দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে যশোরে ৮.৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। শনিবার (২৭ ডিসেম্বর) সকালে ৬টায় আবহাওয়া অফিস এই তাপমাত্রা নথিভুক্ত করেছে। গতকাল একই সময়ে যশোরে তাপমাত্রা ছিল ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস। টানা দুই দিন দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা বিরাজ করায় জনজীবনে কিছুটা বিপর্যয় দেখা দিয়েছে।
দিনের মধ্যভাগে কিছু সময়ের জন্য সূর্যের দেখা মিললেও ঘন কুয়াশা ও শৈত্যপ্রবাহের কারণে বাইরে কাজ করা কঠিন হয়ে পড়েছে। দিনমজুররা কাজে যেতে পারছেন না এবং কৃষকেরাও মাঠে দেরিতে পৌঁছাচ্ছেন। শীতের তীব্রতা বাড়ায় হাসপাতালগুলোতেও ঠাণ্ডাজনিত রোগীসংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। জ্বর, হাঁচি, কাশি ও ডায়রিয়ার কারণে হাসপাতালে আসছেন অনেকে, বিশেষ করে শিশু ও বয়স্করা।
আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, আগামী ২৪ ঘণ্টায় রাতের তাপমাত্রা সামান্য বৃদ্ধি পেতে পারে। দিনের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকবে। ঘন কুয়াশা ও শৈত্যপ্রবাহের কারণে দেশের অনেক অঞ্চলে ঠান্ডা অনুভূতি অব্যাহত থাকবে।
আবহাওয়া বিশেষজ্ঞরা মনে করিয়ে দিয়েছেন, তাপমাত্রা কম থাকায় সকাল-বিকেল সময় গরম কাপড় পরা জরুরি। দীর্ঘ সময় বাইরে থাকলে শীতজনিত অসুস্থতার ঝুঁকি বৃদ্ধি পেতে পারে। এছাড়া রাতের দিকে সড়কে ঘন কুয়াশা এবং বরফের উপস্থিতি চালকদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।
শৈত্যপ্রবাহের কারণে দেশের বিভিন্ন জায়গায় বিদ্যুৎ সরবরাহেও প্রভাব পড়েছে। কৃষি ক্ষেত্রেও তাপমাত্রা কম থাকায় শাকসবজি ও ফলের উৎপাদন প্রভাবিত হতে পারে। স্থানীয় প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগ সঠিক প্রস্তুতি নিয়েছে যাতে শীতজনিত সমস্যা কমানো যায়।
শীতকালীন এ সময়ে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করতে মানুষকে পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। শিশু ও বয়স্কদের বিশেষ যত্ন নেওয়া জরুরি। হাসপাতালগুলোতে শীতজনিত রোগীদের জন্য অতিরিক্ত সেবা ও ওষুধের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
তাপমাত্রা বিশ্লেষণে দেখা গেছে, দেশের অন্যান্য অঞ্চলেও শৈত্যপ্রবাহের কারণে রাতের তাপমাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে কমতে পারে। আবহাওয়া অফিসের পূর্বাভাস অনুযায়ী, দিনভর হালকা কুয়াশা থাকতে পারে এবং সড়কে ধীরগতিতে গাড়ি চলাচল করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
শীতকালীন পরিস্থিতির কারণে স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং জনজীবন প্রভাবিত হচ্ছে। আবহাওয়া বিশেষজ্ঞরা সবাইকে সতর্ক থাকার জন্য এবং প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়ার জন্য অনুরোধ করেছেন।