বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমানের উপস্থিতিতে আলহাজ মো. রফিকুল ইসলাম সংগঠনের প্রাথমিক সহযোগী সদস্য ফরম পূরণ করে আনুষ্ঠানিকভাবে জামায়াতে ইসলামীতে যোগ দেন। সাক্ষাৎকালে তিনি জামায়াতে ইসলামী নীতি ও আদর্শ, দেশপ্রেম, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় দলের অবিচল অবস্থানের প্রতি গভীর আস্থা ও সন্তোষ প্রকাশ করেন।
তিনি ইসলাম ও ইসলামী মূল্যবোধের প্রতি তার অঙ্গীকার ব্যক্ত করে দেশের স্বার্থ এবং স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষায় অবশিষ্ট জীবন উৎসর্গ করার দৃঢ় প্রত্যয় জানান। পাশাপাশি দলের নিয়ম-নীতি, আদর্শ, শৃঙ্খলা ও নেতৃত্বের প্রতি আনুগত্য বজায় রাখার প্রতিশ্রুতি দেন।
জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান তাঁকে আন্তরিকভাবে স্বাগত জানান এবং দীর্ঘায়ু ও সুস্বাস্থ্য কামনা করেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কিশোরগঞ্জ জেলা জামায়াতের আমীর অধ্যাপক মো. রমজান আলী, ভৈরব উপজেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা কবির হোসেন, ভৈরব পৌরসভা জামায়াতের আমীর শাহজাহান সরকারসহ অন্যান্য দলীয় নেতৃবৃন্দ।
আলহাজ মো. রফিকুল ইসলাম বীর মুক্তিযোদ্ধা হওয়ার পাশাপাশি একজন প্রজ্ঞাবান শিক্ষানুরাগী, সমাজসংস্কারক ও উন্নয়নকর্মী হিসেবে সুপরিচিত। ষাটের দশকে ছাত্র আন্দোলনের সক্রিয় কর্মী হিসেবে তার রাজনৈতিক যাত্রা শুরু হয়। তিনি হাজী আসমত কলেজ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নের সময় ছাত্রনেতা হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন এবং ডাকসুর নির্বাচিত নাট্য ও প্রমোদ সম্পাদক ছিলেন।
১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে তিনি কুলিয়ারচর–ভৈরব–কিশোরগঞ্জ এলাকায় সরাসরি সশস্ত্র অপারেশনে অংশগ্রহণ করেন। স্বাধীনতার পর শিক্ষা ও সমাজকল্যাণমূলক কাজে নিজেকে নিয়োজিত রাখেন। ফাতেমা রমজান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, শহীদ আরবুর রহমান কিন্ডারগার্টেন, মুর্শিদ–মুজিব উচ্চ বিদ্যালয়, জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত রফিকুল ইসলাম মহিলা কলেজ ও হালিমা সাদিয়া মহিলা মাদ্রাসাসহ বহু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠা ও উন্নয়নে তার অবদান বিশেষভাবে স্মরণীয়।
স্থানীয়ভাবে তিনি ভৈরব অঞ্চলের শিক্ষা ও সমাজ উন্নয়নের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে বিবেচিত। তার এই রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত বিভিন্ন মহলে ব্যাপক আগ্রহ ও আলোচনার সৃষ্টি করেছে।