ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  সোমবার, ২৭ Jul ২০২৬,  ১১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
রপ্তানি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য ১৫ শতাংশ, আয় হতে পারে ৬৩.৪ বিলিয়ন ডলার রাজধানীতে ১৮ মন্ত্রী চলবেন এসকর্ট ছাড়া, বহাল থাকছে ৭ জনের সুবিধা সাতক্ষীরায় অপরিকল্পিত মৎস্য ঘের: পানিবন্দী হাজারও মানুষ, সড়ক-শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্লাবিত সাতক্ষীরার তিন হাসপাতালে হঠাৎ স্বাস্থ্যমন্ত্রী, অনুপস্থিত দুই চিকিৎসকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টেস্ট দল ঘোষণা, নেই নাহিদ-লিটন সেনা কর্মকর্তাদের পদোন্নতি হোক মেধা ও যোগ্যতায়: প্রধানমন্ত্রী হামের উপসর্গে আরও ৪ শিশুর মৃত্যু, আক্রান্ত ১১৬০ জামায়াত জোট ছাড়ার গুঞ্জন নাকচ করল নেজামে ইসলাম চলনবিলে অবাধে ব্যবহার হচ্ছে নিষিদ্ধ চায়নাদুয়ারী জাল লক্ষ্মীপুরে উৎসবমুখর পরিবেশে ধারণ হলো ‘ইত্যাদি’র বিশেষ পর্ব

গত ১৫ বছরে দেশে প্রকৃত অর্থে কোনো নির্বাচন হয়নি: পররাষ্ট্র উপদেষ্টা


  • আপলোড সময় : শনিবার ২৭ ডিসেম্বর, ২০২৫ সময় : ৫:২৩ পিএম

পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন বলেছেন, গত ১৫ বছরে দেশে প্রকৃত অর্থে কোনো নির্বাচন হয়নি। তিনি জানান, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে এবং এ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সব রাজনৈতিক দল প্রস্তুতি নিচ্ছে। সরকার আশা করছে, একটি শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে নির্বাচন সম্পন্ন হবে।

শনিবার (২৭ ডিসেম্বর) বেলা পৌনে ১২টার দিকে ভোলা শহরের সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠে ‘ভোটের গাড়ি’র উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা। তিনি বলেন, এই নির্বাচনের বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। প্রকৃত অর্থে সর্বশেষ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল ২০০৮ সালে। এর অর্থ হলো, বর্তমানে দেশের বিপুল সংখ্যক জনগণ—বিশেষ করে যাদের বয়স ৩০ বছরের নিচে—তারা কখনো নির্বাচনে ভোট দেওয়ার সুযোগ পাননি।

মো. তৌহিদ হোসেন বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের মূল লক্ষ্য হলো প্রতিটি মানুষ যেন নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের দেখতে পায়। সরকার চায়, মানুষ যেন নিজের ইচ্ছামতো ভোট দিতে পারে। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, এই সরকার কোনো রাজনৈতিক দলের পক্ষে নয়। আগামী পরশুদিন মনোনয়ন সংগ্রহের শেষ দিন। এরপরই জানা যাবে কারা কারা মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন। সরকারের লক্ষ্য হলো, ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে জনগণ যেন স্বাধীনভাবে ভোট দিয়ে নিজেদের পছন্দের প্রার্থীকে নির্বাচিত করতে পারে।

পররাষ্ট্র উপদেষ্টা আরও বলেন, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে একটি বিশেষ পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে দেশে পরিবর্তন এসেছে। সেই পরিবর্তনের পেছনে কিছু বিশেষ দাবি ছিল এবং সেই দাবিগুলোর জন্য দেশের ছেলে-মেয়েরা জীবন দিয়েছে। তাদের আত্মত্যাগের প্রতি সম্মান জানিয়ে একটি পরিবর্তনের তালিকা তৈরি করা হয়েছে। শতভাগ প্রতিফলন সম্ভব হয়নি, তবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো এতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

তিনি বলেন, এই তালিকাটি প্রথমবারের মতো জনগণের সামনে উপস্থাপন করা হবে, যাতে জনগণ মতামত জানাতে পারে—তারা এসব পরিবর্তন চান কি না। এ লক্ষ্যে আলাদাভাবে গণভোট অনুষ্ঠিত হবে। তালিকার বিষয়গুলোর মধ্যে যদি জনগণ ৮০ থেকে ৯০ শতাংশ বিষয়ে একমত হয়, তাহলে তারা ‘হ্যাঁ’ ভোট দিতে পারবেন। আর একমত না হলে ‘না’ ভোট দেওয়ার সুযোগও থাকবে।

মো. তৌহিদ হোসেন বলেন, সামনে জনগণের দুটি বড় দায়িত্ব রয়েছে—কী ধরনের পরিবর্তন তারা চান বা চান না, সে বিষয়ে মতামত দেওয়া। জনগণ যদি পরিবর্তনের পক্ষে রায় দেয়, তাহলে তা বাস্তবায়নের দায়িত্ব থাকবে পরবর্তী বাংলাদেশের ওপর। কারণ, নির্বাচনের মাধ্যমে যারা জনপ্রতিনিধি হয়ে আসবেন, তারা জনগণের মতামতকে গুরুত্ব দিতে বাধ্য থাকবেন।

তিনি আরও বলেন, দেশ যে একসময় স্বাভাবিক পথ থেকে সরে গিয়েছিল, সেটিকে আবার যথাযথ জায়গায় ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চলছে। এমন একটি পরিবেশ তৈরি করা হয়েছে, যাতে কেউ জনগণের অধিকার হরণ করতে না পারে। এসব বিষয়ে কাজ করার দায়িত্ব থাকবে পরবর্তী সংসদের ওপর। জনগণের মতামত উপেক্ষা করা নির্বাচিত প্রতিনিধিদের পক্ষে সম্ভব হবে না, কারণ তাদের আবার ভোটের জন্য জনগণের কাছেই যেতে হবে।

পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, ‘ভোটের গাড়ি’র মূল উদ্দেশ্য হলো জনগণকে ভোট প্রদানে উৎসাহিত করা। সরকার চায়, একটি উৎসবমুখর পরিবেশে সবাই ভোটকেন্দ্রে এসে শান্তিপূর্ণভাবে ভোট প্রদান করুক।

অনুষ্ঠানে ভোলার জেলা প্রশাসক ডা. শামীম রহমানের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন ভোলার পুলিশ সুপার শহিদুল্লাহ কাওছার। এ সময় স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

প্রসঙ্গত, ‘ভোটের গাড়ি’টি পর্যায়ক্রমে আগামী দুই দিন ভোলার বিভিন্ন উপজেলায় প্রচারণা চালাবে।


এ সম্পর্কিত আরো খবর