রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়ায় এসি আই সীডের গ্রীষ্মকালীন পলিক্রস পেঁয়াজ ‘বিক্রম’ সম্পর্কে মাঠ পর্যায়ে কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করতে মাঠ দিবস অনুষ্ঠিত হয়েছে। “এসি আই বীজ ভালো বীজ”—এই স্লোগানকে সামনে রেখে এসি আই সীড কোম্পানি লিমিটেডের উদ্যোগে এই আয়োজন করা হয়।
মঙ্গলবার (২৩ ডিসেম্বর) বিকেল সাড়ে ৪টায় দৌলতদিয়ার ১২ নম্বর চর এলাকার দৌলতদিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় চত্বরে ঘণ্টাব্যাপী এ মাঠ দিবস অনুষ্ঠিত হয়। মাঠ দিবসে স্থানীয় কৃষকদের অংশগ্রহণে বিক্রম পেঁয়াজের উৎপাদন সম্ভাবনা, চাষ পদ্ধতি ও লাভজনক দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এসি আই সীড কোম্পানির প্রোডাক্ট ম্যানেজার কৃষিবিদ খাইরুল ইসলাম। তিনি বলেন, উন্নত জাতের বীজ ব্যবহার করলে স্বল্প সময়ে অধিক ফলন পাওয়া সম্ভব। বিক্রম পেঁয়াজ একটি উচ্চ ফলনশীল গ্রীষ্মকালীন পলিক্রস জাত, যা কৃষকদের জন্য লাভজনক সম্ভাবনা তৈরি করছে।
স্থানীয় কৃষক মো. ইউনুসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মাঠ দিবসে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এসি আই সীড কোম্পানির গোয়ালন্দ উপজেলার পরিবেশক ও আদদ্বীন কৃষি ভান্ডারের স্বত্বাধিকারী হুমায়ন আহমেদ। তিনি বলেন, আধুনিক ও মানসম্মত বীজ ব্যবহারের মাধ্যমে কৃষকরা উৎপাদন খরচ কমিয়ে লাভবান হতে পারেন।
এ সময় স্থানীয় বিক্রম পেঁয়াজ চাষী মো. জুয়েল, মো. আবু হানিফসহ বিভিন্ন এলাকার কৃষকরা উপস্থিত ছিলেন। তাঁরা মাঠ পর্যায়ে বিক্রম পেঁয়াজের ফলন, গাছের বৃদ্ধি ও রোগবালাই প্রতিরোধ ক্ষমতা দেখে সন্তোষ প্রকাশ করেন।
মাঠ দিবসের সঞ্চালনা করেন এসি আই সীড কোম্পানির মার্কেটিং অফিসার মো. ওমর ফরহাদ। তিনি কৃষকদের উদ্দেশ্যে বিক্রম পেঁয়াজ চাষের বিভিন্ন কারিগরি দিক তুলে ধরেন।
আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, পলিক্রস পেঁয়াজ ‘বিক্রম’-এর বীজ বপনের উপযুক্ত সময় জুলাই মাসের মাঝামাঝি থেকে সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত। বীজ বপনের ৫ থেকে ৬ সপ্তাহ পর বা ৪০ থেকে ৪৫ দিনের মধ্যে মূল জমিতে চারা রোপণ করতে হয়। সঠিক পরিচর্যা ও ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে প্রতি হেক্টরে ৩৪ থেকে ৩৮ মেট্রিক টন পর্যন্ত পেঁয়াজ উৎপাদন সম্ভব।
বিক্রম পেঁয়াজের ফলন তুলনামূলক বেশি হওয়ায় এবং বাজারমূল্য ভালো পাওয়ায় কৃষকরা আর্থিকভাবে বেশি লাভবান হন বলে জানান সংশ্লিষ্টরা। মাঠ দিবসের মাধ্যমে কৃষকদের মধ্যে এই জাতের পেঁয়াজ চাষে আগ্রহ আরও বাড়বে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন আয়োজকরা।