের অনেকেই ভিডিও ফুটেজে স্পষ্টভাবে ধরা পড়েছে। অভিযান চলমান রয়েছে এবং আরও গ্রেপ্তার হবে।’ তিনি বলেন, প্রতিবাদ বা ক্ষোভ প্রকাশ করা এক বিষয়, কিন্তু তার আড়ালে অফিসে ঢুকে ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাট করা সম্পূর্ণ ভিন্ন এবং অনাকাঙ্ক্ষিত। এসব কর্মকাণ্ড স্পষ্টতই ‘ব্যাড ইনটেনশন’ থেকে সংঘটিত হয়েছে। জড়িত সবাইকে আইনের আওতায় আনা হবে।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের রাজনৈতিক পরিচয় নিয়ে এক সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে নজরুল ইসলাম বলেন, পুলিশ কোনো রাজনৈতিক পরিচয় খুঁজছে না। হামলায় জড়িতরা দুষ্কৃতকারী। তারা আইন ভেঙেছে এবং আইন নিজের হাতে তুলে নিয়েছে। তাই তারা যে দলেরই হোক বা যে মতাদর্শেরই হোক, দেশের প্রচলিত আইন ও বিচারব্যবস্থার আওতায় বিচার হবে।
তিনি আরও বলেন, ফৌজদারি কার্যবিধির ৪৪ ধারা অনুযায়ী নির্দিষ্ট কিছু অপরাধে অপরাধী ধরতে জনগণের সহায়তা করার অধিকার রয়েছে। এ কারণে শুধু এই ঘটনাতেই নয়, অন্যান্য মামলার ক্ষেত্রেও এলাকাবাসীকে তথ্য দেওয়ার আহ্বান জানানো হচ্ছে।
হামলার সময় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্নের জবাবে নজরুল ইসলাম বলেন, তখন ঘটনাস্থলে চার থেকে পাঁচ হাজার মানুষের উপস্থিতি ছিল। তুলনামূলক কম জনবল নিয়ে কঠোর অভিযান চালালে পুলিশ ও সাধারণ মানুষের প্রাণহানির ঝুঁকি তৈরি হতো। পরিস্থিতি বিবেচনায় সর্বোচ্চ সংযম দেখানো হয়েছে। কোনো মানবজীবনের ক্ষতি না হওয়াকে পুলিশ একটি বড় অর্জন হিসেবে দেখছে।
সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, ১৮ ডিসেম্বর রাত সাড়ে ৯টার দিকে ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান হাদির মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর শাহবাগ এলাকায় লোকজন জড়ো হয়। পরে তারা কারওয়ান বাজারের দিকে গিয়ে রাত সোয়া ১১টা থেকে দিবাগত রাত ২টা–আড়াইটা পর্যন্ত কয়েক হাজার মানুষের উপস্থিতিতে প্রথম আলো ও দ্য ডেইলি স্টার কার্যালয়ে হামলা চালায়। ডিএমপি জানায়, প্রথম আলো ইতোমধ্যে মামলা করেছে এবং দ্য ডেইলি স্টারের মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণের কাজ চলমান।
আকাশজমিন / আরআর